সংস্কৃতি ও বিনোদন

বড়-ছোটের হিসাব ভুল?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • পরিবারে কে সবার আগে জন্মেছে, কে পরে—এই হিসাব ধরেই আমরা প্রায়ই মানুষের স্বভাবের ছক কেটে ফেলি।
  • বড় সন্তান নাকি একটু কর্তৃত্বপরায়ণ, মেজো সন্তান শান্তি বজায় রাখতে ওস্তাদ, আর সবার ছোট?
  • কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা যে ছবি পেয়েছেন, তা এই পরিচিত ধারণাগুলিকে বেশ ভালই ধাক্কা দেয়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

পরিবারে কে সবার আগে জন্মেছে, কে পরে—এই হিসাব ধরেই আমরা প্রায়ই মানুষের স্বভাবের ছক কেটে ফেলি। বড় সন্তান নাকি একটু কর্তৃত্বপরায়ণ, মেজো সন্তান শান্তি বজায় রাখতে ওস্তাদ, আর সবার ছোট? সে তো বেপরোয়া, পরিবারের মাথাব্যথার কারণ!

কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা যে ছবি পেয়েছেন, তা এই পরিচিত ধারণাগুলিকে বেশ ভালই ধাক্কা দেয়। জন্মক্রম দিয়ে কোনও মানুষের ব্যক্তিত্বের নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা জন্মক্রম দেখে বলে দেওয়ার ক্ষমতা অনেকটা জ্যোতিষশাস্ত্রের মতোই সীমিত।

ভাইবোনের মধ্যে আপনি কত নম্বরে জন্মেছেন, তা অবশ্যই জীবনের কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু চিন্তা, অনুভূতি ও আচরণের যে অনন্য মিশ্রণ আপনাকে ‘আপনি’ করে তোলে, তার নিয়ন্ত্রক জন্মক্রম নয়।

এর আগে দেখা গিয়েছে, সারা জীবনের আয় থেকে শিক্ষাগত সাফল্য—বিভিন্ন মাপকাঠিতে ছোট ভাইবোনেরা গড়ে প্রথম সন্তানের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে থাকতে পারেন। বাবা-মায়ের মনোযোগ পাওয়ার সুযোগে ফারাক এবং শৈশবে গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের মতো কারণ এর পিছনে ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ জন্মক্রমের প্রভাব থাকলেও তা ব্যক্তিত্বের সরাসরি ছক নয়।

তাহলে ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে আসল বিষয়টি কী?

‘আমি’ কি সত্যিই একই থাকে?

ব্যক্তিত্বকে আমরা সাধারণত বেশ স্থায়ী কিছু বলেই মনে করি। গবেষকেরা বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের ব্যক্তিত্ব বোঝাতে পাঁচটি দীর্ঘস্থায়ী বৈশিষ্ট্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। একসঙ্গে এগুলিকে বলা হয় ‘বিগ ফাইভ’।

এর মধ্যে রয়েছে বহির্মুখিতা; সহযোগিতাপ্রবণতা—অর্থাৎ সহমর্মিতা, অন্যকে সম্মান ও বিশ্বাস করার প্রবণতা; নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা; আবেগগত অস্থিরতা—উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, রাগ বা আবেগের ওঠানামার প্রবণতা; এবং নতুন অভিজ্ঞতার প্রতি উন্মুক্ততা—কৌতূহল ও কল্পনাশক্তি।

একসময় মনে করা হত, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বৈশিষ্ট্যগুলি মিলে মোটামুটি স্থায়ী একটি ‘আমি’ তৈরি হয়ে যায়। তার পরে ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন এলেও তা খুব সামান্য। কিন্তু গত দুই দশকের গবেষণা সেই ধারণাকে বদলে দিচ্ছে।

মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী টেড শোয়াবা ব্যক্তিত্বের বিকাশ এবং আচরণগত জিনতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘস্থায়ী ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে জন্মক্রম বড় কোনও নিয়ামক নয়। জন্মের মুহূর্তেই কারও ব্যক্তিত্বের নকশা তৈরি হয়ে যায় না।

বরং মানুষের বদলে যাওয়ার ক্ষমতা সারাজীবনই থাকে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সচেতন চেষ্টা কিংবা বছরের পর বছর জীবনের ঘষামাজায় ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন হতে পারে। কখনও সেই পরিবর্তন বেশ নাটকীয়ও হয়।

শোয়াবার মতে, অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই বয়সের সঙ্গে আবেগগত অস্থিরতা কমে। অর্থাৎ উদ্বেগ, দুঃখ, দুশ্চিন্তা, রাগ কিংবা অপরাধবোধের মতো আবেগ অনুভব করার প্রবণতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়।

নিজেও উদ্বেগে ভোগেন বলে স্বীকার করে শোয়াবা বলেন, ব্যক্তিত্বের কোনও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসার পক্ষে সবচেয়ে জোরালো প্রমাণগুলির একটি এখানেই। তাঁর কাছে এই গবেষণালব্ধ তথ্য “আশ্বস্ত করার মতো”।

মেজো সন্তান কি সত্যিই শান্তির দূত?

মেজো সন্তান সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা হল, বড় ও ছোট ভাইবোনের মাঝখানে থেকে সে নাকি পরিবারের ‘শান্তিদূত’ হয়ে ওঠে। ভাইবোনের চাহিদা বোঝা, মানিয়ে চলা এবং বিবাদ মেটাতে মেটাতে তার মধ্যে সহযোগিতাপ্রবণতা ও সততা গড়ে ওঠে।

এই ধারণা পরীক্ষা করতে কানাডার ব্রক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মাইকেল অ্যাশটন এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারির অধ্যাপক কিবম লি সাত লক্ষ দশ হাজারেরও বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেন।

তাঁরা ব্যবহার করেন ‘হেক্সাকো পার্সোনালিটি ইনভেন্টরি’—‘বিগ ফাইভ’-এর কাছাকাছি একটি ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নপদ্ধতি। এর একটি অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য হল ‘সততা-বিনয়’। এর মধ্যে পড়ে ন্যায্য আচরণ, বিনয় এবং নিজের সুবিধার জন্য অন্যকে ব্যবহার করতে অনীহা।

২০২৪ সালে ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস’-এ প্রকাশিত গবেষণায় প্রথম নজরে পুরনো ধারণারই কিছুটা সমর্থন মিলেছিল।

যাঁদের বড় ও ছোট—দু’দিকেই ভাইবোন রয়েছে, সততা-বিনয় এবং সহযোগিতাপ্রবণতায় তাঁদের গড় নম্বর কিছুটা বেশি। পরিবারে ভাইবোনের সংখ্যা যত বেড়েছে, এই বৈশিষ্ট্যগুলির নম্বরও তত বেড়েছে। মাঝের সন্তানেরা পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি নম্বর, তার পরে ছোটরা। বড় এবং একমাত্র সন্তানেরা ছিলেন পিছিয়ে।

কিন্তু আসল গল্পটি ছিল অন্য জায়গায়।

পার্থক্যটি ছিল অত্যন্ত সামান্য।

জন্মক্রমের চেয়ে পরিবারের আকার—অর্থাৎ মোট কত জন ভাইবোন রয়েছে—ব্যক্তিত্বের পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাও পরিবারের আকার দিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের সততা-বিনয় ও সহযোগিতাপ্রবণতায় দেখা যাওয়া পার্থক্যের প্রায় এক শতাংশ বা তারও কম ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়েছিল।

অর্থাৎ মেজো সন্তান হওয়া কাউকে হঠাৎ করে বেশি শান্তিপ্রিয় বা সৎ বানিয়ে দেয়—এমন জোরালো প্রমাণ মেলেনি।

ছোটরা কি সত্যিই বেশি বেপরোয়া?

এ বার আসা যাক পরিবারের ‘দুরন্ত’ সদস্যের গল্পে।

জন্মক্রমের সঙ্গে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতার সম্পর্ক খুঁজতে গবেষকেরা বিবর্তনগত একটি ব্যাখ্যা সামনে রেখেছিলেন। বাবা-মায়ের সময়, মনোযোগ এবং অন্যান্য সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছোট সন্তানকে ইতিমধ্যেই জায়গা করে নেওয়া বড় ভাইবোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়। তাই ছোটরা হয়তো বেশি ঝুঁকি নিতে শেখে—এমনটাই ছিল অনুমান।

বার্লিনের ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের গবেষক তোমাস লেহারাগা এবং তাঁর সহকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির কয়েক দশ হাজার শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ১০ থেকে ৩৯ বছর।

ফলাফলে সত্যিই একটি পরিচিত ছবি ধরা পড়ে। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি ছোট ভাইবোনেরা প্রথম সন্তানদের তুলনায় বেশি ঝুঁকি নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। ২০২৩ সালে ‘অ্যানালস অব দ্য নিউ ইয়র্ক অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস’-এ প্রকাশিত হয় গবেষণাটি।

কিন্তু বয়স বাড়তেই সেই পার্থক্য উধাও হতে শুরু করে।

কুড়ির কোঠায় পৌঁছেও সামান্য প্রভাব দেখা গেলেও তিরিশের কোঠায় জন্মক্রম ও ঝুঁকি নেওয়ার সম্পর্ক প্রায় মিলিয়ে যায়।

অর্থাৎ সবচেয়ে ছোট সন্তানের ‘বেপরোয়া’ ভাবটি সম্ভবত কোনও আজীবন স্থায়ী ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য নয়। বরং শৈশবের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটি আচরণগত কৌশল হতে পারে।

পরিবেশ বদলালে আচরণও বদলায়।

১৮ থেকে ২৫—বদলের গুরুত্বপূর্ণ সময়?

