International

ককপিট-কাণ্ডে তদন্ত

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ফ্লাইদুবাইয়ের তেল আভিভগামী বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনায় বিমান নিরাপত্তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সৌদি আরব।
  • দেশটির ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টার এই অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
  • গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে রওনা হওয়া এফজেড১০৭৩ উড়ানটি ককপিটে হামলার পর সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ফ্লাইদুবাইয়ের তেল আভিভগামী বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনায় বিমান নিরাপত্তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সৌদি আরব। দেশটির ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টার এই অনুসন্ধান চালাচ্ছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে রওনা হওয়া এফজেড১০৭৩ উড়ানটি ককপিটে হামলার পর সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চলা ফৌজদারি তদন্তের পাশাপাশি সৌদির এই অনুসন্ধানে খতিয়ে দেখা হবে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা কীভাবে ঠেকানো যায়।

অভিযোগ, ওমানের নাগরিক সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামি কুঠার নিয়ে বিমানের প্রধান পাইলট স্মিত মাচ্ছারের উপর হামলা করেন। আহত অবস্থাতেই ভারতীয় পাইলট ককপিটের দরজা খুলে দেন। তখন যাত্রীদের কয়েক জন ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন। পরে বিমানটি নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করে। অভিযুক্তকে আমিরশাহির কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানেই হেফাজতে রয়েছেন।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরই সৌদির নিরাপত্তা কেন্দ্র তদন্তকারী দল পাঠায়। তাদের কাজ হল সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ, ঘটনার পরিস্থিতি পুনর্গঠন এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিমান নিরাপত্তার সম্ভাব্য দুর্বলতাগুলি খতিয়ে দেখা।

তাবুক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি অবতরণের অনুরোধ পাওয়ার পর বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আহত দুই পাইলটকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বিমানটি অবতরণ করে। যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পর ফ্লাইদুবাইয়ের তরফে একটি বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করা হয়। সেই বিমানেই পরে তাঁরা গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।

তবে এই নিরাপত্তা অনুসন্ধানের লক্ষ্য অপরাধের দায় নির্ধারণ নয়। আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা বা আইকাওয়ের ‘অ্যানেক্স ১৩’ কাঠামো অনুযায়ী, এ ধরনের তদন্তের মূল উদ্দেশ্য ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা বা বিপজ্জনক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকানো। কোথায় নিরাপত্তার ফাঁক তৈরি হয়েছিল, কীভাবে ঝুঁকি তৈরি হল এবং কোন পরিবর্তনের মাধ্যমে একই ঘটনা এড়ানো সম্ভব—সেই প্রশ্নগুলিই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ, একই ঘটনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা অনুসন্ধান এবং ফৌজদারি তদন্ত পাশাপাশি চলতে পারে, কিন্তু তাদের লক্ষ্য এক নয়। আমিরশাহির তদন্তে যেমন হামলার কারণ, উদ্দেশ্য, পূর্বপরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য নির্দেশদাতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে, তেমনই সৌদির অনুসন্ধানের কেন্দ্রে রয়েছে বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ আল-শামসি বিশেষজ্ঞ সরকারি কৌঁসুলিদের নিয়ে একটি তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, বিমানটি আমিরশাহিতে নিবন্ধিত এবং তাদের পতাকাবাহী হওয়ায় বিদেশের আকাশেও বিমানের ভিতরে সংঘটিত অপরাধ তদন্তের এখতিয়ার তাদের রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অনুমাননির্ভর বা অযাচাইকৃত তথ্য প্রকাশ না করারও আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রক।

রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, মার্কিন ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড বা এনটিএসবি-ও তদন্তে প্রতিনিধি নিয়োগ করেছে। সংশ্লিষ্ট বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, বিমানটির নিবন্ধনের দেশ এবং বিমান সংস্থার ঘাঁটি হিসেবে আমিরশাহিরও নিরাপত্তা অনুসন্ধানে অংশ নেওয়ার কথা।

ইজরায়েলও তদন্তে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে দেশটির বিমান নিরাপত্তা তদন্ত সংস্থার প্রধান ওফের ভাকনিন জানিয়েছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন অনুসন্ধানে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁরা এখনও কোনও আমন্ত্রণ পাননি। সৌদি তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হবে কি না, তাও এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল অভিযুক্ত সহকারী পাইলটের অতীত। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানে তাঁর উগ্রপন্থী মনোভাব নিয়ে আগে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে ইজরায়েলগামী একটি আন্তর্জাতিক উড়ানে দায়িত্ব পেলেন, সেই প্রশ্নও এখন তদন্তকারীদের নজরে।

বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে মাটিতে নামলেও তাই তদন্তের প্রয়োজন ফুরোয়নি। হামলার নেপথ্যের কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি কোথায় নিরাপত্তার ফাঁক ছিল, তা চিহ্নিত করাও জরুরি। সেই দুর্বলতা দূর করা গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের বিপদ থেকে যাত্রী ও বিমানকর্মীদের আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles