বাংলাস্ফিয়ার: কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন করে সাজানো গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা কর্মসূচি চালু হওয়ার প্রথম মাসেই কর্মসংস্থান তৈরিতে বড়সড় পতন দেখা গেল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই মাসে গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে।

দু’দশকের পুরনো মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প বা মনরেগার পরিবর্তে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে চালু হয়েছে বিকশিত ভারত—গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বা ভিবি-জি র‌্যাম জি। কিন্তু নতুন ব্যবস্থার প্রথম মাসের পরিসংখ্যানই গ্রামীণ কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

৯ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ভিবি-জি র‌্যাম জি প্রকল্পের আওতায় মোট ৭.৬৭ কোটি ব্যক্তি-কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মনরেগার অধীনে তৈরি হয়েছিল ১৫.৩৩ কোটি ব্যক্তি-কর্মদিবস। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কর্মসংস্থান কমেছে ৪৯.৯৪ শতাংশ

‘ব্যক্তি-কর্মদিবস’ হল কর্মসংস্থান পরিমাপের একটি একক। একজন ব্যক্তি এক দিনে নির্ধারিত পরিমাণ কাজ করলে তাকে একটি ব্যক্তি-কর্মদিবস হিসেবে গণনা করা হয়।

তবে সরকারি তথ্যের মধ্যেই কিছু পার্থক্য রয়েছে। ভিবি-জি র‌্যাম জি-র তথ্যভান্ডারে জুলাই মাসে ৭.৬৭ কোটি ব্যক্তি-কর্মদিবসের কথা বলা হলেও কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের দাবি, নতুন প্রকল্প কার্যকর হওয়ার প্রথম মাসে প্রায় ৯ কোটি ব্যক্তি-কর্মদিবস তৈরি হয়েছে।

কাজ পাওয়া পরিবারের সংখ্যাও অর্ধেক

শুধু কর্মদিবস নয়, প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া পরিবারের সংখ্যাতেও প্রায় একই রকম পতন দেখা যাচ্ছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে ভিবি-জি র‌্যাম জি প্রকল্পে কাজ করেছেন ৬৮.৯৪ লক্ষ পরিবারের সদস্য। গত বছরের জুলাইয়ে মনরেগার আওতায় কাজ পাওয়া পরিবারের সংখ্যা ছিল ১.৪২ কোটি। অর্থাৎ এক বছরে প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া পরিবারের সংখ্যা কমেছে ৫১.৪৫ শতাংশ

আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গত পাঁচ বছরের মধ্যে জুলাই মাসে গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে কাজ পাওয়া পরিবার এবং তৈরি হওয়া ব্যক্তি-কর্মদিবস—দু’টির সংখ্যাই এবার সর্বনিম্ন।

আগের চার বছরের জুলাই মাসের হিসাব ধরলে গড়ে ১.৭২ কোটি পরিবার গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছিল। সেখানে চলতি জুলাইয়ে সংখ্যাটি মাত্র প্রায় ০.৬৮ কোটি। অর্থাৎ আগের চার বছরের গড়ের ৪০ শতাংশেরও কম।

একই ছবি ব্যক্তি-কর্মদিবসের ক্ষেত্রেও। আগের চার বছরে জুলাই মাসে গড়ে ২১.৫৬ কোটি ব্যক্তি-কর্মদিবস তৈরি হয়েছিল। এবারের জুলাইয়ে ৭.৬৭ কোটি ব্যক্তি-কর্মদিবস সেই গড়ের মাত্র প্রায় ৩৫ শতাংশ

পতনের প্রবণতা অবশ্য আগেই শুরু হয়েছিল

গ্রামীণ কর্মসংস্থানে এই নিম্নমুখী প্রবণতা একেবারে নতুন প্রকল্প চালুর সঙ্গে শুরু হয়েছে, এমন নয়।

২০২৫ সালের মার্চে মনরেগার অধীনে ১৭.৫৬ কোটি ব্যক্তি-কর্মদিবস তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালের মার্চে সংখ্যাটি ছিল ১৭.৬৯ কোটি। অর্থাৎ তখনই বার্ষিক হিসাবে ০.৭০ শতাংশ পতন হয়েছিল।

এর পর থেকে মাসিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় পতনের এই প্রবণতা চলতে থাকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। জুনই ছিল ইউপিএ আমলে চালু হওয়া মনরেগার শেষ মাস। জুলাই থেকে তার জায়গা নেয় ভিবি-জি র‌্যাম জি।

কিন্তু জুলাইয়ে পতনের মাত্রা প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ায় বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অনিয়মিত বর্ষার মধ্যে কর্মসংস্থান কমায় উদ্বেগ

এ বছরের অনিয়মিত বর্ষার প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের এই পতন আরও গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত দেশের ৭৪১টি জেলার মধ্যে ৫০ শতাংশ জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম থেকে অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাত হয়েছে

এই ধরনের পরিস্থিতিতে গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের গুরুত্ব সাধারণত বেড়ে যায়। কারণ কৃষিকাজ কমে গেলে বা বৃষ্টির অভাবে চাষের কাজ ব্যাহত হলে ভূমিহীন ও অদক্ষ কৃষিশ্রমিকদের কাছে সরকারি কর্মসংস্থান প্রকল্পই বিকল্প আয়ের অন্যতম প্রধান আশ্রয় হয়ে ওঠে।

অথচ ঠিক সেই সময়েই সরকারি প্রকল্পে তৈরি হওয়া কর্মদিবস প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে।

বেশি মজুরি, বেশি দিনের নিশ্চয়তা—তবু কাজ কম কেন

নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পে আগের তুলনায় বেশি মজুরি এবং বেশি দিনের কাজের সুযোগ রাখা হয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রথম মাসেই কর্মসংস্থান এতটা কমে যাওয়া গ্রামীণ অর্থনীতির পক্ষে উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

এর প্রভাব পড়তে পারে গ্রামাঞ্চলের চাহিদার উপরও। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির গতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে গ্রামীণ বাজারের চাহিদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মিত বর্ষার কারণে ইতিমধ্যেই খরিফ শস্যের আওতায় থাকা জমির পরিমাণ কমেছে। ফলে সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনের সামনেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষককল্যাণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত খরিফ ফসলের আওতায় জমির পরিমাণ ছিল ৮৯৪.২২ লক্ষ হেক্টর। গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯২০.৭২ লক্ষ হেক্টর। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে খরিফ চাষের আওতা কমেছে।

সূত্রের বক্তব্য, নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে কাজ কমে যাওয়ার একটি কারণ হতে পারে খরিফ ফসল বোনার মরসুমে প্রকল্পের কাজ সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা। তবে বীজ বোনার মরসুমে কোথায়, কত দিনের জন্য কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

কেন্দ্রের দাবি—রূপান্তর হয়েছে ‘মসৃণ ও নির্বিঘ্ন’

কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যানে এই বড় পতনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভিবি-জি র‌্যাম জি আইন, ২০২৫ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে দেশের সমস্ত গ্রামীণ এলাকায় নতুন কর্মসূচি সফল ভাবে কার্যকর হয়েছে।

ওই আধিকারিকের বক্তব্য, মনরেগা থেকে ভিবি-জি র‌্যাম জি-তে রূপান্তর হয়েছে ‘মসৃণ, নির্বিঘ্ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর’ পদ্ধতিতে। সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিজ নিজ প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে এবং কর্মসূচি শুরুর আগেই প্রশাসনিক ও ডিজিটাল পরিকাঠামো পুরোপুরি চালু করা হয়েছিল। ফলে প্রথম দিন থেকেই নতুন প্রকল্প কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে।

কেন্দ্রের আরও দাবি, প্রকল্প যাতে কোনও বাধা ছাড়াই চালানো যায়, তার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৯৫,৬৯২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। গ্রামীণ কর্মসংস্থান কর্মসূচির ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ।

‘কাজ চাওয়া ৯৮ শতাংশের বেশি পরিবারকে কাজের প্রস্তাব’

গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের আধিকারিক বলেছেন, সেই কারণেই গোটা দেশে প্রকল্পটি কার্যকর ভাবে চলছে।

তাঁর দাবি, যে সব গ্রামীণ পরিবার কাজের দাবি জানিয়েছে, তাদের ৯৮ শতাংশেরও বেশি পরিবারকে কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে

নতুন প্রকল্প চালু হওয়ার প্রথম মাসে প্রায় ৯ কোটি ব্যক্তি-কর্মদিবস তৈরি হয়েছে বলেও মন্ত্রকের দাবি। যদিও প্রকল্পের তথ্যভান্ডারে জুলাই মাসের ব্যক্তি-কর্মদিবসের সংখ্যা ৭.৬৭ কোটি দেখানো হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় কর্মীদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করার জন্য এনএমএমএস ব্যবস্থায় মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকৃত সমস্যার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্যতিক্রমী ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, কাজের দাবি অনুসারে ১.৩৩ কোটিরও বেশি গ্রামীণ শ্রমিককে কর্মসংস্থানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে নয় লক্ষেরও বেশি সক্রিয় কর্মস্থলে কাজ চলছে। সরকারের মতে, এর ফলে কাজের পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মহিলাদের অংশগ্রহণ ৬৩ শতাংশ

নতুন প্রকল্পে মহিলাদের অংশগ্রহণের পরিসংখ্যানকেও বিশেষ ভাবে তুলে ধরেছে কেন্দ্র।

গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের আধিকারিক জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তৈরি হওয়া মোট ব্যক্তি-কর্মদিবসের প্রায় ৬৩ শতাংশই মহিলাদের কাজের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে

আইন অনুযায়ী মহিলাদের অংশগ্রহণের ন্যূনতম সীমা এক-তৃতীয়াংশ। অর্থাৎ মোট কর্মসংস্থানের অন্তত ৩৩ শতাংশ মহিলাদের জন্য হওয়া প্রয়োজন। সরকারের দাবি, বাস্তবে মহিলাদের অংশগ্রহণ সেই বাধ্যতামূলক সীমার প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে।

কৃষির ব্যস্ত মরসুমে কাজ বন্ধ রাখার বিধান

তবে নতুন আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, কৃষিকাজের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ে গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের কাজ সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার সুযোগ।

মন্ত্রকের আধিকারিক জানিয়েছেন, ভিবি-জি র‌্যাম জি আইনের সমস্ত বিধানই ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বীজ বোনা এবং ফসল কাটার ব্যস্ততম মরসুমকে চিহ্নিত করার বিধান

স্থানীয় কৃষি ও জলবায়ুগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজ্যগুলিই এই সময়কাল নির্ধারণ ও কার্যকর করছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, একটি অর্থবর্ষে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ দিন এমন সময় হিসেবে নির্ধারণ করা যেতে পারে, যখন কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের অধীনে কাজ দেওয়া হবে না। এই ৬০ দিন মূলত বীজ বোনা ও ফসল কাটার সবচেয়ে ব্যস্ত সময়কে অন্তর্ভুক্ত করবে।

এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হল সরকারি কর্মসংস্থান প্রকল্পের কারণে যাতে কৃষির ব্যস্ত মরসুমে খেতমজুরের ঘাটতি তৈরি না হয়।

১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা

একই সঙ্গে নতুন প্রকল্পে আগের মনরেগার তুলনায় বছরে নিশ্চিত কর্মসংস্থানের দিনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

মনরেগায় একটি গ্রামীণ পরিবারকে একটি অর্থবর্ষে সর্বোচ্চ ১০০ দিনের মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া হত। ভিবি-জি র‌্যাম জি-তে সেই সীমা বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে।

অর্থাৎ কাগজে-কলমে নতুন ব্যবস্থায় একটি পরিবার বছরে আগের তুলনায় ২৫ দিন বেশি কাজ পাওয়ার অধিকারী।

কিন্তু তার পাশাপাশি ৬০ দিনের কৃষি-মরসুমে কাজ বন্ধ রাখার বিধানও রয়েছে। ফলে বাস্তবে কাজের চাহিদা, কাজের প্রস্তাব এবং শেষ পর্যন্ত কত ব্যক্তি-কর্মদিবস তৈরি হচ্ছে—এই তিনটির মধ্যে সম্পর্কই নতুন প্রকল্পের কার্যকারিতা বিচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হয়ে উঠছে।

কেন্দ্রের নজরদারির দাবি

কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রকল্পের বাস্তবায়নের উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের পরিদর্শন, নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক, প্রযুক্তিনির্ভর তথ্যভান্ডার এবং মাঠপর্যায়ের প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কিন্তু প্রথম মাসের সরকারি পরিসংখ্যান সামনে আসার পরে মূল প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে—১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা, রেকর্ড বাজেট বরাদ্দ এবং কাজ চাওয়া ৯৮ শতাংশের বেশি পরিবারকে কাজের প্রস্তাব দেওয়ার সরকারি দাবি সত্ত্বেও বাস্তবে ব্যক্তি-কর্মদিবস গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক হয়ে গেল কেন?

বিশেষত এমন একটি বছরে এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ, যখন দেশের প্রায় অর্ধেক জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে এবং খরিফ চাষও চাপের মুখে। কৃষিকাজে কর্মসংস্থান কমলে যে গ্রামীণ শ্রমিকেরা সরকারি কর্মসংস্থান প্রকল্পের দিকে ফিরে আসেন, তাঁদের কাছে প্রকল্পটি কতটা কার্যকর সুরক্ষা হয়ে উঠতে পারছে, আগামী কয়েক মাসের পরিসংখ্যানেই তার স্পষ্ট উত্তর মিলবে।