২,৭০০ টাকার ওষুধে ২৭ হাজারের ছাপ: ক্যানসার চিকিৎসার দামে আদালতের প্রশ্ন

যা জানা জরুরি
- একটি ক্যানসারের ওষুধ খুচরো বিক্রেতার কাছে পৌঁছচ্ছে প্রায় ২,৭০০ টাকায়, অথচ মোড়কে সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য ২৭ হাজার টাকা—এই দশ গুণ ব্যবধান দেখে সুপ্রিম কোর্ট…
- বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ একে প্রকাশ্য লুট ও রোগীকে ঠকানো বলে বর্ণনা করে জানতে চেয়েছে, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ নীরব কেন।
- সংবাদটি ২৩ সেপ্টেম্বর বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
একটি ক্যানসারের ওষুধ খুচরো বিক্রেতার কাছে পৌঁছচ্ছে প্রায় ২,৭০০ টাকায়, অথচ মোড়কে সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য ২৭ হাজার টাকা—এই দশ গুণ ব্যবধান দেখে সুপ্রিম কোর্ট ২২ সেপ্টেম্বর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ একে প্রকাশ্য লুট ও রোগীকে ঠকানো বলে বর্ণনা করে জানতে চেয়েছে, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ নীরব কেন। সংবাদটি ২৩ সেপ্টেম্বর বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়। আদালতের মন্তব্য ওষুধটির চূড়ান্ত বৈধ দাম নির্ধারণের রায় নয়; বরং ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণের ফাঁক নিয়ে চলমান মামলায় কঠোর প্রশ্ন।
এখানে তিনটি অঙ্ক আলাদা। প্রস্তুতকারক যে দামে পরিবেশক বা বিক্রেতাকে পণ্য দেয়, সেটি বাণিজ্যিক সরবরাহমূল্য; মোড়কের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য তার উপরের আইনসিদ্ধ সীমা; রোগী বাস্তবে কত দেন, সেটি ছাড় ও বিক্রয়স্থানের উপর বদলাতে পারে। ২,৭০০ ও ২৭ হাজারের ব্যবধান মানেই প্রতিটি দোকান পুরো পার্থক্য নিজের পকেটে নেয়, এমন নয়—পরিবেশক, হাসপাতাল, কর ও অন্য স্তর থাকতে পারে। কিন্তু এত বড় ব্যবধান থাকলে প্রতিটি স্তরের অংশ এবং চিকিৎসাবিষয়ক যুক্তি প্রকাশ করা জরুরি।
ভারতে জাতীয় ওষুধ মূল্য নির্ধারণ কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট তফসিলভুক্ত জরুরি ওষুধের সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দেয়। তফসিলের বাইরে থাকা ওষুধেও বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির সীমা ও নজরদারির বিধান আছে, কিন্তু সব ওষুধ একই ধরনের সরাসরি মূল্যনিয়ন্ত্রণে পড়ে না। আদালত প্রশ্ন তুলেছে, জীবনরক্ষাকারী ওষুধগুলি আরও বিস্তৃতভাবে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা এবং জনঔষধি কেন্দ্রের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া যায় কি না। এই পর্যবেক্ষণ নিজে নতুন মূল্যতালিকা নয়; নীতি বদলাতে সরকার ও নিয়ন্ত্রকের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ লাগবে।
ক্যানসার চিকিৎসায় ওষুধের দাম শুধু একবারের কেনাকাটা নয়। বহু রোগীর নিয়মিত চক্র, পরীক্ষানিরীক্ষা, হাসপাতাল ও যাতায়াতের খরচ থাকে। আদালত বলেছে, পরিবারকে সম্পত্তি বা গয়না বিক্রি করতে বাধ্য করে এমন দাম জনস্বাস্থ্যের কেন্দ্রীয় সমস্যা। তবু একটি উদাহরণ দিয়ে গোটা ওষুধশিল্পের প্রতিটি পণ্যে একই হারে বাড়তি দাম আছে বলা যাবে না। সংশ্লিষ্ট ওষুধের নাম, পেটেন্টের অবস্থা, বিকল্প ও প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের পূর্ণ নথি আদালতের চূড়ান্ত বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সরকারি ব্যবস্থায় মূল্যনিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মান ও সরবরাহও দেখতে হয়। অত্যন্ত কম দাম নির্ধারণে উৎপাদন বন্ধ বা ঘাটতির আশঙ্কা শিল্প তুলতে পারে; অন্যদিকে অস্বচ্ছ বড় মুনাফা রোগীর চিকিৎসা-অধিকার সংকুচিত করে। ভারসাম্যের ভিত্তি হওয়া উচিত যাচাইযোগ্য উৎপাদনব্যয়, গবেষণা ও বিতরণ খরচ, যুক্তিসঙ্গত মুনাফা এবং বিকল্পের উপস্থিতি—শুধু মোড়কে একটি বড় অঙ্ক ছাপার স্বাধীনতা নয়।
বিশ্লেষণ: আদালতের তীব্র ভাষা সমস্যাটিকে দৃশ্যমান করেছে, কিন্তু রোগীর জন্য বাস্তব স্বস্তি আসবে প্রয়োগে। কোন ওষুধ কত দামে বিক্রি হচ্ছে, হাসপাতাল নিজস্ব ওষুধের দোকান ব্যবহার বাধ্যতামূলক করছে কি না, একই উপাদানের কমদামি বিকল্প জানানো হচ্ছে কি না এবং অভিযোগে কত দ্রুত ব্যবস্থা হচ্ছে—এই তথ্য দরকার। মূল্যসীমা থাকলেও রোগী তা না-জানলে দরকষাকষির শক্তি অসম থাকে।
পরবর্তী ধাপে কেন্দ্র ও মূল্যনিয়ন্ত্রকের জবাব, সংশ্লিষ্ট বাজারের তথ্য এবং আদালতের লিখিত নির্দেশ দেখতে হবে। আজ নিশ্চিত খবর হল, সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য ও খুচরো বিক্রেতার ক্রয়মূল্যের বিপুল ব্যবধানকে সুপ্রিম কোর্ট সাধারণ ব্যবসায়িক বিষয় বলে ছেড়ে দেয়নি। কিন্তু ২৭ হাজার টাকার সব বিক্রি ইতিমধ্যে বেআইনি ঘোষিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত হয়নি। রোগীর পক্ষে সবচেয়ে জরুরি হবে প্রেসক্রিপশনের জেনেরিক নাম, সরকারি মূল্যতালিকা এবং অনুমোদিত বিকল্প যাচাই করা; আদালতের ক্ষোভকে তাৎক্ষণিক ছাড়ের কুপন ভাবা নয়।
হাসপাতালভিত্তিক কেনাকাটায় আরেকটি স্বচ্ছতা দরকার: চিকিৎসক যে ব্র্যান্ড লিখেছেন তার পাশাপাশি একই উপাদানের অনুমোদিত বিকল্প ও হাসপাতালের ক্রয়মূল্য রোগীকে জানানো। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ক্যানসারের ওষুধ বদলানো বিপজ্জনক। মূল্য যাচাই চিকিৎসা বদলের নির্দেশ নয়; সন্দেহ হলে বিশেষজ্ঞ ওষুধবিদ বা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নিরাপত্তা আগে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



