১০ ডাউনিং স্ট্রিটে এবার গৌতমের ‘গেমচেঞ্জার’ ভূমিকা

যা জানা জরুরি
- ব্রিটিশ প্রশাসনের ক্ষমতার কেন্দ্র ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কৌশলবিদ ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ গৌতম রঙ্গরাজন।
- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম তাঁকে ‘কাঠামো ও প্রক্রিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা’ হিসেবে নিয়োগ করেছেন।
- সদ্য তৈরি এই পদে চলতি সপ্তাহেই দায়িত্ব নিচ্ছেন বিবিসির প্রাক্তন কৌশলবিদ রঙ্গরাজন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ব্রিটিশ প্রশাসনের ক্ষমতার কেন্দ্র ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কৌশলবিদ ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ গৌতম রঙ্গরাজন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম তাঁকে ‘কাঠামো ও প্রক্রিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা’ হিসেবে নিয়োগ করেছেন। সদ্য তৈরি এই পদে চলতি সপ্তাহেই দায়িত্ব নিচ্ছেন বিবিসির প্রাক্তন কৌশলবিদ রঙ্গরাজন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, কর্পোরেট কৌশল নির্ধারণ এবং বড় প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রঙ্গরাজনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর নির্দিষ্ট দায়িত্বের পূর্ণ পরিধি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রশাসনের কাজের পদ্ধতি বদলে দিতে বার্নহাম যে বৃহত্তর সংস্কার পরিকল্পনা নিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে রঙ্গরাজনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বার্নহামের প্রশাসনিক ভাবনায় বিকেন্দ্রীকরণ ও সরকারি ব্যবস্থার পুনর্গঠন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই তিনি লন্ডনকেন্দ্রিক প্রশাসনিক কাঠামো বদলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাতে আরও ক্ষমতা তুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ম্যানচেস্টারে খোলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন দফতর—‘নম্বর ১০ নর্থ’।
অর্থাৎ ব্রিটিশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ শুধু লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সরকারি কাজ পরিচালনার সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
ইতিমধ্যে পূর্বসূরি কিয়ের স্টার্মারের আমলের প্রশাসনিক কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তন এনেছেন বার্নহাম। ব্যবসা ও বাণিজ্য দফতরের পরিধি বাড়িয়ে তার নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ব্যবসা, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য দফতর। পাশাপাশি তৈরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার নতুন কার্যালয়। এর আওতায় থাকবে ডাউনিং স্ট্রিট, ‘নম্বর ১০ নর্থ’ এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাকে সরাসরি সহায়তা করা বিভিন্ন দল।
এত বড় সাংগঠনিক পরিবর্তন যাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা সমন্বয়ের অভাবে থমকে না যায়, সেটিই রঙ্গরাজনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হতে পারে।
বিবিসি থেকেই প্রশাসনের কেন্দ্রে
গৌতম রঙ্গরাজনের পেশাগত যাত্রা শুরু হয়েছিল রাজনীতি বা প্রশাসন দিয়ে নয়, সঙ্গীতের জগৎ থেকে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সঙ্গীতে স্নাতক হওয়ার পর ১৯৯৩ সালে তিনি বিবিসি রেডিয়োর ধ্রুপদি সঙ্গীত বিভাগে শিক্ষানবিশ প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন।
সেখান থেকে ধীরে ধীরে উঠে আসেন রেডিয়ো থ্রির প্রযোজক ও কার্যনির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্বে। ২০০৩ সালে বিবিসির কৌশল নির্ধারণ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর একে একে সংস্থার কৌশল বিভাগের প্রধান, কর্পোরেট স্ট্র্যাটেজির নিয়ন্ত্রক এবং কৌশল ও কর্মসম্পাদন বিভাগের গোষ্ঠী-পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গণমাধ্যম, সৃজনশীল শিল্প এবং জনপরিষেবা সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে রঙ্গরাজনের অভিজ্ঞতার পরিধিও যথেষ্ট বিস্তৃত। পরিবর্তনশীল বাজার, দর্শক-শ্রোতার রুচির বদল এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল তৈরি করাই তাঁর অন্যতম দক্ষতা।
বড় প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন, আর্থিক চাপ সামলানো এবং সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। ফলে ব্রিটিশ প্রশাসনের কাঠামো ঢেলে সাজানোর মতো জটিল দায়িত্বে তাঁর কর্পোরেট ও গণমাধ্যম অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে রঙ্গরাজনের পরিচয় শুধু কর্পোরেট কৌশলবিদ হিসেবে নয়। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি একজন কোরাস-সঙ্গীতশিল্পী এবং সঙ্গীত প্রযোজকও।
বিবিসির কৌশল নির্ধারণের ঘর থেকে এবার সরাসরি ১০ ডাউনিং স্ট্রিট—গৌতম রঙ্গরাজনের নতুন দায়িত্ব তাই নিছক একটি সরকারি নিয়োগ নয়। ব্রিটিশ প্রশাসনের কাঠামো বদলের বড় পরীক্ষায় তাঁর কৌশলী মস্তিষ্ক কতটা কাজে আসে, এখন নজর সেদিকেই।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



