Home সংস্কৃতি ও বিনোদন ‘ল্যাংড়া’ সইফ? ভরসা ছিল শুধু বিশালের

‘ল্যাংড়া’ সইফ? ভরসা ছিল শুধু বিশালের

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
13 views 3 minutes read
A+A-
Reset

কলকাতা: আজ ‘ল্যাংড়া ত্যাগী’ বললেই সইফ আলি খানের সেই কুটিল হাসি, ঠান্ডা মাথার নিষ্ঠুরতা আর দুর্দান্ত অভিনয় চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, ‘ওমকারা’য় এই চরিত্রে সইফকে নেওয়ার সিদ্ধান্তে শুরুতে প্রায় কেউই বিশ্বাস রাখেননি। একমাত্র পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজই নিশ্চিত ছিলেন—এই চরিত্রের জন্য সইফই হতে পারেন সেরা পছন্দ।

বিশ বছর আগে মুক্তি পাওয়া ‘ওমকারা’ আজও হিন্দি সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় ছবি। শেক্সপিয়ারের ‘ওথেলো’-কে ভারতীয় মাটিতে, উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ রাজনৈতিক-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এনে তৈরি করেছিলেন বিশাল ভরদ্বাজ। আর সেই ছবিতেই ল্যাংড়া ত্যাগীর চরিত্রে সইফ এমন অভিনয় করেন, যা তাঁর কেরিয়ারের গতিপথই অনেকটা বদলে দেয়।

ছবির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বলিউড হাঙ্গামাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সহ-চিত্রনাট্যকার ও সহযোগী পরিচালক অভিষেক চৌবে জানিয়েছেন, শুরুতে তাঁর ধারণাই ছিল না যে সইফ এই চরিত্রে অভিনয় করবেন।

তখন ‘মকবুল’-এর মতো ছবির পর তাঁদের মাথায় ছিল অন্য ধরনের অভিনেতার নাম। অভিষেকের মনে হয়েছিল, ল্যাংড়া ত্যাগীর মতো রুক্ষ, ধূর্ত ও নিষ্ঠুর চরিত্রের জন্য কোনও গম্ভীর বা সমান্তরাল ধারার অভিনেতাকেই বেছে নেওয়া হবে। কিন্তু বিশাল ভরদ্বাজ হঠাৎ সইফ আলি খানের নাম প্রস্তাব করতেই চমকে যান তিনি।

কারণ তখন সইফের পরিচিতি ছিল মূলত শহুরে রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবে। ‘এক হাসিনা থি’-তে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করলেও ল্যাংড়া ত্যাগীর সঙ্গে সেই চরিত্রের কোনও মিল ছিল না। উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ পরিবেশের একজন রুক্ষ, ধূর্ত ও নির্মম মানুষকে সইফ আদৌ বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সংশয় ছিল।

অভিষেকের কথায়, শুধু তিনি নন, বিশাল ভরদ্বাজের আশপাশের অনেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু পরিচালক এমন কিছু দেখতে পেয়েছিলেন সইফের মধ্যে, যা বাকিরা তখনও বুঝতে পারেননি।

আর শেষ পর্যন্ত সেই আস্থাই সঠিক প্রমাণিত হয়।

‘ওথেলো’র ইয়াগো, আর সইফের ল্যাংড়া

মজার বিষয় হল, সইফ নিজেও চরিত্রটি নিয়ে খুব বেশি ভাবনাচিন্তা করেননি। প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি রাজি হয়ে যান। অভিনেতার মা শর্মিলা ঠাকুরও তাঁকে উৎসাহ দিয়েছিলেন। তিনি ছেলেকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, শেক্সপিয়ারের ‘ওথেলো’-তে ইয়াগোই নাটকের অন্যতম স্মরণীয় চরিত্র—তাই এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।

যদিও ‘ওমকারা’য় সইফের কাজ পাওয়া এতটা সহজ ছিল না। তখন ‘রেস’ ছবির শুটিং নিয়ে তাঁর ব্যস্ততা ছিল। পরে সেই ছবির কাজ পিছিয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ‘ওমকারা’র জন্য সময় বের করতে পারেন সইফ।

এরপর যা হয়, তা তো ইতিহাস।

সংলাপেও ছিল আলাদা জাদু

‘ওমকারা’র সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল তার ভাষা। ছবিতে আঞ্চলিক শব্দ, গালিগালাজ এবং উত্তরপ্রদেশের কথ্যভাষা প্রচুর ব্যবহার করা হলেও, অভিষেক চৌবের মতে, সেগুলি কখনওই নিছক চমক দেওয়ার জন্য ছিল না।

শেক্সপিয়ারের মূল নাটকের কবিত্ব ও ছন্দকে ভারতীয় প্রেক্ষাপটে ধরে রাখতেই সংলাপকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল। ফলে ছবির অশ্রাব্য শব্দও অনেক সময় এক ধরনের কাব্যিক মাত্রা পেয়েছিল।

মায়ের ফোন, তারপর বিশালের প্রস্তাব

সম্প্রতি আইএমডিবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সইফ নিজেও ‘ওমকারা’য় যোগ দেওয়ার গল্প শোনান। তাঁর কথায়, জয়পুরে শুটিংয়ের সময় মা শর্মিলা ঠাকুর তাঁকে ফোন করে বলেছিলেন, এবার তাঁর শেক্সপিয়ারের কোনও নাটক অবলম্বনে কাজ করা উচিত।

ফোন রাখার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সইফের কাছে আসে বিশাল ভরদ্বাজের ফোন। পরিচালক জানান, তিনি ‘ওথেলো’ অবলম্বনে একটি ছবি করতে চলেছেন।

সইফ প্রথমে ভেবেছিলেন, তাঁকে হয়তো ওথেলোর চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। তখন বিশাল মজা করে বলেন, “তুমি ওথেলো হওয়ার জন্য খুবই সুদর্শন।”

এরপরই আসে ল্যাংড়া ত্যাগীর প্রস্তাব।

যে চরিত্র নিয়ে শুরুতে এত সংশয় ছিল, সেটিই পরে হয়ে ওঠে সইফ আলি খানের কেরিয়ারের অন্যতম সেরা মাইলফলক। আর বিশাল ভরদ্বাজের সেই একরোখা আস্থা প্রমাণ করে দেয়—কখনও কখনও একজন পরিচালক যে সম্ভাবনাটা দেখতে পান, তা বাকিরা দেখতে পেতে অনেকটাই সময় নেন।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles