সিনেমা

শনিবার আয় বাড়ল ‘দায়রা’র, তবু করীনার ছবির সামনে কঠিন পরীক্ষা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • দ্বিতীয় দিনে আয় বাড়ল, কিন্তু দুর্বল শুরুর ধাক্কা এখনও কাটেনি ‘দায়রা’র।
  • করীনা কপূর খান ও পৃথ্বীরাজ সুকুমারন অভিনীত মেঘনা গুলজারের ছবিটি শনিবার ভারতীয় বাজারে আনুমানিক ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা নিট আয় করেছে।
  • শুক্রবারের তুলনায় শনিবার বৃদ্ধি ষাট শতাংশ হলেও, টাকার অঙ্কে ছবিটির শুরু এখনও সংযত।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

দ্বিতীয় দিনে আয় বাড়ল, কিন্তু দুর্বল শুরুর ধাক্কা এখনও কাটেনি ‘দায়রা’র। করীনা কপূর খান ও পৃথ্বীরাজ সুকুমারন অভিনীত মেঘনা গুলজারের ছবিটি শনিবার ভারতীয় বাজারে আনুমানিক ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা নিট আয় করেছে। সংশোধিত হিসাবে প্রথম দিনের আয় এক কোটি টাকা। ফলে দু’দিনে মোট দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৬০ লক্ষ। শুক্রবারের তুলনায় শনিবার বৃদ্ধি ষাট শতাংশ হলেও, টাকার অঙ্কে ছবিটির শুরু এখনও সংযত।

১৮ সেপ্টেম্বর মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটির ব্যবসার এই হিসাব দিয়েছে চলচ্চিত্র-বাণিজ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা স্যাকনিল্ক। শনিবার গড় আসনভর্তির হার ছিল প্রায় ২০.৪৬ শতাংশ। সকালের প্রদর্শনীর তুলনায় বিকেল ও রাতে দর্শক বেড়েছে। বাণিজ্য-বিশ্লেষক তরণ আদর্শ জানিয়েছেন, প্রায় সাতশো প্রেক্ষাগৃহে তুলনামূলক সীমিত পরিসরে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। সপ্তাহান্তে একটি টিকিট কিনলে আর একটি পাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এই বৃদ্ধিকে এখনই ঘুরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত প্রমাণ বলা যাচ্ছে না। কারণ প্রথম দিনের ভিত্তি ছোট হলে পরের দিনের সামান্য বাড়তিও শতাংশের হিসাবে বড় দেখায়। আবার টিকিটের বিশেষ সুবিধা কতজন নতুন দর্শক টানছে, আর ছবির মুখে মুখে প্রচার কতটা কাজ করছে—দুইয়ের প্রভাবও একই অঙ্কে মিশে যায়। রবিবার এবং তার পরের কর্মদিবসগুলির আয় থেকে ছবিটির স্থায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

‘দায়রা’র কেন্দ্রে অপরাধের তদন্তের পাশাপাশি রয়েছে পুলিশি ক্ষমতার প্রশ্ন। করীনার চরিত্র তদন্তকারী আধিকারিক অজুনি কোহলি। পৃথ্বীরাজ অভিনয় করেছেন রমন কুমারের ভূমিকায়। একটি ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে গিয়ে দুই চরিত্র মুখোমুখি হয়। আইনরক্ষক নিজেই শাস্তিদাতার জায়গা নিলে ন্যায়বিচারের কী হয়, সেই অস্বস্তিকর প্রশ্নকে সামনে রেখেছে কাহিনি।

ছবির সমালোচনায় অবশ্য একরকম সাড়া মেলেনি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের শুভ্রা গুপ্ত পৃথ্বীরাজের সংযত অভিনয়ের প্রশংসা করলেও চিত্রনাট্যে করীনার চরিত্রের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, বিষয়টির নৈতিক জটিলতা যতটা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার সুযোগ ছিল, ছবি তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। এটি একজন সমালোচকের মূল্যায়ন; দর্শকের সামগ্রিক রায় কিংবা প্রেক্ষাগৃহের ব্যবসার সঙ্গে তাকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

ছবি মুক্তির আগে এক আলোচনায় মেঘনা জানিয়েছিলেন, অজুনি ও রমনকে পরস্পরের বিপরীত অথচ একে অপরের প্রয়োজন হয়, এমন দুটি চরিত্র হিসেবে লিখেছেন। মহিলা পুলিশ আধিকারিকের পরিচিত পর্দার ছক থেকে অজুনিকে সরিয়ে আনতে চেয়েছেন তিনি। শুধু পোশাক বা দেহভঙ্গি দিয়ে কঠোরতা বোঝানোর বদলে চরিত্রটির নিজের স্বভাবকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা ছিল।

করীনাও ওই আলোচনায় বলেন, দর্শকের কাছে একটি জনপ্রিয় চরিত্রের স্মৃতি থাকলেও অভিনেতাকে সেই পরিচয়ের মধ্যেই আটকে থাকলে চলে না। ‘চামেলি’ থেকে অন্য ধরনের চরিত্র বেছে নেওয়ার অভিজ্ঞতা টেনে তিনি জানান, এখন কাজের সংখ্যার চেয়ে মানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পৃথ্বীরাজের সঙ্গে তাঁর অভিনয়ের যুগলবন্দি তাই ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ।

একই আলোচনায় পৃথ্বীরাজ মালয়ালম চলচ্চিত্রের কাজের পরিবেশের সঙ্গে বলিউডের পার্থক্যও টেনেছিলেন। তাঁর মতে, বড় আয়োজনেও মালয়ালম ছবির কাজে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের জায়গা থাকে। কোনও অভিনেতাকে গল্প শোনাতে চাইলে সরাসরি কথা বলার অভ্যাস প্রক্রিয়াটিকে সহজ করে। এই মন্তব্য ‘দায়রা’র ব্যবসার ব্যাখ্যা নয়, তবে দুই চলচ্চিত্রজগতের শিল্পীদের একসঙ্গে কাজ করার প্রসঙ্গে তা প্রাসঙ্গিক। ছবিতে চরিত্র বাছাইয়ের সময় মেঘনাও আঞ্চলিক পরিচয়ের ছাপ এড়াতে চেয়েছিলেন। সেই ভাবনার ফল হিসেবেই করীনা ও পৃথ্বীরাজকে একই গল্পে এনে দাঁড় করিয়েছেন তিনি। এখন দর্শকের সামনে রয়েছে সেই নির্মাণ-পরিকল্পনার বাস্তব ফল।

তারকা, পরিচালক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—তিনটি উপাদানই ‘দায়রা’র পক্ষে ছিল। কিন্তু মুক্তির পর পরীক্ষাটি বদলে যায়: দর্শক আসছেন কি না, যাঁরা দেখছেন তাঁরা অন্যকে দেখতে বলছেন কি না। শনিবারের বৃদ্ধি নির্মাতাদের কিছু স্বস্তি দিয়েছে। এখন সেই স্বস্তিকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যবসায় বদলাতে হলে ছুটির দিনের বাইরেও দর্শক ধরে রাখতে হবে করীনা-পৃথ্বীরাজের ছবিকে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles