শেষ চাল, খটকা রইল

যা জানা জরুরি
- বিজয় সালগাঁওকরকে ঘিরে দর্শকের পুরনো প্রশ্নটাই আবার সামনে—এ বার কী ভাবে বাঁচবে সে?
- ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’ সেই কৌতূহলকেই ফের গল্পের কেন্দ্রে বসিয়েছে।
- অভিষেক পাঠকের পরিচালনায় অজয় দেবগনও ফিরেছেন পরিবারের জন্য যে কোনও সীমা পেরোতে প্রস্তুত বিজয়ের ভূমিকায়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বিজয় সালগাঁওকরকে ঘিরে দর্শকের পুরনো প্রশ্নটাই আবার সামনে—এ বার কী ভাবে বাঁচবে সে? ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’ সেই কৌতূহলকেই ফের গল্পের কেন্দ্রে বসিয়েছে। অভিষেক পাঠকের পরিচালনায় অজয় দেবগনও ফিরেছেন পরিবারের জন্য যে কোনও সীমা পেরোতে প্রস্তুত বিজয়ের ভূমিকায়। তবে প্রকাশিত সমালোচনাগুলির ছবিটা একেবারে একরঙা নয়। অভিনয়, গতি এবং উত্তেজনা প্রশংসা কুড়িয়েছে, কিন্তু রহস্যের সব সমাধান শেষ পর্যন্ত সমান বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারেনি।
দ্বিতীয় ছবির ঘটনার ছয় মাস পর শুরু নতুন অধ্যায়। পুত্রশোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি মীরা দেশমুখ। তাঁর স্বামী মহেশ ফের তদন্তের দরজা খুলতে চান। আর বিজয়ের সামনে এ বার হাজির ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার রাজবীর সিংহ তোমর—চরিত্রে জয়দীপ অহলাওয়াত। পুরনো তদন্তে বাদ পড়ে যাওয়া তথ্য খুঁড়ে বের করে বিজয়ের সাজানো বয়ানে ফাটল ধরানোই তাঁর লক্ষ্য। ফলে গল্প আবার ফিরে যায় আদালত, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং বিপন্ন পরিবারকে ঘিরে সেই পরিচিত গোলকধাঁধায়।
তবে পুরনো ছকে নতুন উত্তেজনা আনার চেষ্টা রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ কোনও কথা, কোনও ছোট্ট সূত্র কিংবা পার্শ্বচরিত্রের সামান্য উপস্থিতিও পরে গিয়ে অন্য অর্থ পেতে পারে। ‘সিনেমা এক্সপ্রেস’-এর পর্যালোচনায় এই দিকটির প্রশংসা করা হয়েছে। ছবিটি দর্শককে শুধু বসে বসে রহস্য দেখার সুযোগ দেয় না; সূত্র মনে রাখতে, অনুমান করতে এবং প্রয়োজনে নিজের ধারণা বদলাতেও বাধ্য করে।
অজয় দেবগন অবশ্য বিজয়ের চেনা সংযত ভঙ্গিই ধরে রেখেছেন। মুখে আবেগ কম, মাথায় হিসাব বেশি—এই স্থিরতাই এখনও চরিত্রটির সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তবে একাধিক পর্যালোচনায় নজর কেড়েছেন জয়দীপ অহলাওয়াত। রাজবীরের কর্তৃত্ব, চাপা হুমকি এবং আত্মবিশ্বাস পর্দায় আলাদা চাপ তৈরি করে। প্রকাশ রাজও আইনজীবীর ভূমিকায় সংঘাতকে আরও ধারালো করেছেন।
কিন্তু এখানেই ছবির বড় প্রশ্ন। রাজবীরকে যতটা ভয়ঙ্কর ও বুদ্ধিমান প্রতিপক্ষ হিসেবে তৈরি করা হয়, চিত্রনাট্য সব সময় তাঁর সেই বুদ্ধির যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারে না। অর্থাৎ বিজয়ের সামনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড় করানোর চেষ্টা আছে, কিন্তু তাঁর চালগুলির সব ক’টি সমান জোরালো হয়ে ওঠে না।
রহস্যের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা। চমক আছে, কিন্তু চমক মানেই যুক্তি নয়। ‘মানিকন্ট্রোল’-এর পর্যালোচনায় কয়েকটি সমাধানকে এমন পথ হিসেবে দেখা হয়েছে, যা কঠিন পরিস্থিতি থেকে গল্পকে সুবিধাজনক ভাবে বের করে আনে। ‘স্ক্রল’-এর আপত্তি আরও নির্দিষ্ট—আগের পর্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনাকে নতুন ভাবে ব্যাখ্যা করা এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া বিশ্বাসযোগ্যতায় ধাক্কা দেয়। ফলে মুহূর্তে দর্শক চমকে গেলেও, পরে ঘটনাগুলি পাশাপাশি বসালে কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়।
পারিবারিক আবেগের জায়গাতেও ছবিটি আগের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ে বলে মনে হয়েছে। বিজয়ের প্রতি দর্শকের টান শুধু তার বুদ্ধির জন্য নয়; স্ত্রী ও মেয়েদের বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টাও সেই আবেগের বড় অংশ। কিন্তু ‘ফিল্মিসসি’-র পর্যালোচনায় পরিবারের, বিশেষ করে বড় মেয়ের, তুলনামূলক কম গুরুত্ব পাওয়ার কথা উঠে এসেছে। ফলে বুদ্ধির লড়াই যত জমে, সম্পর্কের ভয়, অসহায়তা এবং পারিবারিক টান ততটাই আড়ালে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
তার পরেও ছবিটি একেবারে হাতছাড়া হয় না। প্রায় আড়াই ঘণ্টার গল্পে গতি ধরে রাখা, পরিচিত চরিত্রগুলিকে ফের কাজে লাগানো এবং জায়গামতো হাস্যরস উত্তেজনাকে একঘেয়ে হতে দেয় না। ‘সিনেমা এক্সপ্রেস’ আবহসংগীতের সংযত ব্যবহারেরও প্রশংসা করেছে। অর্থাৎ খুঁটিয়ে দেখলে অসংগতি চোখে পড়তে পারে, কিন্তু ছবি দেখার মুহূর্তে সেই খুঁত সব সময় উত্তেজনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।
শেষ পর্যন্ত ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’-এর অভিজ্ঞতা অনেকটাই নির্ভর করছে দর্শকের প্রত্যাশার উপর। বিজয়ের আরও একটি অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা, পুরনো চরিত্রদের প্রত্যাবর্তন এবং জমজমাট সমাপ্তি চাইলে ছবিতে তার উপাদান রয়েছে। কিন্তু প্রতিটি সূত্রের নিখুঁত হিসাব, প্রতিটি মোড়ের নির্ভুল যুক্তি এবং আগের দুই পর্বের মতো তীক্ষ্ণ রহস্য আশা করলে কিছুটা অস্বস্তি থেকেই যেতে পারে।
হিন্দুস্তান টাইমস ছবিটিকে পাঁচে তিন দিয়েছে; তাদের মতে, নাটকীয়তা থাকলেও আগের ছবিগুলির সেই জাদু পুরোপুরি ফিরে আসেনি। তাই বিজয়ের শেষ চাল দর্শককে শেষ পর্যন্ত খেলায় রাখে ঠিকই, কিন্তু সব চাল যে সমান নিখুঁত—সেখানেই রয়ে যায় খানিকটা খটকা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



