ট্রাম্পের ভোট-তুলনা: নজির ভারত

যা জানা জরুরি
- ওয়াশিংটন: আমেরিকায় ভোট দিতে ছবিসহ পরিচয়পত্র এবং নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার দাবিতে ফের সরব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- নিজের প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা আইন’ দ্রুত পাশ করানোর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে এ বার ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরলেন তিনি।
- নিজের সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সম্প্রতি তাঁর প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বৈধ ছবিসহ পরিচয়পত্র ছাড়াই আমেরিকায়…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ওয়াশিংটন: আমেরিকায় ভোট দিতে ছবিসহ পরিচয়পত্র এবং নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার দাবিতে ফের সরব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা আইন’ দ্রুত পাশ করানোর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে এ বার ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরলেন তিনি।
নিজের সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সম্প্রতি তাঁর প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বৈধ ছবিসহ পরিচয়পত্র ছাড়াই আমেরিকায় কী ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ট্রাম্পের দাবি, ‘‘চলতি মাসের গোড়ায় ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনকে প্রশ্ন করেছিলেন— বৈধ ছবিসহ পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় নির্বাচন হয় কী ভাবে?’’
ভারতের নির্বাচনী পরিসংখ্যানও নিজের বক্তব্যের সমর্থনে টেনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রায় ৬৪ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক শতাংশেরও কম ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন এবং প্রত্যেক ভোটারকেই বৈধ ছবিসহ পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছে।
এই তথ্য সামনে রেখে কংগ্রেসের উদ্দেশে ট্রাম্পের বার্তা, ‘‘আমাদের এখনই সেভ আমেরিকা আইন পাশ করতে হবে।’’
‘সেভ আমেরিকা’-র পূর্ণ রূপ ‘সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি’। প্রস্তাবিত আইনে আমেরিকার কেন্দ্রীয় নির্বাচনের ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার আগে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। পাসপোর্ট, জন্মের শংসাপত্র কিংবা সরকার অনুমোদিত অন্য কোনও নথি নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হতে পারে।
শুধু তা-ই নয়, সারা দেশে ভোটদানের সময় ছবিসহ পরিচয়পত্র দেখানোর একটি অভিন্ন নিয়ম চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। ডাকযোগে ভোটের সুযোগও সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। করোনা অতিমারির সময় আমেরিকার একাধিক অঙ্গরাজ্যে এই ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছিল। ট্রাম্পের প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই সুযোগ অনেকটাই সংকুচিত হতে পারে।
দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প এই আইন পাশ করানোর জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। তাঁর যুক্তি, নির্বাচনী জালিয়াতি রুখতে ভোটারের পরিচয় এবং নাগরিকত্ব কঠোর ভাবে যাচাই করা জরুরি। অ-নাগরিকেরা ভোটার তালিকায় নাম তুলছেন এবং ভোট দিচ্ছেন— এমন অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন তিনি।
তবে ডেমোক্র্যাটদের পাল্টা যুক্তি, আমেরিকায় অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তাঁদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত নথিপত্রের বাধ্যবাধকতা তৈরি হলে প্রকৃত ভোটারদের একাংশই বিপাকে পড়তে পারেন। বিশেষ করে প্রবীণ, দরিদ্র, গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা এবং যাঁদের কাছে জন্মের শংসাপত্র বা পাসপোর্ট নেই, তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ভারতে ছবিসহ ভোটার পরিচয়পত্র ব্যবহৃত হলেও ভোটদানের সময় পরিচয় প্রমাণের জন্য নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত একাধিক বিকল্প নথিও গ্রহণ করা হয়। ফলে ভারতের ভোটব্যবস্থাকে আমেরিকার প্রস্তাবিত আইনের সঙ্গে হুবহু এক করে দেখা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।
তবে রাজনৈতিক বার্তাটি স্পষ্ট—ভারতের বিপুল ভোটারসংখ্যা ও পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থাকে সামনে রেখে নিজের ‘সেভ আমেরিকা আইন’-এর পক্ষে আরও জোরালো সওয়াল করলেন ট্রাম্প।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



