Home খবর পদি পিসির যাত্রাপালা ফেল

পদি পিসির যাত্রাপালা ফেল

by বাংলাস্ফিয়ার
0 comments 5 views 8 minutes read
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নেই, অথচ কার্যকারিতা প্রশ্নাতীত। যেমন—দলীয় বৈঠক, প্রশাসনিক বৈঠক, সাংবাদিক সম্মেলন এবং অবশ্যই নাটকীয়তা। এই শেষোক্ত প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ আচার্য হিসেবে বহু বছর ধরে যাঁর নাম উচ্চারিত হয়ে আসছে, তিনি হলেন পিসি। আর তাঁর সবচেয়ে সফল ছাত্র, উত্তরাধিকারী এবং একমাত্র পূর্ণকালীন প্রধান চরিত্র হলেন ভাইপো।

সোনারপুরের ঘটনাটি ঘটার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, এবার হয়তো একটি সাধারণ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে। কিছু বিবৃতি হবে, কিছু প্রতিবাদ হবে, কিছু পাল্টা অভিযোগ হবে। কিন্তু তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে এখনও পুরোপুরি বোঝেননি।এখানে কোনও ঘটনাই শুধু ঘটনা নয়। সবকিছুই সম্ভাব্য মহাকাব্য। অতএব যা হওয়ার তাই হল।

ঘটনার পর প্রথমেই ভাইপোকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ এল। এই নির্দেশের মধ্যে মাতৃস্নেহ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং নাট্যপরিচালকের পেশাগত দক্ষতা—সবকিছুরই অপূর্ব সমন্বয় ছিল। সাধারণ মানুষ যদি ধাক্কা খায়, তবে বাড়ি ফিরে বরফ সেঁক দেয়। রাজনৈতিক নেতা যদি ধাক্কা খান, তবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। কিন্তু যদি নেতা হন ভাইপো, তবে প্রথমেই হাসপাতাল। কারণ হাসপাতালে না গেলে ইতিহাস রচিত হয় না।

কিন্তু তারপরেই নাটকের চিত্রনাট্যে একটি অপ্রত্যাশিত সমস্যা দেখা দিল। হাসপাতালগুলির একটা বিরক্তিকর অভ্যাস আছে। তারা চিকিৎসাবিদ্যার নিয়ম মেনে চলে। রাজনৈতিক আবেগ, বিপ্লবী কল্পনা বা নির্বাচনী কৌশল দিয়ে রোগ নির্ণয় করে না। ফলে যখন ভাইপো পৌঁছলেন, তখন চিকিৎসকেরা শরীর পরীক্ষা করে যা দেখলেন, তা নাট্যকারের কল্পনার সঙ্গে পুরোপুরি মিলল না।

তাঁরা বললেন, শরীরে তেমন কোনও গুরুতর আঘাত নেই অবস্থা ভর্তি করার মতো নয়। এ যেন মঞ্চে নায়ক মৃত্যুদৃশ্যে শুয়ে আছেন, আর ডাক্তার চরিত্রটি হঠাৎ এসে ঘোষণা করল—“না না, উনি দিব্যি আছেন।” রাজনীতির ইতিহাসে এর চেয়ে নিষ্ঠুর সংলাপ খুব কম লেখা হয়েছে। অবশ্য এখানেই নাটক শেষ হলে দর্শকের টাকার মূল্য ফেরত দেওয়ার প্রশ্ন উঠত।

তাই দ্বিতীয় অঙ্ক শুরু হল। অভিযোগ উঠল চাপ দেওয়া হচ্ছে। ভয় দেখানো হচ্ছে। হাসপাতাল ভর্তি নিতে চাইছে না। এই মুহূর্তে কলকাতার বহু প্রবীণ চিকিৎসক সম্ভবত তাঁদের স্টেথোস্কোপ নামিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন। কারণ তাঁরা বুঝতে পারছেন না, তাঁরা চিকিৎসা করছেন, নাকি রাজনৈতিক থ্রিলারের পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করছেন।

অ্যাপোলো বলল, সমস্যা নেই। বেলভিউ বলল, সমস্যাও নেই, ভর্তির দরকারও নেই। কিন্তু রাজনৈতিক কল্পনার জগতে বাস্তবতা কখনও কখনও খুবই অসুবিধাজনক বস্তু। ফলে নতুন ব্যাখ্যা আবিষ্কৃত হল।

