হাইলাইটস
• সমাজবাদী পার্টি (SP)-তে বড়সড় ভাঙনের দাবি ঘিরে তুমুল রাজনৈতিক জল্পনা।
• বিজেপি ও তার মিত্রদের দাবি, ২৫-২৬ জন এসপি সাংসদ দল ছাড়তে প্রস্তুত।
• অখিলেশ যাদব সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা বিজেপির বিরুদ্ধে “দল ভাঙানোর রাজনীতি”র অভিযোগ তুলেছেন।
• ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরপ্রদেশে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হচ্ছে।
• আগাম নির্বাচনের কোনও সরকারি ইঙ্গিত না থাকলেও রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি এই মুহূর্তে গুজব, পাল্টা গুজব এবং কৌশলগত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত কয়েক দিনে সমাজবাদী পার্টি বা এসপি-কে ঘিরে যে ভাঙনের গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা শুধু লখনউ নয়, দিল্লির রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
রাজ্যের মন্ত্রী ও সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির নেতা ওমপ্রকাশ রাজভর প্রথমে দাবি করেন যে এসপির ভিতরে বড়সড় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং বহু সাংসদ দল ছাড়ার জন্য প্রস্তুত। পরে উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্যও একই সুরে বলেন, ২৫-২৬ জন এসপি সাংসদ দলের ভাঙনের পথেই রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির উন্নয়নমূলক রাজনীতি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তায় বিরোধী দলের নেতারাই আকৃষ্ট হচ্ছেন।
তবে এই দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রকাশ্য প্রমাণ সামনে আসেনি। কোনও সাংসদ প্রকাশ্যে দলত্যাগের ইচ্ছাও জানাননি। ফলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি হয়তো বিরোধী শিবিরে অস্থিরতা তৈরির একটি রাজনৈতিক কৌশল।
অখিলেশ যাদব অবশ্য একেবারেই রক্ষণাত্মক অবস্থানে যাননি। তিনি সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দল ভাঙানোর যে রাজনীতি দেখা যাচ্ছে, উত্তরপ্রদেশেও সেই একই খেলা খেলতে চাইছে বিজেপি। তাঁর দাবি, এসপি সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ এবং দল যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। উল্টে তিনি বলেন, বিজেপির নিজের দলেই অসন্তোষ রয়েছে এবং অনেক বিধায়ক অন্য শিবিরে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—উত্তরপ্রদেশে কি আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে? বাস্তবে এখনই সেই সম্ভাবনা খুব শক্তিশালী নয়। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ধারিত সময় ২০২৭ সালে।
সাংবিধানিকভাবে সরকার স্থিতিশীল থাকলে আগাম ভোটের প্রয়োজন নেই। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিজেপি আগেভাগেই নির্বাচনী মোডে চলে গেছে। তার কারণ, বিজেপির মিত্র দলগুলি ইতিমধ্যেই আসন সমঝোতা নিয়ে স্পষ্টতা চাইতে শুরু করেছে। নিশাদ পার্টি এবং এসবিএসপি প্রকাশ্যে বলেছে যে তারা অনেক আগে থেকেই আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করতে চায়, যাতে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করা যায়।
এছাড়া লোকসভা নির্বাচনে এসপি যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল, তা বিজেপির জন্য একটি সতর্কবার্তা ছিল। ফলে বিজেপি এখন থেকেই বিরোধী শিবিরের শক্তি ও ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। অন্যদিকে অখিলেশও তাঁর “পিডিএ” (পিছিয়ে পড়া, দলিত ও সংখ্যালঘু) সামাজিক সমীকরণকে আরও মজবুত করার চেষ্টা করছেন।
উত্তরপ্রদেশের রাজনীতির ইতিহাস বলছে, ভাঙন ও পুনর্গঠন এখানে নতুন নয়। মুলায়ম সিং যাদবের আমল থেকে শুরু করে শিবপাল যাদবের বিদ্রোহ পর্যন্ত সমাজবাদী রাজনীতির ভিতরে নানা টানাপোড়েন দেখা গেছে। তবে প্রতিবারই অখিলেশ শেষ পর্যন্ত দলের মূল সংগঠনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
সুতরাং বর্তমান পরিস্থিতিতে “এসপি ভেঙে যাচ্ছে”—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো এখনও তাড়াহুড়ো হবে। কিন্তু এটুকু স্পষ্ট, ২০২৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশে রাজনৈতিক তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। বিজেপি বিরোধী শিবিরকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে ঠেলে দিতে চাইছে, আর অখিলেশ যাদব সেই চাপকে উল্টে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। আগামী কয়েক মাসে সত্যিই কোনও সাংসদ বা বিধায়ক দল ছাড়েন কি না, সেটাই নির্ধারণ করবে এই গুঞ্জন কেবল রাজনৈতিক প্রচার ছিল, নাকি বড় কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের পূর্বাভাস।