International

কাগজে বিমানবাহিনী!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • এক ঘণ্টায় ৪১৫টি কাগজের উড়োজাহাজ বানিয়েই নতুন গিনেস বিশ্বরেকর্ডের দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড রাশ।
  • হিসাব বলছে, প্রতিটি উড়োজাহাজের জন্য তাঁর হাতে ছিল গড়ে নয় সেকেন্ডেরও কম সময়।
  • কাগজ নেওয়া, কোণ মেলানো, ভাঁজ করা এবং শেষ ভাঁজটিতে চাপ দেওয়া—সবই সেই সময়ের মধ্যে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বিমানবন্দরে যেতে হয়নি, রানওয়েও লাগেনি। এক ঘণ্টায় ৪১৫টি কাগজের উড়োজাহাজ বানিয়েই নতুন গিনেস বিশ্বরেকর্ডের দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড রাশ। হিসাব বলছে, প্রতিটি উড়োজাহাজের জন্য তাঁর হাতে ছিল গড়ে নয় সেকেন্ডেরও কম সময়। কাগজ নেওয়া, কোণ মেলানো, ভাঁজ করা এবং শেষ ভাঁজটিতে চাপ দেওয়া—সবই সেই সময়ের মধ্যে।

রাশ অবশ্য দ্রুত ভাঁজ করার জগতে নতুন নন। তাঁর নামে রয়েছে দুই শতাধিক বিশ্বরেকর্ড। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে তিনি জাগলিং, ভারসাম্য, কাগজ ভাঁজ এবং নানা দ্রুততার পরীক্ষা করেন। ফলে ৪১৫টি উড়োজাহাজের এই কীর্তি হঠাৎ কাগজ হাতে বসে যাওয়ার ফল নয়—এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘ অনুশীলন, পরিকল্পনা এবং রেকর্ডের জন্য প্রয়োজনীয় নথি তৈরি।

গিনেসের নিয়মও কম কড়া নয়। প্রতিটি উড়োজাহাজকে নির্দিষ্ট ন্যূনতম গঠন মেনে তৈরি হতে হয়। আগে থেকে ভাঁজ করা কাগজ ব্যবহার করা যায় না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি নজরের মধ্যে রাখতে হয়। স্বাধীন সাক্ষী, অবিচ্ছিন্ন ভিডিয়ো এবং শেষে মোট সংখ্যার প্রমাণও দিতে হয়। অর্থাৎ টেবিলে ৪১৫টি কাগজের বিমান সাজিয়ে বললেই হবে না—প্রতিটি বিমানকে জন্ম নিতে হবে ক্যামেরার সামনে।

তবে একটি মজার প্রশ্ন থেকেই যায়—সব কটি বিমান কি সুন্দর করে উড়েছে? এই রেকর্ডের ক্ষেত্রে সেটিই আসল পরীক্ষা নয়। এখানে লক্ষ্য উড়োজাহাজ ওড়ানো নয়, উড়োজাহাজ বানানোর গতি। তাই কারও বিমানের নাক আকাশের দিকে, কারও আবার মাটির দিকে—তাতেও রেকর্ডের মূল হিসাব বদলায় না, যতক্ষণ নির্ধারিত গঠন ঠিক থাকে।

এক ঘণ্টা শেষে রাশের সামনে নিশ্চয়ই তৈরি হয়েছিল ছোটখাটো কাগজের বিমানবাহিনী। পরিবেশের দিক থেকেও এর ক্ষতি তুলনামূলক কম—কাগজ পুনর্ব্যবহার করা যায়, আবার চাইলে এগুলি শিক্ষামূলক কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব। রাশ তাঁর বিশ্বরেকর্ডগুলিকে সাধারণত বিজ্ঞান, কৌতূহল এবং অধ্যবসায়ের কথা বলার মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহার করেন।

আসলে এই পরীক্ষায় শুধু হাতের গতি নয়, দরকার একটানা মনোযোগও। একটি ভাঁজ ভুল হলে সেটি বাদ দিতে হবে, আবার প্রতিটি বিমানকে নিখুঁত করতে গেলে গতি কমে যাবে। ফলে দেখতে যত সহজ, কাজটি ততটাই সূক্ষ্ম—নিখুঁত আর দ্রুতের মাঝখানে ঠিক জায়গাটা খুঁজে নিতে হয়।

মানুষের উড়ানের ইতিহাসে রাইট ভ্রাতৃদ্বয়কে বিমান বানাতে বছরের পর বছর পরীক্ষা করতে হয়েছিল। ডেভিড রাশ এক ঘণ্টায় বানালেন ৪১৫টি। অবশ্য সেই বিমানগুলিতে যাত্রী ওঠানোর পরিকল্পনা আপাতত না থাকাই ভালো। তুলনাটির মজাটাও সেখানেই।

বিশ্বরেকর্ডের সব কীর্তির হয়তো গভীর বৈজ্ঞানিক মূল্য নেই। কিন্তু একটি একেবারে সাধারণ কাজকে বারবার করে কীভাবে গতি, নির্ভুলতা ও দক্ষতা বাড়ানো যায়, এই ঘটনাটি তার মজার উদাহরণ। ৪১৫টি কাগজের বিমান হয়তো বেশি দূর উড়বে না, কিন্তু কৌতূহলটা একটু দূর পর্যন্ত উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles