টিকিট ছাড়াই বাদুড়!

যা জানা জরুরি
- স্কটল্যান্ডে গ্লাসগোগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের কামরায় হঠাৎ ঢুকে পড়ে একটি বাদুড়।
- ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ভিডিয়োয় দেখা যায়, প্রাণীটি কামরার ভিতর বারবার উড়ছে আর যাত্রী ও কর্মীরা তাকে নিরাপদে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
- বাদুড়টি ট্রেনে উঠল কীভাবে, তা অবশ্য জানা যায়নি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ট্রেনে উঠেছে এক যাত্রী। টিকিট নেই, আসনও নেই। তার উপর গন্তব্যও বোধহয় জানা নেই। স্কটল্যান্ডে গ্লাসগোগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের কামরায় হঠাৎ ঢুকে পড়ে একটি বাদুড়। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ভিডিয়োয় দেখা যায়, প্রাণীটি কামরার ভিতর বারবার উড়ছে আর যাত্রী ও কর্মীরা তাকে নিরাপদে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বাদুড়টি ট্রেনে উঠল কীভাবে, তা অবশ্য জানা যায়নি। স্টেশনে খোলা দরজা দিয়ে ঢুকে পড়া, জানালা দিয়ে প্রবেশ করা কিংবা যাত্রার আগেই ট্রেনের কোনও ফাঁকা জায়গায় আশ্রয় নেওয়া—সবই সম্ভব। সন্ধ্যা বা রাতে পতঙ্গের পিছনে উড়তে গিয়ে বাদুড় কখনও ভবন বা যানবাহনের ভিতরেও ঢুকে পড়তে পারে।
দৃশ্যটি দেখে যাত্রীরা আতঙ্কিত হলেও বাদুড় সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করতে চায় না। বন্ধ কামরায় বেরোনোর পথ খুঁজতে গিয়ে তার উড়ান এলোমেলো হয়ে যায় এবং সেটি মানুষের খুব কাছাকাছি চলে আসতে পারে। তাই হাতে ধরে নামানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়—কামড় বা আঁচড়ের ঝুঁকি থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের প্রথম কাজ যাত্রীদের প্রাণীটি থেকে দূরে রাখা এবং নিরাপদ বেরোনোর পথ তৈরি করা। ট্রেন চলন্ত অবস্থায় দরজা বা জানালা খুলে বাদুড়কে তাড়ানোর চেষ্টা অবশ্যই নতুন বিপদ ডেকে আনতে পারে। প্রয়োজনে পরের স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারীর সাহায্য নেওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।
বাদুড়কে ঘিরে প্রচলিত কল্পকাহিনিও কম নয়। তারা অন্ধ নয়, মানুষের চুলে জড়িয়ে পড়ার জন্য উড়ে আসে না এবং অধিকাংশ প্রজাতি রক্ত খায় না। স্কটল্যান্ডের বাদুড়েরা মূলত পতঙ্গ খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কোনও বাদুড় অসুস্থ বা অস্বাভাবিক আচরণ করলে তাকে খালি হাতে স্পর্শ করা উচিত নয়।
ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই মজার মন্তব্যের বন্যা। টিকিট ছিল কি না, সে কোন স্টেশনে নামবে, এমনকি তার জন্য আলাদা কামরা দরকার কি না—প্রশ্নের শেষ নেই। তবে বাদুড়টির শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সীমিত। তাই তাকে নিশ্চিত ভাবে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করার উপায় নেই।
ঘটনার আসল হাস্যরস অবশ্য ‘বিনা টিকিটের যাত্রী’তে। সাধারণত ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রীকে ধরতে টিকিট পরীক্ষককে খুঁজতে হয়। এখানে যাত্রীটি বরং টিকিট পরীক্ষকের মাথার উপর দিয়েই উড়ে বেড়াচ্ছিল। তার অপরাধ আরও গুরুতর—গন্তব্যও সে নিজে জানত না!
প্রকৃতি মাঝে মাঝে রেলের সময়সূচি মানে না। তাই এমন ছোট বন্যপ্রাণী ট্রেনে ঢুকে পড়লে কামরা খালি করা, পরিষেবা সাময়িক থামানোর প্রয়োজন হলে কী করা হবে এবং কখন বিশেষজ্ঞকে ডাকা হবে—এসব নিয়ে স্পষ্ট প্রোটোকল থাকা কাজে আসতে পারে।
কারণ রেলপথের সব যাত্রী সময়সূচি দেখে ওঠে না। কেউ কেউ ডানা মেলেই হাজির হয়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