গত দুই দশকের গবেষণাগুলি মোটের উপর একই দিকে ইঙ্গিত করছে—কয়েক বছরের ব্যবধানে ব্যক্তিত্ব বেশ স্থিতিশীল মনে হলেও কয়েক দশকের ব্যবধানে তা একেবারেই একই থাকে না।

মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির শোয়াবার মতে, জীবনের প্রথম দিকে ব্যক্তিত্ব যথেষ্ট পরিবর্তনশীল। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সকে ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখা যায়। এর পরে স্থিতিশীলতা বাড়তে থাকে এবং প্রায় ৩০ বছর বয়সের দিকে ব্যক্তিত্ব তুলনামূলক স্থিত অবস্থায় পৌঁছয়।

তবে তার মানে এই নয় যে ৩০-এর পরে ‘আমি’ পাথরে খোদাই হয়ে গেল।

জীবনের নতুন অভিজ্ঞতা, সম্পর্ক, কাজ এবং বড় সিদ্ধান্ত ব্যক্তিত্বকে ফের নাড়িয়ে দিতে পারে।

বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানের জন্ম, অবসর, বাগ্‌দান, বিয়ে কিংবা কর্মক্ষেত্রে পদাবনতি—জীবনের এমন একাধিক বড় ঘটনার সঙ্গে ব্যক্তিত্বের পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরির মনোবিজ্ঞানী কিলি ডুগান এবং তাঁর সহলেখকেরা ২৫ ধরনের জীবনঘটনা বিশ্লেষণ করে ২০২৪ সালে ‘জার্নাল অব পার্সোনালিটি’-তে তাঁদের গবেষণা প্রকাশ করেন।

তবে ব্যক্তিত্ব বদলাতে সব সময় জীবনে ভূমিকম্পের মতো ঘটনা প্রয়োজন হয় না।

ছোট ছোট অভিজ্ঞতাও বারবার ঘটতে ঘটতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন, দীর্ঘ সময় ধরে সঙ্গীর জন্য বিশেষ কিছু করা কিংবা নিয়মিত বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে দেখা করা—এ ধরনের ছোট ঘটনা জমে গিয়ে কখনও বিয়ে বা বিবাহবিচ্ছেদের মতো বড় এককালীন ঘটনার সমান প্রভাব ফেলতে পারে।

বয়স বাড়লে কী বদলায়?

গবেষণায় দেখা যায়, বয়সের সঙ্গে মানুষ সাধারণত আরও দায়িত্বশীল, আবেগগত ভাবে স্থির এবং সহযোগিতাপ্রবণ হয়ে ওঠে।

আশ্চর্যের বিষয়, ষাটের পরে ব্যক্তিত্বের কিছু পরিবর্তন আবার গতি পেতে পারে। নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা কিংবা বহির্মুখিতায় আগে যে বৃদ্ধি হয়েছিল, তার কিছুটা উল্টো দিকেও যেতে পারে। কিন্তু আবেগগত স্থিরতা বাড়তে থাকে—এমনকি সত্তরের কোঠাতেও।

এখানেই আসে ‘বার্ধক্যের আপাতবিরোধ’।

শরীর দুর্বল হতে পারে, সামাজিক যোগাযোগ কমতে পারে, শারীরিক সক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। অথচ জীবনের আবেগগত অর্থবোধ এবং ভালো থাকার অনুভূতি অনেকের ক্ষেত্রে বাড়ে। যে পরিস্থিতি একসময় রাগ, উদ্বেগ বা অস্থিরতা তৈরি করত, বয়স বাড়ার সঙ্গে সেটিই হয়তো মানুষ আরও ধীরস্থির ভাবে সামলাতে শেখেন।

শোয়াবার ভাষায়, ব্যাপারটি যেন জীবনের সঙ্গে তাল মেলাতে মেলাতে ধীরে ধীরে ‘আয়ত্তে’ আসার প্রক্রিয়া।

জিন, না কি পরিবেশ?

তাহলে ব্যক্তিত্বের আসল নিয়ন্ত্রক কে—জিন, না পরিবেশ?

