সাজানো তারকা-ছবির আড়ালে ‘লালিসা’

যা জানা জরুরি
- টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অলওয়েজ লালিসা-র প্রথম প্রদর্শনে লিসাকে দেখতে ভিড় করেছিলেন বিপুল সংখ্যক অনুরাগী।
- কিন্তু পরিচালক সু কিমের তথ্যচিত্রটির ঘোষিত উদ্দেশ্য সেই উজ্জ্বল জনসমাগমের বিপরীত—কে-পপ শিল্পের নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রিত তারকা-ছবির আড়ালে লালিসা মানোবল নামের মানুষটিকে দেখা।
- ৯৭ মিনিটের ছবিটি ২০২৪ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত তাঁর জীবনের একটি পরিবর্তনশীল সময় অনুসরণ করেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অলওয়েজ লালিসা-র প্রথম প্রদর্শনে লিসাকে দেখতে ভিড় করেছিলেন বিপুল সংখ্যক অনুরাগী। কিন্তু পরিচালক সু কিমের তথ্যচিত্রটির ঘোষিত উদ্দেশ্য সেই উজ্জ্বল জনসমাগমের বিপরীত—কে-পপ শিল্পের নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রিত তারকা-ছবির আড়ালে লালিসা মানোবল নামের মানুষটিকে দেখা।
৯৭ মিনিটের ছবিটি ২০২৪ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত তাঁর জীবনের একটি পরিবর্তনশীল সময় অনুসরণ করেছে। ব্ল্যাকপিঙ্ক থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে লিসা একক সংগীতজীবন গড়ছিলেন। এই সময়ে তৈরি হয়েছে তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ একক অ্যালবাম অল্টার ইগো; তিনি অভিনয় করেছেন এইচবিও-র দ্য হোয়াইট লোটাস-এ এবং কোচেলায় একক পরিবেশনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। অর্থাৎ ছবির কাহিনি শুধু সফলতার তালিকা নয়, পরিচিত দলের নিরাপত্তার বাইরে শিল্পী হিসেবে নিজেকে আবিষ্কারের চেষ্টা।
কে-পপ শিল্পে প্রশিক্ষণ, নাচ, পোশাক, সামাজিক-মাধ্যম এবং প্রকাশ্য আচরণের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকে। তারকার ব্যক্তিগত জীবনও বিপণনের অংশ হয়ে যায়। সু কিম জানিয়েছেন, লিসার পরিবারের মানুষ এবং কাছের বন্ধুদের উপস্থিতি তাঁকে মঞ্চের বাইরের ব্যক্তিটিকে ধরতে সাহায্য করেছে। তবে ‘অন্তরঙ্গ’ তথ্যচিত্র বললেই সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত সত্য ধরে নেওয়া যায় না। শিল্পী, ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং পরিবেশকের অনুমতি ও সম্পাদনা-সীমা এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
লিসা থাইল্যান্ডে জন্মেছেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক তারকা হয়েছেন। তাঁর কর্মজীবনে ভাষা, দেশ ও শিল্পবাজারের একাধিক স্তর রয়েছে। সেই কারণে একক পরিচয়ের সন্ধানটি শুধু দল থেকে আলাদা হওয়ার গল্প নয়; বৈশ্বিক কে-পপে একজন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় শিল্পীর নিজের কণ্ঠ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নও।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লিসা আবার ব্ল্যাকপিঙ্কের কাজে যোগ দেন। দলটি তিন বছরেরও বেশি সময় পরে ডেডলাইন নামে নতুন ক্ষুদ্র অ্যালবাম প্রকাশ করেছে। ফলে তথ্যচিত্রটি কোনও স্থায়ী বিচ্ছেদের দলিল নয়। বরং দলীয় ও একক পরিচয় পাশাপাশি রেখে একজন শিল্পী কতটা স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেন, তার একটি নির্দিষ্ট সময়ের ছবি।
১২ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে তথ্যচিত্রটি মুক্তি পাওয়ার কথা। সেখানে দর্শককে দু’টি স্তর আলাদা করে দেখতে হবে। প্রথমটি লিসার পরিশ্রম, ভয় এবং শিল্পীসত্তার নথি। দ্বিতীয়টি তাঁর নতুন একক পরিচয়কে বাজারে প্রতিষ্ঠার প্রচার। দু’টি একই ছবিতে থাকতে পারে।
তারকা-তথ্যচিত্রের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হল, সেটি কি অস্বস্তিকর প্রশ্নও রাখে, নাকি পরিচ্ছন্ন জীবনী হয়ে থাকে। অলওয়েজ লালিসা সত্যিই মানুষটিকে দেখিয়েছে কি না, তার উত্তর ভিড় বা অনুরাগীর উচ্ছ্বাস নয়—ছবির অনুমোদিত আলোর বাইরে কতটা ছায়া দেখা যায়, তা নির্ধারণ করবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



