রুশ জাহাজ আটকালে ‘জবাব’ ইউরোপকেও, হুঁশিয়ারি পুতিনের

যা জানা জরুরি
- রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করা হলে পাল্টা ইউরোপীয় দেশগুলির জাহাজও দখল করা হবে—সরাসরি এমন হুঁশিয়ারি দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
- ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে রাশিয়া ও ইউরোপের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা-লড়াই এ বার সমুদ্রপথে আরও বিপজ্জনক সংঘাতে গড়াতে পারে বলে তাঁর বক্তব্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
- বুধবার রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে বড় মাপের নৌ-মহড়া পরিদর্শনের সময় পুতিন বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলি রুশ বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করতে শুরু করলে মস্কোও একই পদ্ধতিতে জবাব দেবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করা হলে পাল্টা ইউরোপীয় দেশগুলির জাহাজও দখল করা হবে—সরাসরি এমন হুঁশিয়ারি দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে রাশিয়া ও ইউরোপের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা-লড়াই এ বার সমুদ্রপথে আরও বিপজ্জনক সংঘাতে গড়াতে পারে বলে তাঁর বক্তব্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বুধবার রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে বড় মাপের নৌ-মহড়া পরিদর্শনের সময় পুতিন বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলি রুশ বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করতে শুরু করলে মস্কোও একই পদ্ধতিতে জবাব দেবে। যে জায়গায় রুশ জাহাজ আটক করা হবে, পাল্টা ব্যবস্থা যে শুধুমাত্র সেই জলসীমাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
পুতিনের বক্তব্য, রাশিয়া যেখানে উপযুক্ত মনে করবে, সেখানেই সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় দেশের জাহাজ আটক করতে পারে। এমনকি প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের আওতাধীন এলাকাতেও পাল্টা অভিযান চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি।
রুশ প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার নামে পশ্চিমী দেশগুলি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করছে। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজে তল্লাশি চালানো বা সেগুলি আটকের ঘটনাকে তিনি ‘জলদস্যুতা’ ও ‘দস্যুবৃত্তি’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ চলতে থাকলে মস্কোকেও ‘সমান জবাব’ দিতে হবে।
ইউরোপের সঙ্গে রাশিয়ার এই সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে তথাকথিত ‘ছায়া নৌবহর’। ইউরোপীয় দেশগুলির অভিযোগ, পুরনো তেলবাহী জাহাজ, অস্বচ্ছ মালিকানা কাঠামো, তৃতীয় দেশের পতাকা এবং জটিল কোম্পানি-জালের সাহায্যে রাশিয়া এমন একটি নৌবহর তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা ও রুশ তেলের মূল্যসীমা এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় দেশগুলির দাবি, এই তেল বিক্রির অর্থ শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় সাহায্য করছে। তাই ছায়া নৌবহরের উপর চাপ বাড়াতে গত কয়েক মাসে একাধিক নিষেধাজ্ঞা ও নজরদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে। নতুন ব্যবস্থায় নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা জাহাজ আটক করা এবং সেগুলি থেকে বাজেয়াপ্ত তেল বা অন্য পণ্য বিক্রির সুযোগ সদস্য দেশগুলিকে দেওয়া হয়েছে। ব্রিটেন ও ফ্রান্সও রাশিয়ার কথিত ছায়া নৌবহরের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে।
অন্য দিকে, মস্কোও বসে নেই। নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে সুরক্ষা দিতে রুশ নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে। রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের প্রধান অ্যাডমিরাল ভিক্টর লিনা জানিয়েছেন, ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশের জাহাজ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে আটক করার সক্ষমতা তাঁদের রয়েছে। বিশেষ করে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নামও তিনি উল্লেখ করেছেন।
এখানেই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এত দিন ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমের সংঘাতের প্রধান অস্ত্র ছিল নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক চাপ। কিন্তু রুশ জাহাজ আটক করা এবং তার পাল্টা ইউরোপীয় জাহাজ দখলের হুমকি সেই লড়াইকে সরাসরি সমুদ্রপথে নিয়ে যেতে পারে।
কারণ কোনও বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যদি দুই দেশের নৌবাহিনী মুখোমুখি হয়, সামান্য ভুল বোঝাবুঝি থেকেও পরিস্থিতি দ্রুত সামরিক সংঘর্ষে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে বাল্টিক সাগর থেকে শুরু করে আটলান্টিক এবং প্রশান্ত মহাসাগর—বিভিন্ন জলপথে রুশ ও পশ্চিমী স্বার্থের সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমী জাহাজ আটক করার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে মস্কো প্রশান্ত মহাসাগরকেও বিবেচনায় রাখছে।
অর্থাৎ ইউক্রেন যুদ্ধের নিষেধাজ্ঞা-লড়াই এখন আর শুধু অর্থনীতি বা কূটনীতির টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই। সমুদ্রপথে এক পক্ষের জাহাজ আটকালে অন্য পক্ষের জাহাজও ‘জবাব’ হিসেবে আটকে দেওয়ার হুমকি—বিশ্ব বাণিজ্যের নিরাপত্তার জন্য সেটিই হয়ে উঠছে নতুন উদ্বেগ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



