খবর

সাক্ষী বাদ দিলে ন্যায়ও বাদ পড়ে: লখিমপুর বিচারে সরকারি কৌঁসুলি বদলের নির্দেশ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ২০২১ সালের লখিমপুর খেরি হিংসার মূল মামলায় উত্তরপ্রদেশ সরকারকে অভিজ্ঞ নতুন সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
  • ২২ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে নিহত কৃষকদের পরিবারের পক্ষে অভিযোগ ওঠে, বর্তমান কৌঁসুলি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য না-নিয়েই বাদ দিচ্ছেন।
  • বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ বলে, এমনভাবে সাক্ষী ছেড়ে দেওয়া ন্যায্য বিচার পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

২০২১ সালের লখিমপুর খেরি হিংসার মূল মামলায় উত্তরপ্রদেশ সরকারকে অভিজ্ঞ নতুন সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। ২২ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে নিহত কৃষকদের পরিবারের পক্ষে অভিযোগ ওঠে, বর্তমান কৌঁসুলি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য না-নিয়েই বাদ দিচ্ছেন। বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ বলে, এমনভাবে সাক্ষী ছেড়ে দেওয়া ন্যায্য বিচার পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আদালত কয়েকজন বাদ-পড়া সাক্ষীকে আবার ডাকার পথও খুলেছে এবং এলাহাবাদ হাইকোর্টের কাছ থেকে বিচারকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে সিলমোহর করা প্রতিবেদন চেয়েছে। অভিযোগগুলি এখনও প্রমাণিত বিচারিক সিদ্ধান্ত নয়।

২০২১ সালের ৩ অক্টোবর কেন্দ্রের তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময়ে লখিমপুর খেরির টিকুনিয়ায় গাড়িচাপায় চার কৃষক ও এক সাংবাদিক নিহত হন। পরবর্তী সংঘর্ষে আরও তিনজন মারা যান। প্রধান মামলায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্রসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযুক্ত। তাঁরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন; বিচারাধীন অবস্থায় দোষী হিসেবে লেখা যাবে না। সুপ্রিম কোর্ট আগে আশিসের জামিনের শর্ত ও বিচার এগোনোর গতি পর্যবেক্ষণ করেছে।

মে মাসের শুনানিতে রাজ্য জানিয়েছিল, কৃষকদের মৃত্যুর মূল মামলায় ৪৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, ১৫ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ৭২ জন তখনও বাকি। সংখ্যাগুলি বিচার শেষ হয়েছে বোঝায় না; সাক্ষীর প্রয়োজনীয়তা ও প্রমাণের পুনরাবৃত্তি বিচারক ও কৌঁসুলিকে মূল্যায়ন করতে হয়। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যদি লিখিত যুক্তি ও পরিবারের বক্তব্য ছাড়াই হয়, ভবিষ্যতে প্রমাণের শৃঙ্খল দুর্বল হতে পারে। আদালতের বর্তমান হস্তক্ষেপ সেই ঝুঁকি নিয়ে।

পরিবারের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নথি থেকে ঘটনাস্থলের একটি নকশা পাওয়া যাচ্ছে না এবং নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ হয়নি। বিচারকের কাজের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি বিচারক বদলের নির্দেশ না-দিয়ে হাইকোর্টকে অভিযোগ পরীক্ষা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বলেছে। এই সীমাটি গুরুত্বপূর্ণ: আইনজীবীর বক্তব্য প্রকাশ্যে এলেও সংশ্লিষ্ট বিচারকের জবাব ও নথি পরীক্ষা বাকি। সিলমোহর করা প্রতিবেদন চাওয়া মানে অভিযোগ সত্য ঘোষিত হওয়া নয়।

সরকারি কৌঁসুলির কাজ শুধু দোষসিদ্ধির সংখ্যা বাড়ানো নয়; আদালতের সামনে প্রাসঙ্গিক ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ ন্যায্যভাবে রাখা। তিনি রাজ্যের প্রতিনিধি হলেও ন্যায়বিচারের কর্মকর্তা। অপ্রয়োজনীয় সাক্ষী বাদ দেওয়া বৈধ কৌশল হতে পারে, কিন্তু মামলার কেন্দ্রীয় ঘটনা দেখা মানুষকে কারণহীনভাবে বাদ দিলে ভুক্তভোগী ও জনসাধারণের আস্থা ক্ষয় হয়। একই সঙ্গে সাক্ষী ফিরিয়ে আনা মানেই তাঁদের বক্তব্য সত্য ধরে নেওয়া নয়; জেরা ও আদালতের মূল্যায়ন থাকবে।

বিশ্লেষণ: বহুল আলোচিত মামলায় বিলম্ব যেমন ক্ষতিকর, তেমন দ্রুততার নামে প্রমাণের দরজা বন্ধ করাও বিপজ্জনক। আদালতের নির্দেশের উদ্দেশ্য বিচার নতুন করে শুরু করা নয়, চলমান প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য ও নিরপেক্ষ পরিচালনা নিশ্চিত করা। নতুন কৌঁসুলি নিয়োগের পরে কোন সাক্ষী ফিরবেন, আগের সাক্ষ্যের সঙ্গে তাঁদের বয়ান কীভাবে মিলবে এবং হারানো নথির অভিযোগে কী পাওয়া যায়—এসবই পরবর্তী যাচাই।

আশিস মিশ্রের জামিন বাতিল বা দোষসিদ্ধি হয়েছে—এই আদেশ থেকে এমন সিদ্ধান্ত হয় না। একইভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের আপত্তিকে নিছক বিচার বিলম্বের কৌশল বলাও অনুচিত। সুপ্রিম কোর্ট এখানে ফল ঘোষণা করেনি; বিচার যে বিশ্বাসযোগ্য পথে এগোয়, তার ন্যূনতম শর্ত মেরামত করতে চেয়েছে। পাঁচ বছর পরে মামলার গতি জরুরি, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছতে গিয়ে পথের সাক্ষীদের অদৃশ্য করা চলবে না।

সাক্ষীদের নিরাপত্তাও এই প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রকাশ্যে আলোচিত রাজনৈতিক মামলায় ভয়, সামাজিক চাপ বা দীর্ঘ যাতায়াত সাক্ষ্য দেওয়াকে কঠিন করতে পারে। কেউ সত্যিই সাক্ষ্য দিতে অনিচ্ছুক হলে কারণটি আদালতে যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বিবেচনা করতে হবে। কৌঁসুলির একটি মৌখিক বক্তব্যে তাঁকে বাদ দিলে অনিচ্ছা ও চাপের পার্থক্য ধরা পড়ে না।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles