Table of Contents
ওয়াশিংটন: রাশিয়ার তেল কিনলেই এবার দিতে হতে পারে বড় মাশুল! ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে মার্কিন সেনেটে এগোল নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল। প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে থাকা দেশগুলির পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। সেই সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে ভারত ও চিন-সহ রাশিয়ার বড় জ্বালানি ক্রেতারা। ফলে রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা ভারতও ওয়াশিংটনের বাণিজ্যিক চাপের মুখে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার মার্কিন সেনেটে ৮৬-১২ ভোটে বিলটি পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার জন্য এগিয়ে যায়। ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ একই সময়ে ওয়াশিংটনে ছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিতে চাপ বাড়ানো এবং মস্কোর জ্বালানি রফতানি থেকে আয় কমানোই বিলটির অন্যতম লক্ষ্য।
বিলের নেপথ্যে প্রয়াত লিন্ডসে গ্রাহাম
বিলটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। ১১ জুলাই তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর নামেই সংশোধিত বিলটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়ার সরকারি আধিকারিক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও যুদ্ধ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের ওপর বাণিজ্যিক চাপ তৈরির ব্যবস্থাও রয়েছে।
লক্ষ্য একটাই—রাশিয়ার জ্বালানি রফতানির বাজার সংকুচিত করা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ চালানোর অর্থের জোগানে ধাক্কা দেওয়া।
রুশ তেলে ভারতের লাভ, এবার সেই পথেই চাপ?
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার জেরে রুশ অপরিশোধিত তেলের দাম তুলনামূলক কমে যায়। সেই সুযোগে ভারতীয় শোধনাগারগুলি রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনেছে। ফলে ভারত হয়ে উঠেছে রুশ তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা।
এবার সেই নির্ভরতার জায়গাটিই ওয়াশিংটনের চাপের কেন্দ্রে। বিলটি কার্যকর হলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে রুশ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলির ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা আসতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যের ওপর।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই মুহূর্তে ভারতের ওপর কোনও ১০০ শতাংশ শুল্ক বসেনি। বিলটি এখনও আইনে পরিণত হয়নি এবং পরবর্তী ধাপে সেনেটের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে যেতে হবে। শেষ পর্যন্ত আইন কার্যকর করতে প্রেসিডেন্টের অনুমোদনও প্রয়োজন।
ভারতের জন্য কি ছাড়ের রাস্তা থাকবে?
বিলটি আইনে পরিণত হলেও ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অবধারিত—এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ মার্কিন প্রশাসন একদিকে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে, অন্যদিকে ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবেও দেখে।
তার ওপর সংশোধিত প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টের হাতে শুল্ক সংক্রান্ত কিছুটা নমনীয়তার সুযোগ রাখার বিষয়টিও রয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত ভারতকে কীভাবে এই আইনের আওতায় আনা হবে, তা নির্ভর করবে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার ওপর।
নয়াদিল্লির অবস্থান কী?
ভারত বরাবরই বলে এসেছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে প্রতিযোগিতামূলক দামে জ্বালানি পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই তেল কেনার নীতি বজায় রাখার কথা জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
ফলে নতুন মার্কিন বিল ভারতের জন্য শুধু বাণিজ্যিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও বড় পরীক্ষা হতে পারে। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের জ্বালানি সম্পর্ক, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব—দুই দিক সামলে চলাই এখন নয়াদিল্লির বড় চ্যালেঞ্জ।
রুশ তেল কেনার ‘সস্তার সুবিধা’ এবার কতটা দামি হয়ে উঠবে, তার উত্তর মিলবে বিলটির পরবর্তী রাজনৈতিক যাত্রাতেই।