হাসপাতাল সত্য কথা বলছে না। কারণ তারা ভীত। এই যুক্তির সৌন্দর্য হল, এর কোনও পরীক্ষাযোগ্য মানদণ্ড নেই। যদি হাসপাতাল বলে ভর্তি দরকার, তবে বোঝা যাবে ভাইপো গুরুতর আহত। যদি হাসপাতাল বলে ভর্তি দরকার নেই, তবে বোঝা যাবে হাসপাতালকে ভয় দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ যে ফলই আসুক, চিত্রনাট্য একই থাকবে।

এমন কৌশল দেখে বহু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পরিচালক নোটবই বের করে লিখে নিতে পারেন। এদিকে সাধারণ মানুষও ঘটনাটা আগ্রহ নিয়ে দেখছিলেন। কারণ তাঁদের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ উল্টো।

সাধারণ মানুষ হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হতে চান, হাসপাতাল বলে বেড নেই। এখানে হাসপাতাল বলছে আপনার ভর্তির দরকার নেই।আর রোগীর রাজনৈতিক পরিবার বলছে – না, আমাদের ভর্তি হতেই হবে। এ যেন ট্রেনে টিকিট ছাড়া যাত্রী জোর করে টিটি-কে বলছে, “আমাকে জরিমানা করুন, না হলে গণতন্ত্র বিপন্ন।”

এই সময়ে সবচেয়ে বিব্রত অবস্থায় ছিলেন সম্ভবত চিকিৎসকেরা। তাঁরা মেডিক্যাল কলেজে বহু বছর পড়েছেন। অ্যানাটমি পড়েছেন। ফিজিওলজি পড়েছেন। সার্জারি পড়েছেন। কিন্তু “রাজনৈতিকভাবে উপযোগী আঘাত শনাক্তকরণ” নামে কোনও বিষয় তাঁদের সিলেবাসে ছিল না।

তাই তাঁরা পুরনো অভ্যাসে রোগী দেখলেন, রিপোর্ট দেখলেন, তারপর বললেন, ভর্তি করার মতো কিছু নেই। এই নির্লজ্জ পেশাদারিত্বই আসল সমস্যার সৃষ্টি করল। কারণ নাটকের নিয়ম অনুযায়ী এখানে অন্তত তিনটি ব্যান্ডেজ, দুটি হুইলচেয়ার এবং একটি গভীর উদ্বিগ্ন মেডিক্যাল বুলেটিন থাকা উচিৎ ছিল। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান আবার নাট্যকলার প্রতি প্রয়োজনীয় শ্রদ্ধা প্রদর্শন করল না। ফলে রাজনৈতিক মহলে এক ধরনের হতাশা ছড়িয়ে পড়ল।

যে দৃশ্যটি জাতির সামনে উপস্থাপিত হওয়ার কথা ছিল—‘আহত গণতন্ত্রের আহত সৈনিক’—সেটি রূপান্তরিত হল ‘সম্পূর্ণ সচেতন, সুস্থ ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক নেতা’-য়। এবং এই রূপান্তর চিত্রনাট্যের জন্য ভয়াবহ। কারণ শহীদের রাজনীতি করতে গেলে অন্তত সামান্য শহীদসুলভ দেখানো প্রয়োজন।

কিন্তু এখানেই পিসির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে আসে। তিনি জানেন, বাস্তবতা যদি সাহায্য না করে, তবে বয়ানকে আরও শক্তিশালী করতে হয়। তাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল আঘাত নয়, ষড়যন্ত্র। চিকিৎসা নয়, চাপ। রিপোর্ট নয়, রহস্য। এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দর্শকও জানেন, এটাই দ্বিতীয় অঙ্কের শেষ দৃশ্য।

এরপর আসবে তৃতীয় অঙ্ক। সেখানে শুধু হাসপাতাল নয়, সম্ভবত ইতিহাস, ভূগোল, গণতন্ত্র এবং মহাবিশ্বের বিভিন্ন শক্তিও এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে। কারণ বাংলার রাজনীতিতে একটি অমোঘ সূত্র আছে—যত ছোট ঘটনা, তার ব্যাখ্যা তত বড়।

রাজনীতিতে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন ঘটনাটি যতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তার ব্যাখ্যাটি তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।সোনারপুর-পরবর্তী হাসপাতাল অধ্যায়টি সেই বিরল ঘটনাগুলির মধ্যে পড়ে। কারণ এখানে মূল প্রশ্ন ছিল না—অভিষেকের কী হয়েছে। মূল প্রশ্ন ছিল—অভিষেকের কী হয়েছে বলে জনগণকে বিশ্বাস করানো হবে।

