একমাত্র মহিলা প্রতিযোগী পরিচালকের হাতেই ভেনিসের সিংহ

যা জানা জরুরি
- ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান প্রতিযোগিতায় ২১টি ছবি ছিল।
- পরিচালক হিসেবে মহিলা ছিলেন মাত্র একজন—ডেনমার্কের মে এল-তুখি।
- শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর উৎসব শেষ হওয়ার সময় তাঁর ওম্যান আননোন ছবিই পেল শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের গোল্ডেন লায়ন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান প্রতিযোগিতায় ২১টি ছবি ছিল। পরিচালক হিসেবে মহিলা ছিলেন মাত্র একজন—ডেনমার্কের মে এল-তুখি। শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর উৎসব শেষ হওয়ার সময় তাঁর ওম্যান আননোন ছবিই পেল শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের গোল্ডেন লায়ন। ছবির প্রধান অভিনেত্রী মাটিল্ড আর্সেল পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর কোপা ভলপি। একটি ছবির দ্বৈত জয় শিল্পমূল্যের স্বীকৃতি; পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় লিঙ্গবৈষম্যের সংখ্যাটিকেও আরও দৃশ্যমান করেছে।
১২৪ মিনিটের ছবির কেন্দ্র মারি নামে এক তরুণী পরিচারিকা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে তিনি ধনী, বয়সে বড় এক বিপত্নীকের সঙ্গে বিয়ে করে গৃহকর্ত্রী হতে চলেছেন। কিন্তু যুদ্ধের সময় এক জার্মান সেনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। মুক্ত ডেনমার্কে সেই অতীত প্রকাশ পেলে নতুন সামাজিক অবস্থান ভেঙে যেতে পারে। নিজের জায়গা রক্ষা করতে মারি কত দূর যাবেন, কাহিনি সেই প্রশ্ন অনুসরণ করে।
এল-তুখি ছবিটিকে নারীর অদৃশ্যতা এবং নারীর শরীরকে রাজনৈতিক ক্ষেত্র বানানোর ইতিহাস হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। যুদ্ধ শেষ হলেও সামাজিক বিচার শেষ হয় না। সহযোগিতা, যৌনতা, শ্রেণি ও জাতীয় আনুগত্যের হিসাব নারীর শরীরের উপর লেখা হতে থাকে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা তখন রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের সঙ্গে সংঘর্ষে যায়।
প্রধান প্রতিযোগিতায় একমাত্র মহিলা পরিচালক হওয়ার বিষয়টি পুরস্কারের পরে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জুরির সভাপতি ম্যাগি জিলেনহল বলেছেন, পুরস্কার শিল্পমানের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছে। কথাটি প্রয়োজনীয়, তবে সংখ্যাগত সমস্যাও অস্বীকার করে না। একুশটির মধ্যে একটি ছবি মহিলা পরিচালকের হওয়া মানে প্রতিভার অভাব নয়; নির্বাচন, অর্থায়ন, প্রযোজনা এবং উৎসবের প্রবেশপথে দীর্ঘস্থায়ী অসমতা।
অন্য পুরস্কারগুলিও উৎসবের বৈচিত্র্য দেখিয়েছে। লি চ্যাং-ডংয়ের পসিবল লাভ পেয়েছে গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার। ইলিয়া খ্রঝানোভস্কি ডাউ-এর জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালক হয়েছেন। জন মালকোভিচ ওয়াইল্ড হর্স নাইন-এর জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা। গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইউভাল আব্রাহাম ও রাচেল জোরের নাজা পেয়েছে বিশেষ জুরি পুরস্কার।
উৎসবের জয় বাজারেও প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক পরিবেশনা, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি এবং পরবর্তী পুরস্কার-মরসুমে ওম্যান আননোন-এর সম্ভাবনা এখন বাড়বে। কিন্তু গোল্ডেন লায়ন মানে বাণিজ্যিক সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। ঐতিহাসিক, ড্যানিশ ভাষার এই ছবির দর্শক তৈরি করতে পরিবেশকদের আলাদা কাজ করতে হবে।
সবচেয়ে সংযত পাঠটি হল: এল-তুখির জয়কে ‘মহিলা পরিচালক হিসেবে ব্যতিক্রম’ বলে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়, আবার প্রতিযোগিতার অসম সংখ্যাটিও আড়াল করা যায় না। একটি শক্তিশালী ছবি পুরস্কার পেয়েছে; একই সঙ্গে উৎসবকে প্রশ্ন করা হয়েছে—পরের বার এমন প্রতিভা মাত্র একজন কেন থাকবে?
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



