হাইলাইটস:
- ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে মাঠে নামতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দুয়ো দেয় দর্শকদের একাংশ।
- স্পেনকে ট্রফি তুলে দেওয়ার পর দলের সঙ্গে উদ্যাপনে দাঁড়িয়ে পড়তে গেলে ইনফান্তিনো তাঁকে সরে যেতে ইঙ্গিত করেন।
- গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপেও চেলসির ট্রফি উদ্যাপনে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল।
- ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবার মার্কিন মাটিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিত থাকলেন কোনও ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
- যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ট্রাম্পের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বাংলাস্ফিয়ার: বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠে স্পেনের ঐতিহাসিক জয়ের পাশাপাশি আরেকটি ঘটনাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল। ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে মাঠে নামতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দর্শকদের একাংশের প্রবল দুয়ো ধ্বনির মুখে পড়তে হয়। এরপর স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিজয়োৎসবে অংশ নেওয়ার ট্রাম্পের চেষ্টা নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
ফাইনাল শুরুর প্রায় ৪৫ মিনিট আগে প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’ স্টেডিয়ামের ওপর দিয়ে উড়ে আসে। ট্রাম্প বিলাসবহুল কাচঘেরা ভিআইপি বক্সে বসে ম্যাচ দেখেন। তাঁর পাশে ছিলেন ইনফান্তিনো। একই অংশে উপস্থিত ছিলেন স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমসহ একাধিক বিশিষ্ট অতিথি ও প্রাক্তন ফুটবলার।
ম্যাচ শুরুর আগে মার্কিন জাতীয় সঙ্গীতের সময় স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ট্রাম্পকে দেখানো হলে ছিটেফোঁটা দুয়ো শোনা যায়। তবে ম্যাচ শেষে ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনো মাঠে প্রবেশ করতেই সেই প্রতিক্রিয়া অনেক জোরালো হয়ে ওঠে। হোয়াইট হাউসের সংবাদদাতাদের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মাঠে প্রবেশের সময় স্টেডিয়ামের শব্দমাত্রা প্রায় ৭৮ ডেসিবেল থেকে বেড়ে ৮৪ ডেসিবেলে পৌঁছে যায়।
স্পেনের অধিনায়ক রদ্রিকে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেওয়ার পর ট্রাম্প বিজয়ী দলের পাশে দাঁড়িয়ে উদ্যাপনে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ইনফান্তিনো তাঁকে নীরবে সরে যেতে ইঙ্গিত করেন। ফলে ট্রাম্পকে মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়।
এই দৃশ্য অনেকের কাছেই গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি বলে মনে হয়েছে। সেবারও একই স্টেডিয়ামে চেলসিকে ট্রফি দেওয়ার পর খেলোয়াড়দের সঙ্গে উদ্যাপনে অংশ নিতে গিয়ে ট্রাম্প বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন।
পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প নিয়মিত বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতিতে উপস্থিত হচ্ছেন। তিনি সুপার বোল, ইউএস ওপেন টেনিস, ডেটোনা ৫০০, রাইডার কাপ, একাধিক গল্ফ প্রতিযোগিতা, কলেজ ফুটবলের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ এবং এনবিএ ফাইনালের তৃতীয় ম্যাচেও উপস্থিত ছিলেন। নিউ ইয়র্ক নিক্সের মাঠে সেই ম্যাচেও তাঁকে দর্শকদের দুয়ো শুনতে হয়েছিল।
এবারের বিশ্বকাপে এটি ছিল ট্রাম্পের প্রথম উপস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজিত এই আসরের ফাইনালে উপস্থিত হয়ে তিনি ইতিহাসও গড়েন। মার্কিন মাটিতে অনুষ্ঠিত কোনও বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিত থাকা প্রথম ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তিনি। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন উপস্থিত ছিলেন না; তাঁর পরিবর্তে ট্রফি প্রদান করেছিলেন উপরাষ্ট্রপতি আল গোর।
ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা রয়েছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের বিতর্কিত লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বেলজিয়ামের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।