উত্তরটা কোনও একটিতে আটকে নেই।

ব্যক্তিত্ব নিয়ন্ত্রণ করে এমন কোনও একক ‘পার্সোনালিটি জিন’ নেই। আবার জিনগত প্রভাব বাদ দিয়েও ব্যক্তিত্বের ব্যাখ্যা করা যায় না। ২০১৫ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র অনুযায়ী, যমজদের গবেষণা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে মানুষের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যে পার্থক্যের প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ জিনগত বৈচিত্র্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

কিন্তু একই বাড়িতে বড় হওয়া মানেই একই ব্যক্তিত্ব—এমনটাও নয়।

দত্তক নেওয়া ভাইবোনের তুলনায় জিনগত ভাবে সম্পর্কিত ভাইবোনদের ব্যক্তিত্বে বেশি মিল দেখা যায়। অর্থাৎ একই পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সেটিই পুরো গল্প নয়।

আবার জিন ও পরিবেশকে আলাদা করে মাপাও সহজ নয়। অস্টিনের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক এলিয়ট টাকার-ড্রবের মতে, দু’টির প্রভাব এতটাই পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে যে কোনটির অবদান কতটা, তা নিখুঁত ভাবে আলাদা করা কঠিন।

একটি তৈরি হয়ে যাওয়া ককটেল থেকে পরে তার প্রতিটি উপাদান আলাদা করার চেষ্টার মতোই জটিল বিষয়টি।

নিজেকে বদলানো যায়?

যায়—এবং এখানেই হয়তো গবেষণার সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বার্তা।

মানুষের ব্যক্তিত্ব বদলানোর ক্ষেত্রে জীবনের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সচেতন প্রচেষ্টারও ভূমিকা থাকতে পারে। থেরাপি, আচরণগত অনুশীলন কিংবা নির্দিষ্ট কিছু আত্মনিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়ে ২০০টিরও বেশি গবেষণার সমন্বিত বিশ্লেষণে ব্যক্তিত্বে অর্থপূর্ণ পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।

শুধু আত্মোন্নয়নের বই পড়লেই অবশ্য কাজ হবে না। দরকার নিয়মিত অনুশীলন। কোনও পরিস্থিতিতে কী করবেন, আগে থেকে সেই পরিকল্পনা করা, নিজের ভাবনা ও আচরণ নিয়ে ডায়েরি লেখা, ফোনে মনে করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা—এমন ছোট ছোট কৌশলও দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসতে পারে।

বিশেষ করে আবেগগত অস্থিরতা এবং বহির্মুখিতার ক্ষেত্রে এমন অনুশীলনের প্রভাব দেখা গিয়েছে।

শোয়াবার মতে, মানুষ যখন সত্যিই নিজেকে বদলানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সেই চেষ্টায় তারা “আশ্চর্যজনকভাবে সফল” হতে পারে।

অবশ্য নিজের পুরো ব্যক্তিত্ব বদলে একেবারে অন্য মানুষ হয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। স্বভাবে সংকোচী কেউ হয়তো রাতারাতি সবচেয়ে মিশুকে মানুষ হয়ে উঠবেন না। আমাদের ব্যক্তিত্বের কিছু পরিচিত ছাপ থেকেই যায়।

তবু পরিবর্তন থেমে থাকে না।

সাধারণ ভাবে বয়সের সঙ্গে মানুষ আরও দায়িত্বশীল, আবেগগত ভাবে স্থির এবং সহযোগিতাপ্রবণ হয়ে ওঠে। অর্থাৎ, আমরা যে মানুষটি আজ, সারাজীবন ঠিক সেই মানুষটিই থাকব—বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা বরং তার বিপরীত কথাই বলছে।

জন্মক্রম হয়তো আমাদের শৈশবের কিছু আচরণের উপর সামান্য ছাপ ফেলতে পারে। কিন্তু বড় সন্তান মানেই কর্তৃত্বপরায়ণ, মেজো মানেই শান্তিদূত, আর ছোট মানেই বেপরোয়া—এমন সহজ ছকে মানুষকে ফেলে দেওয়ার মতো শক্ত প্রমাণ নেই।

আমাদের ব্যক্তিত্ব কোনও পাথরে খোদাই করা পরিচয় নয়। বরং সময়, অভিজ্ঞতা, জিন, পরিবেশ এবং নিজের চেষ্টায় ধীরে ধীরে বদলে চলা এক জীবন্ত ভূদৃশ্য।

আর সম্ভবত সেটিই মানুষের সবচেয়ে সুন্দর বৈশিষ্ট্য—আমরা এখনও তৈরি হয়ে যাইনি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles