International

আকাশে ছুরি, মাটিতে প্রশ্ন

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • মাঝআকাশে পাইলটের উপর ছুরি নিয়ে হামলা—তার পরই সামনে এল আরও বড় প্রশ্ন।
  • ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলার ঘটনায় কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
  • শুক্রবার তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্ত সহকারী পাইলট কারও নির্দেশে কাজ করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

মাঝআকাশে পাইলটের উপর ছুরি নিয়ে হামলা—তার পরই সামনে এল আরও বড় প্রশ্ন। ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলার ঘটনায় কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্ত সহকারী পাইলট কারও নির্দেশে কাজ করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, ইজরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা ওমানের নাগরিক এক পাইলট কী ভাবে তেল আভিভগামী বিমানের ককপিটে পৌঁছলেন?

ঘটনাটি ৩০ সেপ্টেম্বরের। দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩। অভিযোগ, মাঝআকাশে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন তাঁর সহকারী পাইলট। হামলার পর বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলে দেন। পরে যাত্রী ও বিমানকর্মীরা অভিযুক্তকে কাবু করেন। অন্য পাইলটদের সহায়তায় সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করানো সম্ভব হয়। বড় বিপর্যয় এড়ানো যায়।

কিন্তু বিমান মাটিতে নামার পর শুরু হয়েছে অন্য তদন্ত।

নেতানিয়াহুর দাবি, অভিযুক্ত ওমানি সহকারী পাইলট উগ্র ইসলামপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন। তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য থেকে এমন ইঙ্গিত মিলেছে বলেও জানিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তবে এর আগে বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, তদন্তকারীরা তখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছননি। ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য এবং তদন্তে প্রতিষ্ঠিত তথ্যকে এক করে দেখার অবকাশ নেই। অভিযুক্তের উদ্দেশ্য কী ছিল, আগাম পরিকল্পনা ছিল কি না, কারও সহযোগিতা বা নির্দেশ ছিল কি না—একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও বাকি।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই ঘিরে। নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, ইজরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এমন দেশের পাইলটদের বিমান নিয়ে ইজরায়েলে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। ওমানের সঙ্গে ইজরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই। তা হলে অভিযুক্ত পাইলট কী ভাবে এই রুটে দায়িত্ব পেলেন? নিয়ম থাকলে সেটি কার্যকর করার ব্যবস্থাতেই কি কোনও ফাঁক ছিল? তদন্তে এখন সেই দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

‘দ্য টাইমস অব ইজরায়েল’ চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একাধিক ওমানি পাইলট তেল আভিভে বিমান নিয়ে গিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনের দাবি, সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার দায়িত্ব কার্যত বিদেশি বিমানসংস্থাগুলির উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত বিমানসংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিলেও ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলটদের জাতীয়তা আলাদা করে যাচাই করা হয়নি বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইজরায়েলের পরিবহণ মন্ত্রকের বক্তব্য অবশ্য কিছুটা অন্য ছবি দিচ্ছে। তাদের দাবি, ফ্লাইদুবাই সম্পর্কে শিন বেত কোনও নির্দিষ্ট নিরাপত্তা-ঝুঁকির সতর্কবার্তা দেয়নি; শুধু মালপত্র পরীক্ষায় বাড়তি নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে পরিবহণ মন্ত্রক এবং বিমানকর্মীদের প্রবেশ তদারকির ব্যবস্থার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে। অর্থাৎ প্রশ্নটা শুধু একজন পাইলটকে ঘিরে নয়—নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক স্তর নিয়েই তদন্তের মুখে পড়ছে।

এর পরেই ইজরায়েল জানিয়েছে, দেশে আসা বিমানের পাইলটদের পরিচয় ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই আরও কঠোর করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান বলেছেন, কোন পাইলট ইজরায়েলে বিমান নিয়ে আসছেন, তা কর্তৃপক্ষের জানা প্রয়োজন। দেশি-বিদেশি উভয় বিমানসংস্থার ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু। অর্থাৎ নজরদারি শুধু ওমানি পাইলটদের ঘিরে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়নি।

এ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও ঘটনার পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। সন্ত্রাসের যোগ, আগাম পরিকল্পনা কিংবা বাইরের কারও নির্দেশ ছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ফ্লাইদুবাইয়ের প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, সংস্থা তদন্তে সহযোগিতা করছে এবং প্রকৃত তথ্য সামনে আনতে তদন্তকারীদের সময় দেওয়া প্রয়োজন।

এই ঘটনায় তাই একই সঙ্গে দু’টি গল্প চলছে। এক দিকে মাঝআকাশে হামলার পর যাত্রী ও বিমানকর্মীদের তৎপরতায় বড় বিপর্যয় এড়ানোর ঘটনা। অন্য দিকে, নিরাপত্তার একাধিক স্তর পেরিয়ে অভিযুক্ত পাইলট কী ভাবে ওই বিমানের ককপিটে পৌঁছলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন।

শেষ উত্তর তদন্তেই। পাইলটের জাতীয়তা জানা ছিল কি না, পরিচয় যাচাইয়ের পরও কী ভাবে দায়িত্ব দেওয়া হল, নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে কী তথ্য ছিল এবং হামলার পিছনে একা অভিযুক্তই ছিলেন কি না—প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সম্ভাবনাকেই প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে একটি বিষয় ইতিমধ্যেই স্পষ্ট: বিমানটি তাবুকে নিরাপদে নামলেও, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন এখনও আকাশেই ঝুলে রয়েছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles