লোকসভায় বিরোধীদের তুমুল বিক্ষোভের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর বিল পাস করাল কেন্দ্রীয় সরকার। বিচারব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান মামলার জট কমানো এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে বলে সরকারের দাবি। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ আইন নিয়ে যথাযথ আলোচনা এড়িয়ে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিল পাশ করাচ্ছে।
বিল অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে অন্যান্য বিচারপতির সর্বোচ্চ সংখ্যা বর্তমান সীমার তুলনায় আরও বাড়ানো হবে। গত কয়েক বছরে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই চাপ সামলাতে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি জরুরি বলে আইন মন্ত্রকের বক্তব্য।
আইনমন্ত্রী লোকসভায় বিলটি উপস্থাপন করে বলেন, দ্রুত বিচার পাওয়া নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানো হলে একদিকে যেমন মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়বে, তেমনই সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিও আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে। তাঁর দাবি, এটি বিচারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
অন্যদিকে বিরোধী দলগুলির সাংসদরা বিলের বিরোধিতা করে বলেন, বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোই একমাত্র সমাধান নয়। তাঁদের মতে, নিম্ন আদালত ও হাই কোর্টে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ না হওয়ায় মামলার জট বাড়ছে। সেই সমস্যার সমাধান না করে শুধু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বাড়ালে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না।
বিরোধীদের আরও অভিযোগ, সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলাকালীন সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তাঁরা স্লোগান দেন, কিন্তু সেই পরিস্থিতির মধ্যেই বিলটি দ্রুত পাস করানো হয়েছে। এতে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তাঁদের দাবি।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি অবশ্যই ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে, তবে এর পাশাপাশি বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করা, আদালতের পরিকাঠামো উন্নত করা, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং নিম্ন আদালতগুলিতে শূন্যপদ পূরণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নচেৎ শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বাড়িয়ে বিচারব্যবস্থার সামগ্রিক সংকট দূর করা কঠিন হবে।
লোকসভায় বিলটি পাস হওয়ার পর সেটি এখন রাজ্যসভায় উত্থাপিত হবে। সেখানে অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধির পথ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশস্ত হবে। এই পদক্ষেপ বিচারব্যবস্থার দক্ষতা বাড়াতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।