এই দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে। প্রথমটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয়। দ্বিতীয়টি রাজনৈতিক নাট্যকলার। আর গত এক দশকে বাংলার রাজনীতিতে দ্বিতীয় বিষয়টির উপর যে অসামান্য গবেষণা হয়েছে, তার জন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যায়।

ঘটনার পর যখন একের পর এক হাসপাতাল জানিয়ে দিল যে শরীরে এমন কোনও আঘাত নেই যা ভর্তি হওয়ার দাবি করে, তখন রাজনৈতিক বিপণন বিভাগের সামনে একটি বড় সমস্যা তৈরি হল। কারণ বাংলার ভোটাররা অনেক কিছু মেনে নিতে পারেন, কিন্তু অসমাপ্ত নাটক পছন্দ করেন না। শুরুতে দর্শকদের সামনে যে ট্রেলার দেখানো হয়েছিল, তার সঙ্গে মূল ছবির মিল থাকতে হয়।

ট্রেলারে যদি দেখানো হয় “মৃত্যুফাঁদ”, “প্রাণনাশের চক্রান্ত”, “গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ”, তাহলে অন্তত একটি স্যালাইন স্ট্যান্ড তো থাকা উচিৎ। কিন্তু এখানে যা দেখা গেল, তা অনেকটা এমন—প্রথমে ঘোষণা করা হল টাইগার এসেছে। তারপর খাঁচা খুলে দেখা গেল ভেতরে একটি সুস্থ, স্বাভাবিক, শান্ত বিড়াল বসে আছে।

ফলে নতুন গল্প তৈরি করা প্রয়োজন হয়ে পড়ল। এবং সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হল “চাপ”। এই “চাপ” শব্দটির রাজনৈতিক গুরুত্ব অসীম।এটি এমন এক রহস্যময় পদার্থ, যা চোখে দেখা যায় না, হাতে ধরা যায় না, পরীক্ষাগারে মাপা যায় না, কিন্তু প্রয়োজনে যেকোনও ব্যাখ্যার জায়গা পূরণ করতে পারে।

কেন ভর্তি হল না? চাপ। কেন রিপোর্টে গুরুতর কিছু নেই? চাপ। কেন ডাক্তার অন্য কথা বলছেন? চাপ। কেন পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে? সম্ভবত সেটাও চাপ। এই ব্যাখ্যার সৌন্দর্য হল, এর বিরুদ্ধে প্রমাণ দেওয়া অসম্ভব। কারণ প্রমাণ না পাওয়াটাই আবার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

এমন দর্শন সাধারণত উত্তর-আধুনিক সাহিত্যতত্ত্বে দেখা যায়। বাংলার রাজনীতিতে এটি অনেক বেশি কার্যকর। এদিকে সাধারণ মানুষও ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে সম্ভবত নিজের হাসপাতালের অভিজ্ঞতার কথা ভাবছিলেন। যখন তাঁরা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যান, তখন প্রথমে রেজিস্ট্রেশন, তারপর লাইন, তারপর পরীক্ষা, তারপর বেডের অপেক্ষা।

এখানে দৃশ্যটি সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে সমস্যা হল রোগী ভর্তি হতে চাইছেন, হাসপাতাল বলছে তার দরকার নেই। ভারতীয় চিকিৎসা ইতিহাসে এটিও এক অভিনব অধ্যায়। সম্ভবত ভবিষ্যতের মেডিক্যাল পাঠ্যবইয়ে একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে“Admission Refusal Due To Good Health. ”অর্থাৎ রোগীকে ভর্তি করা গেল না, কারণ তিনি অত্যন্ত সুস্থ।

কিন্তু রাজনৈতিক নাটকে সুস্থতা একটি বড় অসুবিধা। কারণ রাজনীতিতে নায়ককে কখনও কখনও ভুক্তভোগীও হতে হয়। শুধু নেতা হলে চলে না। অত্যাচারিত নেতাও হতে হয়। আর অত্যাচারিত নেতার জন্য অন্তত কিছু দৃশ্যমান অত্যাচার থাকা দরকার। এই কারণেই সম্ভবত সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলার রাজনীতিতে “শহীদ উৎপাদন শিল্প” এত জনপ্রিয় হয়েছে।

এই শিল্পের কাঁচামাল হল সাধারণ ঘটনা। তারপর সেটিকে প্রসেসিং ইউনিটে পাঠানো হয়। সেখানে কিছু আবেগ, কিছু অভিযোগ, কিছু ষড়যন্ত্র, কিছু গণতন্ত্র-রক্ষার ভাষণ মেশানো হয়। অবশেষে বাজারে ছাড়া হয় একটি সম্পূর্ণ নতুন পণ্য। সোনারপুর ঘটনাটিও সম্ভবত সেই কারখানার দরজা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। কিন্তু উৎপাদন লাইনের মাঝপথে চিকিৎসকেরা এসে পড়লেন। আর পুরো প্রকল্পটিকে নষ্ট করে দিলেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি মারাত্মক দোষ আছে। এটি রাজনৈতিক চাহিদা অনুযায়ী রিপোর্ট লেখে না। এক্স-রে দলীয় নির্দেশ মানে না।সিটি স্ক্যান ভোটের হিসাব বোঝে না। রক্তচাপও দলীয় পতাকা দেখে বাড়ে-কমে না। ফলে বহু যত্নে নির্মিত বয়ানটি বারবার বাস্তবতার সঙ্গে ধাক্কা খেতে লাগল।

আর এখানেই এই ঘটনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। একসময় তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাদের গল্প বলার ক্ষমতা। তারা ঘটনাকে বয়ানে রূপান্তর করতে পারত। একটি অভিযোগকে আন্দোলনে পরিণত করতে পারত। একটি স্লোগানকে আবেগে রূপ দিতে পারত। কিন্তু দীর্ঘ ক্ষমতার পর সম্ভবত সেই ক্ষমতার মধ্যেই একটি সমস্যা তৈরি হয়েছে।

তারা ধরে নিয়েছে, বয়ানই বাস্তবতা। বাস্তবতা আর আলাদা কোনও জিনিস নয়। ফলে যখন বাস্তবতা প্রতিবাদ করে, তখন সেটাকেই ষড়যন্ত্র বলে ঘোষণা করা হয়। হাসপাতাল যদি মেনে না নেয়, হাসপাতাল দোষী। ডাক্তার যদি একমত না হন, ডাক্তার দোষী। রিপোর্ট যদি গল্পের সঙ্গে না মেলে, রিপোর্ট দোষী। অর্থাৎ পৃথিবীর সমস্ত কিছু ভুল হতে পারে, কিন্তু চিত্রনাট্য ভুল হতে পারে না।

এ এক অসাধারণ আত্মবিশ্বাস। গ্রিক ট্র্যাজেডির নায়কদের মধ্যেও এমন আত্মবিশ্বাস কম দেখা যায়। তবে এই কাহিনির সবচেয়ে মজার অংশ সম্ভবত অন্যত্র। বহু বছর ধরে বাংলার রাজনীতিতে বিরোধীদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হত—নাটক করছে, সহানুভূতি চাইছে, ক্যামেরা খুঁজছে। আজ সেই একই অভিযোগ উল্টো দিক থেকে ফিরে আসছে।

এবং সেই কারণেই ঘটনাটি এত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ রাজনৈতিক নাটকের একটি নিয়ম আছে। একই নাটক বারবার মঞ্চস্থ করা যায়।কিন্তু দর্শককে বারবার একইভাবে বোকা ভাবা যায় না। একসময় দর্শক সংলাপ মুখস্থ করে ফেলে। তারপর অভিনেতা সংলাপ বলার আগেই দর্শক বলে দেয়, পরের লাইন কী।

বাংলার রাজনীতি সম্ভবত সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে। পিসি যখন বলেন “চক্রান্ত”, দর্শক পরের শব্দটি আন্দাজ করে ফেলেন। ভাইপো যখন বলেন “গণতন্ত্র আক্রান্ত”, দর্শক জানেন এরপর “ভয় দেখানো হচ্ছে” আসবে। আর যখন হাসপাতাল বলে “ভর্তি করার মতো কিছু নেই”, তখন নাটকের শেষ দৃশ্যও মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত এই পুরো ঘটনাটি হয়তো সোনারপুর নিয়ে নয়। হাসপাতাল নিয়েও নয়। এটি আসলে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। যেখানে একটি দল এখনও বিশ্বাস করে যে তারা গল্প লিখছে, অথচ দর্শক বুঝে গেছে এটি গল্প। যেখানে পরিচালক এখনও ভাবছেন সিনেমা চলছে, অথচ হলের আলো জ্বলে উঠেছে। আর সেই কারণেই সম্ভবত এই পর্বের সবচেয়ে নির্মম চরিত্র বিজেপি নয়, পুলিশ নয়, হাসপাতালও নয়।

সবচেয়ে নির্মম চরিত্র হল বাস্তবতা।

কারণ বাস্তবতার একটি খারাপ অভ্যাস আছে।

সে চিত্রনাট্য পড়ে অভিনয় করে না।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles