হাইলাইটস
- অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতল স্পেন।
- নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে বহিষ্কৃত হন এনজো ফার্নান্দেজ; ম্যাচ শেষে লিয়ান্দ্রো পারেদেসও লাল কার্ড দেখেন।
- পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দর্শকদের একাংশের দুয়োর মুখে পড়তে হয়।
- কান্নায় ভেঙে পড়েন লিওনেল মেসি; রানার্স-আপ পদক নেওয়ার সময় তাঁকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় গোটা স্টেডিয়াম।
- ২০টি শট নিয়ে ম্যাচে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন; আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে মাত্র দুটি শট নিতে সক্ষম হয়।
অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলেই অবশেষে ভাঙল ১০ জনের আর্জেন্টিনার প্রতিরোধ। নিষ্প্রভ ও বিচ্ছিন্ন ছন্দের ফাইনালের নাটকীয় পরিণতিতে ১-০ ব্যবধানে জিতে পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ দ্বিতীয়বারের জন্য নিজেদের দখলে নিল স্পেন।
১০৬ মিনিটে বার্সেলোনার উইঙ্গার তোরেসের গোলেই নির্ধারিত হয় ম্যাচের ভাগ্য। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার হতাশা রূপ নেয় উত্তেজনায়। লিয়ান্দ্রো পারেদেস গাভি ও এরিক গার্সিয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ায় দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে ব্যাপক বচসা শুরু হয়। এর জেরে বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডারও লাল কার্ড দেখেন। এর আগে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন চেলসির মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে মঞ্চে ওঠেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁকে দেখেই স্টেডিয়ামের দর্শকদের একাংশ দুয়ো দিতে শুরু করে। স্পেন অধিনায়ক রদ্রির হাতে বিশ্বকাপ তুলে দেওয়ার পরও ট্রাম্প কিছুক্ষণ উদ্যাপনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকেন, যা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।
এবারের বিশ্বকাপে ফিফার নতুন কৌশলেরও ইঙ্গিত মিলেছে পুরস্কার বিতরণে। টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় হিসেবে রদ্রির হাতে ট্রফি তুলে দেন সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের গভর্নর এবং নিউক্যাসল ইউনাইটেডের চেয়ারম্যান ইয়াসির আল-রুমাইয়ান।
অন্যদিকে, নিজের শেষ বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হয়েই বিদায় নিতে হল লিওনেল মেসিকে। চোখের জলে ভেঙে পড়া মেসি যখন রানার্স-আপ পদক নিতে এগিয়ে যান, তখন পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানায়। তবে স্পেনের ফুটবলাররা পদক নিতে এলে আর্জেন্টিনা দল নিজেদের সমর্থকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়ায়। অনেকের মতে, এই আচরণই ম্যাচজুড়ে তাদের মানসিকতার প্রতিফলন।
ইউরো ২০২৪ জয়ের পর এবার বিশ্বকাপও জিতে নিল স্পেন। ২০১০ সালের পর এটাই দ্বিতীয়বার, যখন একই সঙ্গে ইউরোপ ও বিশ্বের চ্যাম্পিয়ন হল স্পেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বক্স থেকেই ম্যাচটি দেখেন স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম, ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো এবং ট্রাম্প পরিবারের সদস্যরাও।
মাঠের লড়াই যতটা একপেশে ছিল, পরিসংখ্যানও ততটাই স্পষ্ট। স্পেন পুরো ম্যাচে ২০টি শট নেয়, বিপরীতে আর্জেন্টিনা নিতে পারে মাত্র দুটি। অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টায় তাদের দুটি শটই আসে।
আর্জেন্টিনাকে এতক্ষণ ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। একের পর এক দুর্দান্ত সেভে স্পেনকে হতাশ করেন তিনি। কিন্তু ১০৬ মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস নিকো উইলিয়ামস অসাধারণভাবে মাঠের ভেতরে ফিরিয়ে দেন। সেই বলেই তোরেস জোরালো শটে মার্তিনেসকে পরাস্ত করে স্পেনকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন।
মেসির দল পুরো ম্যাচে কার্যত আক্রমণেই উঠতে পারেনি। তাদের প্রথম উল্লেখযোগ্য শট আসে ১১৫ মিনিটে, যখন মেসির শট মিকেল মেরিনোর গায়ে লেগে প্রতিহত হয়।
বিশ্বকাপের ফাইনালের বাইরের আয়োজনও ছিল নজরকাড়া। ম্যাচ শুরুর আগে দীর্ঘ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কারণে নির্ধারিত সময়ের ছয় মিনিট পরে খেলা শুরু হয়। মার্কিন গায়িকা জেনিফার হাডসন জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন, পরে রবি উইলিয়ামস গেয়ে শোনান ফিফার আনুষ্ঠানিক গান ডিজায়ার। অভিনেতা টম ক্রুজও মঞ্চে উঠে ফুটবলকে “মানুষকে একত্রিত করার শক্তি” বলে অভিহিত করেন।
বিশ্বকাপ ট্রফি মাঠে নিয়ে আসেন স্পেনের আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও আর্জেন্টিনার মারিও কেম্পেস। বিলাসবহুল লুই ভিতোঁর বিশেষ ট্রাঙ্কে করে ট্রফি আনা হয়, যা ফিফার বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের অন্যতম আকর্ষণ ছিল।
সবচেয়ে বিতর্কের জন্ম দেয় বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম হাফটাইম শো। ম্যাডোনা, জাস্টিন বিবার, টেড লাসো ধারাবাহিকের অভিনেতাসহ একাধিক তারকার পরিবেশনায় বিরতি গড়ায় ২৭ মিনিট ২০ সেকেন্ডে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম ফাইনালের মাঝবিরতিতে এমন বিশাল সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল। সমালোচকদের মতে, এই দীর্ঘ বিরতি আর্জেন্টিনার সময় নষ্ট ও ছন্দ ভাঙার কৌশলকেই আরও সুবিধা করে দেয়।