সিনেমা

বন্দুকের শব্দের ভিতরে শোক ও বিশ্বাস

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • মাহেরশালা আলিকে এই ছবিতে দেখা যাবে লতিফ নামে এক ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাড়াটে হত্যাকারীর ভূমিকায়।
  • স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে সন্তানদের রক্ষা ও মানুষ করার দায়িত্বও তাঁর।
  • ফলে ইয়োর মাদার ইয়োর মাদার ইয়োর মাদার বাইরে থেকে অ্যাকশন-থ্রিলার হলেও ভিতরে পিতৃত্ব, শোক, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং অনুপস্থিত মায়ের গল্প।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

মাহেরশালা আলিকে এই ছবিতে দেখা যাবে লতিফ নামে এক ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাড়াটে হত্যাকারীর ভূমিকায়। স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে সন্তানদের রক্ষা ও মানুষ করার দায়িত্বও তাঁর। ফলে ইয়োর মাদার ইয়োর মাদার ইয়োর মাদার বাইরে থেকে অ্যাকশন-থ্রিলার হলেও ভিতরে পিতৃত্ব, শোক, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং অনুপস্থিত মায়ের গল্প। ১৩ সেপ্টেম্বর টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির প্রদর্শনের পরে এই অস্বাভাবিক মিশ্রণটিই আলোচনায় এসেছে।

নামটি একটি ইসলামি হাদিসের উল্লেখ থেকে নেওয়া। সেখানে মানুষের যত্ন ও সম্মানের সর্বাধিক দাবিদার কে—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনবার মায়ের কথা বলা হয়, তার পরে বাবার। পরিচালক বাসাম তারিক এই ভাবনাকে ছবির নৈতিক কেন্দ্র করেছেন। তাঁর নায়ক দক্ষ যোদ্ধা, কিন্তু সন্তানদের জীবনে মায়ের শূন্যতা পূরণ করার ক্ষমতা কোনও অস্ত্র তাঁকে দেয় না।

তারিক ও আলির একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা আগে হয়েছিল মার্ভেলের ব্লেড প্রকল্পে। নানা বিলম্ব ও পরিবর্তনের মধ্যে সেই সহযোগিতা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে তাঁরা সম্পূর্ণ মৌলিক এই ছবিতে যুক্ত হন। ফলে বড় স্টুডিয়োর সুপারহিরো ছবির জন্য তৈরি শারীরিক প্রস্তুতি এবং অ্যাকশন-অভিজ্ঞতা এমন এক গল্পে ব্যবহার হয়েছে, যেখানে মুসলমান নায়কের বিশ্বাস শুধু পোশাক বা সংলাপের অলংকার নয়।

ছবিতে জন চো অভিনয় করেছেন টেক্সাসের এক প্রাক্তন সেনা, যিনি পরে ধর্মযাজক হয়েছেন। জিয়ানকার্লো এসপোসিতো, ট্রামেল টিলম্যান, আবুবকর আলি এবং টিফানি বুনও রয়েছেন। চরিত্রগুলিকে সরল নায়ক ও খলনায়কে ভাগ না করে তাঁদের নৈতিক দ্বিধা দেখানোর চেষ্টা করেছেন নির্মাতা। এতে অ্যাকশনের পরিচিত প্রতিশোধ-কাঠামোর পাশাপাশি বিশ্বাস, অপরাধ ও ক্ষমার প্রশ্ন আসে।

তারিকের আগের ছবি মোগল মোগলি এবং ধারাবাহিক বেইট-এ মুসলমান পরিচয়, শরীর ও সামাজিক শত্রুতার সম্পর্ক ছিল। নতুন ছবিতে সেই অনুসন্ধান আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ মুসলমান জীবনের দিকে বিস্তৃত হয়েছে। মূলধারার অ্যাকশন ছবিতে মুসলমান চরিত্র বহু দিন ধরে সন্দেহভাজন বা প্রতিপক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে একজন মুসলমান পুরুষ নিজেই কাহিনির দৃষ্টিকোণ—এটি ছবিটির শিল্পগত ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ায়।

তবে প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব দিয়ে ছবির সব দুর্বলতা আড়াল করা উচিত নয়। ধর্মীয় গভীরতা, পারিবারিক আবেগ এবং সহিংস বিনোদন—এই তিনটি স্তর কতটা স্বাভাবিকভাবে মিশেছে, সেটিই আসল পরীক্ষা। শুধু পরিচিত অ্যাকশন-ছকে নতুন পরিচয়ের নায়ক বসালে পরিবর্তন সীমিত থাকে। চরিত্রটির বিশ্বাস যদি তাঁর সিদ্ধান্ত, অপরাধবোধ ও পিতৃত্বকে সত্যিই বদলায়, তবেই ছবিটি ঘরানার ভিতরে নতুন ভাষা তৈরি করবে।

২৫ সেপ্টেম্বর আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা। তার আগে টরন্টোর প্রতিক্রিয়া একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে: দর্শনীয় মারামারির চেয়ে লতিফের সবচেয়ে কঠিন লড়াই সম্ভবত নিজের সন্তানদের সামনে তিনি কেমন মানুষ হয়ে থাকবেন, সেই প্রশ্নের সঙ্গে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles