তিন পয়েন্টের আক্ষেপ, ১৮ ঘণ্টায় তিন ম্যাচ: বিদায়ের পরে সূচি নিয়ে সরব সিন্ধু

যা জানা জরুরি
- সেই দূরত্বটুকু পেরোতে না পারার যন্ত্রণা নিয়েই এশিয়ান গেমস থেকে বিদায় নিলেন পিভি সিন্ধু।
- রবিবার চিনের চেন ইউফেইয়ের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম গেম জিতেও ম্যাচ হারার পরে ভারতের তারকা শাটলার প্রশ্ন তুললেন প্রতিযোগিতার ঠাসা সূচি নিয়ে।
- তাঁর বক্তব্য, মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলার ধকল শরীরে প্রভাব ফেলেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আর তিনটি পয়েন্ট। সেই দূরত্বটুকু পেরোতে না পারার যন্ত্রণা নিয়েই এশিয়ান গেমস থেকে বিদায় নিলেন পিভি সিন্ধু। রবিবার চিনের চেন ইউফেইয়ের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম গেম জিতেও ম্যাচ হারার পরে ভারতের তারকা শাটলার প্রশ্ন তুললেন প্রতিযোগিতার ঠাসা সূচি নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলার ধকল শরীরে প্রভাব ফেলেছে।
মহিলাদের সিঙ্গলসের শেষ আটের লড়াইয়ে সিন্ধু হেরেছেন ২১–১১, ১৮–২১, ১০–২১ ব্যবধানে। প্রথম গেমের ফল যতটা স্বস্তি দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত হতাশাও ততটাই গভীর হয়েছে। দ্বিতীয় গেমে ১৮ পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছেও জয় নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। ম্যাচ গড়ায় তৃতীয় গেমে। সেখানে আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাননি ভারতীয় খেলোয়াড়। ফলে আরও একটি এশিয়াড পদকের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় কোয়ার্টার ফাইনালেই।
হারের পরে সমাজমাধ্যম এক্সে নিজের মনের অবস্থা তুলে ধরেন সিন্ধু। লেখেন, কথাগুলি গুছিয়ে বলতে তাঁর কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়েছিল। তাঁর এশিয়ান গেমস অভিযান শেষ, এবং তিনি কষ্ট পাচ্ছেন। বারবার ফিরে আসছে সেই তিনটি পয়েন্টের কথা। তাঁর কথায়, ‘সুযোগ আমার ছিল। সেটা হাতছাড়া হওয়ার কষ্ট হচ্ছে।’ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দীর্ঘ, কঠিন র্যালি ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে বলেও জানান তিনি। চিনে খেলার অভিজ্ঞতার সঙ্গে সেই পরিস্থিতির তুলনা টেনেছেন সিন্ধু। আক্ষেপের কেন্দ্রে তাই শুধু পরাজয় নেই, রয়েছে হাতের কাছে এসেও অধরা থেকে যাওয়া জয়।
সিন্ধুর অভিযোগের অন্য দিকটি বিশ্রামের অভাব। তিনি জানিয়েছেন, ১৮ ঘণ্টায় তিনটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে। রাত তিনটেয় ফিরে সকাল সাড়ে আটটায় আবার বেরোতে হয়েছে তাঁকে। সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার তাঁর দ্বিতীয় ম্যাচ শেষ হয় রাত প্রায় একটায়। তার পরে হোটেলে ফেরা, খাওয়া এবং শরীরকে পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করার পালা। এমন পরিস্থিতিতে পরের দিনের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে বিশ্রামের সময় যে অত্যন্ত সীমিত ছিল, সেটাই সামনে এনেছেন তিনি।
এই অভিযোগের পাশাপাশি নিজের খেলার অসম্পূর্ণতার কথাও স্বীকার করেছেন সিন্ধু। প্রস্তুতি শিবির তাঁকে ভাল ফলের বিশ্বাস দিয়েছিল। তাই প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি। সুযোগ তৈরি করার পরেও শেষ মুহূর্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারা নিয়ে নিজের দলের সঙ্গে কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, সূচির ধকল এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জয় নিশ্চিত করার সমস্যা—দু’টি বিষয়ই উঠে এসেছে তাঁর পর্যালোচনায়।
এশিয়ান গেমসের সঙ্গে সিন্ধুর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০১৪ সালে ইনচিয়নে ব্রোঞ্জজয়ী ভারতীয় মহিলা দলের সদস্য ছিলেন তিনি। সেই পদকটি ছিল দলগত বিভাগের। চার বছর পরে, ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়াডে মহিলাদের সিঙ্গলসে রুপো জেতেন। এবারের কোয়ার্টার ফাইনাল তাই তাঁর কাছে শুধুমাত্র আরও একটি ম্যাচ ছিল না; পুরনো পদকতালিকায় নতুন সাফল্য যোগ করার সুযোগও ছিল। প্রথম গেম জেতার পরে সেই সম্ভাবনাই আরও উজ্জ্বল হয়েছিল।
তবে হতাশার মধ্যেও নিজের দীর্ঘ যাত্রাকে একটি ফলাফল দিয়ে বিচার করতে রাজি নন সিন্ধু। প্রথম এশিয়াড থেকে চতুর্থবারের অংশগ্রহণ পর্যন্ত ভারতের হয়ে বারো বছর সর্বস্ব দিয়ে খেলার মধ্যে গর্ব খুঁজে পাচ্ছেন তিনি। জানিয়েছেন, এখনও জয়ের আকাঙ্ক্ষা অটুট। যাঁরা রাত জেগে তাঁর খেলা দেখেছেন, সমর্থন করেছেন এবং বিশ্বাস রেখেছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ভারতীয় তারকা।
সিন্ধুর বক্তব্যে তাই একই সঙ্গে রয়েছে ক্ষোভ, আত্মসমালোচনা এবং ফেরার প্রতিশ্রুতি। এক দিকে খেলোয়াড়ের বিশ্রাম ও ম্যাচসূচির প্রশ্ন, অন্য দিকে নিজের সুযোগ কাজে লাগানোর দায়। প্রথম গেমের দাপট ধরে রাখতে না পারার হতাশা আপাতত প্রবল। তবু সেই আক্ষেপের কাছে থেমে থাকার ইঙ্গিত দেননি তিনি। তিনটি পয়েন্টের স্মৃতি এখন যন্ত্রণার; আগামী লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে সেই মুহূর্তগুলিই হয়ে উঠছে সংশোধনের জায়গা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



