পর্তুগাল জিতল, বেঞ্চেই রোনাল্ডো: প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ভাঙল ১৮ বছরের ধারা

যা জানা জরুরি
- পর্তুগালের জয়ের রাতেও আলোচনার কেন্দ্রে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
- তবে গোল করে কিংবা মাঠে কোনও নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি করে নয়।
- রবিবার অসলোয় নরওয়ের বিরুদ্ধে গোটা ম্যাচ বেঞ্চে কাটালেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
পর্তুগালের জয়ের রাতেও আলোচনার কেন্দ্রে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তবে গোল করে কিংবা মাঠে কোনও নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি করে নয়। রবিবার অসলোয় নরওয়ের বিরুদ্ধে গোটা ম্যাচ বেঞ্চে কাটালেন পর্তুগিজ মহাতারকা। উলেভাল স্টেডিয়ামে তাঁর দল জিতল ২–১ গোলে। উয়েফা নেশনস লিগে টানা দ্বিতীয় জয়ের আনন্দের সঙ্গে জুড়ে রইল এক বিরল দৃশ্য: খেলার জন্য উপস্থিত রোনাল্ডো, অথচ তাঁকে নামানোর প্রয়োজনই অনুভব করলেন না কোচ।
প্রথম একাদশে তাঁর নাম না থাকায় বিস্ময় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আরও অপ্রত্যাশিত ছিল, পরিবর্ত হিসেবেও মাঠে নামলেন না তিনি। ওয়ার্ম আপ করতে দেখা গিয়েছিল রোনাল্ডোকে। ফলে ম্যাচের কোনও পর্যায়ে তাঁর প্রবেশের সম্ভাবনা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষা শেষ হল খেলার শেষ বাঁশিতে। সতীর্থদের জয় দেখতে হল সাইডলাইন থেকেই।
প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে এমন অভিজ্ঞতা রোনাল্ডোর হল ১৮ বছর পরে। এখানে ‘প্রতিযোগিতামূলক’ কথাটি জরুরি। কারণ, ২০২৪ সালের জুনে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রস্তুতি ম্যাচেও তিনি বেঞ্চে ছিলেন, কিন্তু নামেননি। ফলে পর্তুগালের সমস্ত ধরনের ম্যাচ মিলিয়ে টানা ১৮ বছর এমন ঘটেনি, বললে ভুল হবে। এবারের ঘটনাটির বিশেষত্ব ইউরো, বিশ্বকাপ বা নেশনস লিগের মতো প্রতিযোগিতার পরিসরে।
আগের নজিরটি ২০০৮ সালের ১৫ জুনের। ইউরোর গ্রুপ পর্বে সুইৎজারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় তৎকালীন কোচ লুইস ফেলিপে স্কোলারি দলে একাধিক পরিবর্তন করেছিলেন। সে দিনও পুরো ম্যাচ বাইরে ছিলেন রোনাল্ডো। পর্তুগাল হেরেছিল ০–২ গোলে। অসলোয় একই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হলেও দলের ফল হল উল্টো।
এবার অবশ্য রোনাল্ডোকে নামানোর ভাবনা ছিল কোচ জর্জ জেসুসের। শেষ আধঘণ্টায় তাঁকে মাঠে পাঠাতে চেয়েছিলেন তিনি। ম্যাচের গতিপ্রকৃতি দেখে সেই পরিকল্পনা বদলান। ম্যাচের পরে কোচ ব্যাখ্যা করেন, সেই পরিস্থিতিতে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ফুটবলার প্রয়োজন মনে হয়েছিল তাঁর। তবে রোনাল্ডো যে তাঁর পরিকল্পনার বাইরে চলে গিয়েছেন, এমন ব্যাখ্যাও তিনি মানেননি। অর্থাৎ, একটি ম্যাচের সিদ্ধান্ত থেকে জাতীয় দলে রোনাল্ডোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টানার অবকাশ নেই।
মাঠে পর্তুগালের আক্রমণের দায়িত্ব সামলান জোয়াও ফেলিক্স ও গনসালো রামোস। ১৭ মিনিটে ফেলিক্স দলকে এগিয়ে দেন। বিরতির পরে ৫১ মিনিটে নরওয়েকে সমতায় ফেরান আর্লিং হালান্ড। কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিল্যান্ড ভুল করে বল সরাসরি রামোসের কাছে পাঠিয়ে দেন। সুযোগ কাজে লাগিয়ে পর্তুগালকে ফের এগিয়ে দেন রোনাল্ডোর জায়গায় শুরু করা স্ট্রাইকার। রামোসের আরও একটি প্রচেষ্টা জালে পৌঁছলেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। শেষদিকে নরওয়ে সমতা ফেরাতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েও সফল হয়নি।
এই জয়ে নেশনস লিগের এ৪ গ্রুপের শীর্ষে উঠল পর্তুগাল। এর আগে ওয়েলসকে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছিল তারা। ফলে প্রথম দুই ম্যাচ থেকেই পূর্ণ ছয় পয়েন্ট পেল দল। রোনাল্ডোর অনুপস্থিতিতে জয় তুলে নেওয়া এবং তাঁর বিকল্প হিসেবে শুরু করা রামোসের জয়সূচক গোল, দুটিই কোচের কাছে স্বস্তির কারণ। আক্রমণে অন্যদের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগও তৈরি হল।
রোনাল্ডোর মতো ফুটবলারের ক্ষেত্রে মাঠে না নামাও তাই খবর হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে পর্তুগালের আক্রমণের প্রধান মুখ তিনি; তাঁকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে অসংখ্য জয়ের স্মৃতি। সেই পরিচিত ছবির বাইরে রবিবারের রাতটি আলাদা হয়ে থাকল। একচল্লিশ বছরের তারকাকে কখন ব্যবহার করলে দল সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে, সেই প্রশ্ন এখন কোচের সামনে। অসলোয় তাঁর উত্তরটি ছিল অন্যদের উপর আস্থা রাখা। তবে বেঞ্চে বসে থাকা মানেই অপমান বা সম্পর্কের অবনতি, এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে এই ম্যাচ কোনও প্রমাণ দেয় না। কোচের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে পরিস্থিতি অনুযায়ী ফুটবলার ব্যবহারের কথা। পর্তুগালের কাছে রাতের প্রাপ্তি তিন পয়েন্ট; রোনাল্ডোর ব্যক্তিগত ফুটবলজীবনের পাতায় রইল এক বিরল বিরতি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



