Home খবর অসমে বন্যাদুর্গতদের পাশে হিমন্ত সরকার, ৬২,৬৯৬ পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা

অসমে বন্যাদুর্গতদের পাশে হিমন্ত সরকার, ৬২,৬৯৬ পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
18 views 3 minutes read
A+A-
Reset

অসমে ভয়াবহ বন্যার ধাক্কা সামলাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা তুলে দিল হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার। সোমবার রাজ্যের চারটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার ৬২,৬৯৬টি পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই অর্থ বন্যার পরে ঘরে ফেরার প্রাথমিক খরচ, প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা এবং বাড়িতে জমে থাকা কাদা-জল পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী, ত্রাণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জল নামার পরে মানুষের সামনে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাড়িঘর পরিষ্কার করা, নষ্ট হয়ে যাওয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আবার কেনা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে নগদ অর্থের প্রয়োজন। সেই কারণেই এই আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “ত্রাণসামগ্রী মানুষ পেয়েছেন। কিন্তু বাড়িতে ফিরে যাওয়া, প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা এবং বাড়িতে জমে থাকা কাদা পরিষ্কার করার জন্য নগদ অর্থ দরকার। সেই কথা মাথায় রেখেই প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।”

রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর জেলা। সেখানে ৩৫,২৮৯টি পরিবার এই আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। চরাইদেও জেলায় সহায়তা পৌঁছেছে ১৯,৮৮৩টি পরিবারের কাছে। গোলাঘাটে ২,৫৯৩টি এবং যোরহাটে ৪,৯২২টি পরিবারও এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে। সব মিলিয়ে প্রথম দফায় ৬২,৬৯৬টি পরিবার সরাসরি ব্যাঙ্ক হস্তান্তরের মাধ্যমে এই অর্থ পেয়েছে।

তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মোট ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৭৫ হাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই সরকার অতিরিক্ত পরিবারগুলির জন্যও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, আরও প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে পেলেই তাঁদের অ্যাকাউন্টেও একই পরিমাণ অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে নতুন তালিকা এবং ব্যাঙ্কের তথ্য পেলেই বাকি পরিবারগুলিকেও ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।”

অসমে প্রতি বছর বর্ষাকালে বন্যা একটি বড় সমস্যা। ব্রহ্মপুত্র এবং তার শাখানদীগুলির জলস্তর বেড়ে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বহু মানুষকে ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিতে হয় এবং কৃষিজমি, বাড়িঘর, রাস্তা ও অন্যান্য পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। চলতি বছরের বন্যাতেও বহু পরিবার দীর্ঘদিন নিজেদের বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল।

প্রশাসনের মতে, শুধুমাত্র খাদ্য বা ত্রাণসামগ্রী দিয়ে বন্যার পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে নগদ আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অর্থ দিয়ে মানুষ ঘর পরিষ্কার, গৃহস্থালির নষ্ট হয়ে যাওয়া সামগ্রী কেনা, ছোটখাটো মেরামতির কাজ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে পারবেন।

রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে দ্রুত অর্থ পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর ফলে মধ্যস্থতার সুযোগ কমছে এবং সহায়তা দ্রুত মানুষের হাতে পৌঁছাচ্ছে।

সরকারি মহলের মতে, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে প্রয়োজনে আরও পরিবারকে এই আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হবে বলেও জানিয়েছে অসম সরকার।

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles