সংস্কৃতি ও বিনোদন

প্রথম ছবিতেই অস্কার!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • তারপর আলফ্রেড হিচককের ‘নর্থ বাই নর্থওয়েস্ট’-এ রহস্য, বুদ্ধিমত্তা আর আকর্ষণের এক অনন্য মুখ।
  • হলিউডের সেই স্মরণীয় অভিনেত্রী ইভা মারি সেন্ট আর নেই।
  • ১০২ বছর বয়সে মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়িতে প্রয়াত হয়েছেন তিনি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রথম ছবিতেই অস্কার জয়। তারপর আলফ্রেড হিচককের ‘নর্থ বাই নর্থওয়েস্ট’-এ রহস্য, বুদ্ধিমত্তা আর আকর্ষণের এক অনন্য মুখ। হলিউডের সেই স্মরণীয় অভিনেত্রী ইভা মারি সেন্ট আর নেই। ১০২ বছর বয়সে মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়িতে প্রয়াত হয়েছেন তিনি। পরিবারের প্রতিনিধি জেফ স্যান্ডারসন জানিয়েছেন, স্বাভাবিক কারণেই মৃত্যু হয়েছে অভিনেত্রীর। শেষ সময়ে পরিবারের সদস্যরা তাঁর পাশে ছিলেন।

১৯২৪ সালের ৪ জুলাই নিউ জার্সির নিউয়ার্কে জন্ম ইভা মারি সেন্টের। ছোটবেলায় তাঁর ইচ্ছে ছিল শিক্ষক হওয়ার। কিন্তু ওহায়োর বোলিং গ্রিন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় নাটকের প্রতি আগ্রহ বদলে দেয় জীবনের পথ। পরে অভিনয় শেখার জন্য নিউ ইয়র্কে যান। মঞ্চ ও টেলিভিশনে কাজের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে সিনেমায় পা রাখেন। নিউ ইয়র্কের অ্যাক্টরস স্টুডিয়োয় প্রশিক্ষণও তাঁর অভিনয়জীবনের ভিত শক্ত করে।

১৯৫৪ সালে এলিয়া কাজানের ‘অন দ্য ওয়াটারফ্রন্ট’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক। মার্লন ব্র্যান্ডোর বিপরীতে এডি ডয়েল চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। বন্দরের শ্রমিকজীবন, অপরাধ আর দুর্নীতির আবহে এডি ছিলেন সংবেদনশীল, কিন্তু ভিতরে দৃঢ় এক নারী। ভাইয়ের মৃত্যুর সত্য খুঁজতে গিয়ে ব্র্যান্ডোর টেরি ম্যালয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়। চরিত্রটির কোমলতার আড়ালে থাকা নৈতিক সাহস সেন্ট ফুটিয়ে তুলেছিলেন অত্যন্ত সংযত অভিনয়ে। ব্র্যান্ডোর তীব্র উপস্থিতির পাশেও তাঁর অভিনয় আলাদা করে নজর কেড়েছিল।

ফলও এল হাতেনাতে। ১৯৫৫ সালে ‘অন দ্য ওয়াটারফ্রন্ট’-এর জন্য সেরা সহ-অভিনেত্রীর অস্কার পান সেন্ট। পুরস্কার নিতে মঞ্চে ওঠার সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার হাত থেকে অস্কার নেওয়ার সময় রসিকতা করে বলেছিলেন, মনে হচ্ছে বুঝি এখানেই সন্তানের জন্ম দিয়ে ফেলবেন! অস্কার অনুষ্ঠানের মাত্র দু’দিন পরই জন্ম হয় তাঁর ছেলে ড্যারেলের। প্রথম ছবির সাফল্য আর প্রথম মাতৃত্ব—দুটি বড় ঘটনা প্রায় একই সময়ে এসে ধরা দিয়েছিল তাঁর জীবনে।

তারপর এল ১৯৫৯। আলফ্রেড হিচককের ‘নর্থ বাই নর্থওয়েস্ট’ তাঁকে দেখাল একেবারে অন্য আলোয়। ক্যারি গ্রান্টের বিপরীতে ইভ কেন্ডালের চরিত্রে ছিলেন তিনি—এক রহস্যময়, আত্মবিশ্বাসী এবং বুদ্ধিদীপ্ত নারী, যার আসল পরিচয় নিয়ে শুরু থেকেই ধোঁয়াশা। বিপদের মুহূর্তে উপস্থিত বুদ্ধি, আবেগের টানাপোড়েন আর চরিত্রের দ্বৈততা মিলিয়ে ইভ কেন্ডাল হয়ে ওঠে তাঁর অন্যতম স্মরণীয় সৃষ্টি। ‘অন দ্য ওয়াটারফ্রন্ট’-এর সংবেদনশীল তরুণীর সঙ্গে এই চরিত্রের আকাশ-পাতাল ফারাকই দেখিয়ে দিয়েছিল, অভিনয়ের কোনও একটি ছাঁচে নিজেকে আটকে রাখেননি সেন্ট।

পরবর্তী সময়ে অটো প্রিমিঙ্গারের ‘এক্সোডাস’-এ পল নিউম্যানের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। জন ফ্র্যাঙ্কেনহাইমারের ‘অল ফল ডাউন’ এবং ‘গ্রাঁ প্রি’-তেও দেখা যায় তাঁকে। ‘দ্য স্যান্ডপাইপার’-এ অভিনয় করেন এলিজাবেথ টেলর ও রিচার্ড বার্টনের সঙ্গে। নর্মান জুইসনের ব্যঙ্গাত্মক ছবি ‘দ্য রাশিয়ানস আর কামিং, দ্য রাশিয়ানস আর কামিং’-এও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। একের পর এক ভিন্ন ঘরানার ছবি তাঁর অভিনয়জীবনের বিস্তৃত পরিসরকে তুলে ধরে।

তবে হলিউডের ঝলমলে জীবনের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যও নিজের মতো করেই বজায় রেখেছিলেন সেন্ট। বড় স্টুডিয়োর চুক্তি ফিরিয়েছেন, সন্তানদের সময় দিতে অনেক ছবির প্রস্তাবও নেননি। হলিউডে প্রথম দশ বছরে তাঁর ছবি ছিল মাত্র সাতটি। ‘নর্থ বাই নর্থওয়েস্ট’-এর চিত্রনাট্যও তাঁকে নতুন করে মন দিয়ে পড়তে উৎসাহ দিয়েছিলেন তাঁর স্বামী জেফ্রি হেডেন। খ্যাতি বাড়লেও নিজের শর্তে কাজ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি তিনি।

সিনেমার পাশাপাশি টেলিভিশনেও দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন সেন্ট। ১৯৯০ সালে ‘পিপল লাইক আস’-এ অভিনয়ের জন্য এমি পুরস্কার পান। বয়স বাড়লেও অভিনয়ের জগৎ থেকে পুরোপুরি সরে যাননি। ২০০৬ সালের ‘সুপারম্যান রিটার্নস’-এ সুপারম্যানের পালক মা মার্থা কেন্টের ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। ফলে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। ‘উইন্টার্স টেল’ ছিল তাঁর পরবর্তী সময়ের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলির একটি।

১৯৫১ সালে পরিচালক জেফ্রি হেডেনকে বিয়ে করেছিলেন ইভা মারি সেন্ট। ২০১৬ সালে হেডেনের মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাঁদের দাম্পত্য স্থায়ী হয়েছিল ৬৫ বছর। তাঁদের দুই সন্তান—ড্যারেল ও লরেট।

এক শতাব্দীরও বেশি দীর্ঘ জীবনে ইভা মারি সেন্ট রেখে গেলেন অস্কার, একাধিক স্মরণীয় চরিত্র এবং অভিনয়ের এক স্বতন্ত্র উত্তরাধিকার। ‘অন দ্য ওয়াটারফ্রন্ট’-এর নরম অথচ দৃঢ় এডি থেকে ‘নর্থ বাই নর্থওয়েস্ট’-এর রহস্যময় ইভ কেন্ডাল—পর্দায় বারবার নিজেকে বদলেছেন তিনি। তাই তাঁর বিদায় শুধু এক অস্কারজয়ী অভিনেত্রীর প্রয়াণ নয়, হলিউডের এক গুরুত্বপূর্ণ অভিনয়যুগেরও অবসান।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles