খবর

‘মোদি না থাকলে বাংলাকে বাঁচানো কঠিন হত’, প্রধানমন্ত্রীর জন্মভিটেয় শুভেন্দু

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মস্থান গুজরাতের ভাদনগরে গিয়ে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
  • বুধবার, ৭ অক্টোবর তাঁর দাবি, বাংলা যে অবস্থায় পৌঁছেছিল, মোদি না থাকলে সেখান থেকে রাজ্যকে বাঁচানো কঠিন হত।
  • একই মঞ্চ থেকে আগামী লোকসভা নির্বাচনে বাংলার সব আসন বিজেপিকে জেতানোর লক্ষ্যও ঘোষণা করেন তিনি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মস্থান গুজরাতের ভাদনগরে গিয়ে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার, ৭ অক্টোবর তাঁর দাবি, বাংলা যে অবস্থায় পৌঁছেছিল, মোদি না থাকলে সেখান থেকে রাজ্যকে বাঁচানো কঠিন হত। একই মঞ্চ থেকে আগামী লোকসভা নির্বাচনে বাংলার সব আসন বিজেপিকে জেতানোর লক্ষ্যও ঘোষণা করেন তিনি।

মোদির সরকার পরিচালনার ২৫ বছর উপলক্ষে আয়োজিত ‘বারাণসী থেকে ভাদনগর সেবা যাত্রা’র সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেন শুভেন্দু। উপস্থিত ছিলেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং গুজরাতের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক যাত্রাকে সামনে রেখে এই অনুষ্ঠানে উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং জাতীয়তাবাদের বার্তা দেওয়া হয়।

এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজ্যের তরুণেরা অংশ নেন। যাত্রাপথে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের বক্তব্য, স্থানীয় স্তরে সেবামূলক কাজের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ভাবনার পরিচয় করানোই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ভাদনগর সফরকে নিজের জীবনের বিশেষ প্রাপ্তি হিসেবে বর্ণনা করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, কাউন্সিলর থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ৩৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে মোদির জন্মস্থানে আসার সুযোগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই সফরের জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। মোদির সাধারণ পরিবার থেকে দেশের নেতৃত্বে উঠে আসার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন শিবরাজ।

বাংলার পূর্বতন সরকারগুলিকে আক্রমণ করে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, বামফ্রন্ট ও তৃণমূলের শাসনে রাজ্য পিছিয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, মোদির নেতৃত্বে এখন উন্নয়নের কাজ এগোচ্ছে। অতীতের শাসনের সঙ্গে বর্তমান সরকারের কাজের তুলনা টেনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকার উপরেই জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।

অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গেও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, গুজরাত সরকার তিন লক্ষের বেশি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে তাড়িয়েছে। বাংলার সীমান্তে নজরদারির ঘাটতির জন্য তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে জমি দেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথাও এদিন মনে করিয়ে দেন তিনি।

উন্নয়নের প্রসঙ্গে কৃষক, আবাসন, স্বাস্থ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পিএম কিসান সম্মান নিধি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং উড়ান প্রকল্পের উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। রাস্তা ও রেল পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণের কথাও তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে।

তবে সফরের অন্যতম রাজনৈতিক ঘোষণা ছিল ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের লক্ষ্য। শুভেন্দু জানান, মোদির নেতৃত্বে বাংলার ৪২টি আসনই জেতার জন্য কাজ করবে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রীর হাতে রাজ্যের সমস্ত আসন তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। ফলে মোদির রাজনৈতিক জীবনের বর্ষপূর্তির মঞ্চ থেকেই বাংলায় দলের পরবর্তী নির্বাচনী লক্ষ্যের কথাও স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই লক্ষ্য কতটা বড়, তা বোঝা যায় আগের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি পেয়েছিল ১২টি আসন। তৃণমূল জিতেছিল ২৯টিতে, কংগ্রেস একটিতে। তার আগে ২০১৯ সালে বিজেপির দখলে ছিল ১৮টি আসন। সেই হিসেবে ৪২টি আসন জয়ের ঘোষণা দলের আগের সাফল্যকে অনেকটা ছাড়িয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মোদি। প্রায় ১৩ বছর সেই পদে থাকার পরে ২০১৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। রাজ্য ও কেন্দ্রের সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর এই দীর্ঘ সময়কে সামনে রেখেই বিজেপি সেবা সংকল্প অভিযান এবং বিভিন্ন জনসংযোগ কর্মসূচি আয়োজন করেছে।

ভাদনগরের বক্তব্যে শুভেন্দু বাংলার উন্নয়ন এবং বিজেপির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সাফল্য—দুই ক্ষেত্রেই মোদির নেতৃত্বকে কেন্দ্রীয় জায়গায় রাখলেন। তাঁর বক্তৃতার রাজনৈতিক তাৎপর্য সেখানেই: রাজ্যের সরকারের কাজের সমর্থন চাইতে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তিকে সামনে আনা এবং সেই সমর্থনকে লোকসভা ভোটে আরও বড় সাফল্যে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করা।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles