বাংলাস্ফিয়ার: টানা ২৬ দিনের অনশন শেষ করলেন পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার ভোরে তিনি গুরগাঁওয়ের একটি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙেন। অনশন প্রত্যাহারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওয়াংচুক বলেন, বিভিন্ন শর্ত নিয়ে সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এবং দেশে সম্ভাব্য হিংসা এড়ানোর স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সোনম ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেছিলেন। তিনি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ক্ষুব্ধ ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এই কর্মসূচিতে বসেন। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

অনশন ভাঙার পর এক্স-এ (সাবেক টুইটার) করা পোস্টে ওয়াংচুক জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৬৫ জন সাংসদ তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিলেন। তিনি লেখেন, “বিভিন্ন শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর এবং দেশে সম্ভাব্য হিংসার কথা মাথায় রেখে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খুব শিগগিরই একটি ভিডিও বার্তায় আলোচনার শর্তগুলি বিস্তারিত জানাব।” একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আবেদন জানান, যেন কোনও পরিস্থিতিতেই হিংসার পথে না হাঁটা হয়।

সূত্রের দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দেওয়ার পরই অনশন প্রত্যাহারে সম্মত হন ওয়াংচুক। এর মধ্যে রয়েছে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা না করার প্রতিশ্রুতি এবং প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা সংস্কার ও জবাবদিহির বিষয়গুলি সংসদে আলোচনার আশ্বাস।

গত কয়েক সপ্তাহে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন।

ওয়াংচুকের অনশন দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। মেডিক্যাল ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, বেকারত্ব এবং শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন গত কয়েক সপ্তাহে আরও বিস্তৃত রূপ নেয়। দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনাও আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে।

তবে ওয়াংচুকের অনশন শেষ হলেও আন্দোলন থামছে না। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। তাঁর দাবি, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অনশন প্রত্যাহার করা হয়েছে, কিন্তু আন্দোলনের মূল দাবিগুলি এখনও পূরণ হয়নি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওয়াংচুকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারের তরফে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন, দ্রুত বিচার এবং প্রশাসনিক সংস্কারের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, শুধু আশ্বাস নয়, শিক্ষাব্যবস্থায় প্রকৃত সংস্কার ও দায় নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।