সংস্কৃতি ও বিনোদন

তাপসীর ‘সেরা সিদ্ধান্ত’

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ম্যাথিয়াস বো-কে বিয়ে করাই তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত—নিজের দাম্পত্য নিয়ে এমনই অকপট তাপসী পান্নু।
  • ডেনমার্কের প্রাক্তন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়ের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের ভিত কী?
  • অভিনেত্রীর উত্তর, প্রেমের পাশাপাশি পরস্পরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং একসঙ্গে থাকার নিশ্চিন্ত অনুভূতি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ম্যাথিয়াস বো-কে বিয়ে করাই তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত—নিজের দাম্পত্য নিয়ে এমনই অকপট তাপসী পান্নু। ডেনমার্কের প্রাক্তন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়ের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের ভিত কী? অভিনেত্রীর উত্তর, প্রেমের পাশাপাশি পরস্পরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং একসঙ্গে থাকার নিশ্চিন্ত অনুভূতি। নয়নদীপ রক্ষিতের সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনে তাপসী জানিয়েছেন, জীবনসঙ্গী হিসেবে ম্যাথিয়াসকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি গর্বিত।

বলিউডে তাঁর যাত্রা শুরুর সময়ই ম্যাথিয়াসের সঙ্গে প্রেমের সূত্রপাত। তার পর কেটে গিয়েছে প্রায় ১৩ বছর। এতটা সময় পেরিয়ে আজও সম্পর্কটি নিয়ে তাপসীর আস্থার জায়গাটা স্পষ্ট। তাঁর মতে, নিজের জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত সঙ্গী পাওয়া কঠিন। পরিবার মানুষ বেছে নেয় না, জন্মসূত্রেই পায়। অভিনয়জীবনের শুরুটাও তাঁর ক্ষেত্রে অনেকটা ঘটনাচক্রে। কিন্তু কাকে জীবনসঙ্গী করবেন, সেই সিদ্ধান্ত ছিল একেবারেই নিজের। তাই সেই নির্বাচন তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

তেরো বছরের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে তাপসীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ‘শ্রদ্ধা’। তাঁর মতে, ভালোবাসার আগে অন্য মানুষটিকে সম্মান করতে শেখা জরুরি। সেই ভিত্তি না থাকলে কোনও সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ম্যাথিয়াসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ভিতটাও সেই পারস্পরিক সম্মানেই তৈরি। পাশাপাশি একে অন্যের পাশে থাকার যে নিশ্চয়তা, সেটিই তাঁদের এত বছর একসঙ্গে থাকার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

নিজের সম্পর্কের বাইরে চারপাশের ছবিও দেখেন তাপসী। তাঁর চোখে, চলচ্চিত্রজগতের অনেকেই আন্তরিকভাবে একজন ভালোবাসার মানুষ খুঁজছেন, কিন্তু সেই খোঁজ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। পেশা যা-ই হোক, মানুষের জীবনে ভালোবাসা, সাহচর্য এবং মানসিক সমর্থনের প্রয়োজন থেকেই যায়। কেন স্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করা কঠিন হচ্ছে, তার নির্দিষ্ট কোনও উত্তর অবশ্য দেননি তিনি। বরং প্রশ্ন তুলেছেন—মানুষের প্রত্যাশা, জীবনযাপনের ধরন কিংবা অগ্রাধিকার কি বদলে যাচ্ছে?

তাপসী ও ম্যাথিয়াস ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বিয়ে নথিভুক্ত করেন। পরের বছর মার্চে উদয়পুরে হয় তাঁদের বিবাহের অনুষ্ঠান। তবে ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায়কে প্রচারের উপকরণ করতে চাননি অভিনেত্রী। বিবাহবার্ষিকীতে ছবি পোস্ট করা বা বিয়ের মুহূর্ত সাজিয়ে সমাজমাধ্যমে তুলে ধরার প্রয়োজনও তিনি অনুভব করেন না।

তাঁর কাছে এই আনন্দ মূলত নিজেদের এবং কাছের মানুষদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার। অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর জীবন প্রকাশ্য হলেও তার অর্থ এই নয় যে জীবনের প্রতিটি ব্যক্তিগত মুহূর্তও প্রকাশ্যে আনতে হবে। সম্পর্কটিকে নিজের মতো করে বাঁচিয়ে রাখাটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিয়ের ছবি প্রকাশ না করার পিছনে ম্যাথিয়াস ও পরিবারের গোপনীয়তার বিষয়টিও রয়েছে। তাপসীর বক্তব্য, তাঁর পেশার কারণে তাঁকে প্রায়ই জনসমক্ষে নানা বিচার-বিশ্লেষণের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু ম্যাথিয়াস ক্রীড়াজগতের পরিচিত মুখ হলেও একই ধরনের ব্যক্তিগত কৌতূহলের কেন্দ্রে থাকেন না। তাঁর ছবি প্রকাশ্যে এলে স্বামী এবং বিয়েতে উপস্থিত অতিথিরাও অযাচিত আলোচনার অংশ হয়ে উঠতে পারেন। সেই অভিজ্ঞতার মধ্যে তাঁদের টেনে আনতে চাননি তাপসী।

বিয়েতে অতিথিদের ফোন জমা রাখার কোনও নিয়ম ছিল না। শুধু অনুরোধ করা হয়েছিল, ছবি বা ভিডিয়ো তুললেও যেন তা সমাজমাধ্যমে প্রকাশ না করেন। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ঘনিষ্ঠদের জন্য ছবি ও সম্পাদিত ভিডিয়ো দেওয়া হয়েছিল। তবু একটি ভিডিয়ো বাইরে ছড়িয়ে পড়ে অস্বস্তিতে পড়েন তাপসী। তাঁর দাবি, পরিবারের তরফে আমন্ত্রিত এক অতিথির মাধ্যমে সেটি ছড়িয়ে গিয়েছিল। ব্যক্তিগত মুহূর্তকে ব্যক্তিগত রাখার অনুরোধটুকু মানা হবে—এটাই তাঁর প্রত্যাশা ছিল।

আর এত গম্ভীর কথার মাঝেও তাপসীর স্বভাবসিদ্ধ রসিকতা ছিল। বিয়ের বিদায়ের সময় কেন তিনি কাঁদেননি, সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী জানান, ম্যাথিয়াস ডেনমার্কে থাকার চেয়ে তাঁর সঙ্গে ভারতে বেশি সময় কাটান। তাই মজা করে তাঁর প্রশ্ন—আসলে বিদায় কার হয়েছিল?

বন্ধুরা অবশ্য কেঁদেছিলেন। তবে তাপসীর মতে, সেটা অনেকটাই আনন্দে—অবশেষে তাঁর বিয়ে হচ্ছে বলে। এমনকি বিয়ের আচার চলার সময়ও তিনি হাসছিলেন।

দীর্ঘ প্রেমের পর দাম্পত্য নিয়ে তাপসীর কথায় তাই সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে কোনও রূপকথার উচ্ছ্বাস নয়, বরং এক ধরনের নিশ্চিন্ততা। পাশে একজন মানুষ আছেন, তাঁকে সম্মান করেন, তিনিও সম্মান করেন—আর সেই সঙ্গটুকুই যেন তাঁর কাছে বিয়ের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles