দেশ

সরকারে কংগ্রেস, রাস্তাতেও: কর্নাটকে প্রতিবাদই রাজনৈতিক অস্ত্র

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • কর্নাটকে ক্ষমতায় এসেও বিরোধী দলের মতো রাস্তায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস।
  • ২০২৩ সালের মে মাসে সরকার গঠনের পর থেকে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ, খাদ্যসুরক্ষা, রাজ্যপালের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকার অনিয়মের অভিযোগে বারবার পথে নেমেছেন দলের মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী…
  • প্রশাসন পরিচালনার পাশাপাশি এই প্রতিবাদ দলের কর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখার কৌশল হয়ে উঠেছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

কর্নাটকে ক্ষমতায় এসেও বিরোধী দলের মতো রাস্তায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস। ২০২৩ সালের মে মাসে সরকার গঠনের পর থেকে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ, খাদ্যসুরক্ষা, রাজ্যপালের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকার অনিয়মের অভিযোগে বারবার পথে নেমেছেন দলের মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী ও বিধায়কেরা। প্রশাসন পরিচালনার পাশাপাশি এই প্রতিবাদ দলের কর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখার কৌশল হয়ে উঠেছে।

অবশ্য কর্নাটকে শাসক কংগ্রেসের আন্দোলনের ইতিহাস পুরনো। কাবেরীর জলবণ্টন, ভাষা ও সীমান্তের প্রশ্নে আগেও দল রাস্তায় নেমেছে। এখন বদলেছে আন্দোলনের ব্যাপ্তি ও ঘনত্ব; রাজ্যের দাবি ক্রমশ কংগ্রেসের সর্বভারতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে মিশছে।

সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই তার দৃষ্টান্ত দেখা যায়। অন্নভাগ্য প্রকল্পে যোগ্য পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে মাসে দশ কেজি চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল কংগ্রেসের। প্রয়োজনীয় চাল কেন্দ্রের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না, এই অভিযোগে ২০২৩ সালের জুনে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ হয়। ডি কে শিবকুমারও আন্দোলনে যোগ দেন। বিজেপি পাল্টা অভিযোগ করে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের সমস্যার দায় কেন্দ্রের উপর চাপাচ্ছে রাজ্য সরকার। খাদ্য সরবরাহের প্রশাসনিক সমস্যা এভাবেই সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হয়।

আরও বড় পদক্ষেপ ছিল ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের নিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করেন। অভিযোগ ছিল, কর বণ্টন ও অনুদানে কর্নাটককে বঞ্চনা করছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় করের বণ্টনযোগ্য অংশে রাজ্যের ভাগ চতুর্দশ অর্থ কমিশনের সময়ে ৪.৭১ শতাংশ থেকে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনে ৩.৬৪ শতাংশে নেমে আসার বিষয়টি সামনে আনে সরকার। রাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল, জাতীয় আয়ে বড় অবদান রাখলেও সেই অনুপাতে অর্থ ফেরত পাচ্ছে না কর্নাটক। তাদের এই দাবির সঙ্গে যুক্ত ছিল উন্নয়ন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও। তবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বৈষম্যের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, অর্থ কমিশনের সুপারিশ মেনেই বণ্টন হয়; এতে তাঁর ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে আর্থিক হিসাবের বিতর্কও কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক টানাপড়েনের প্রকাশ হয়ে ওঠে।

২০২৪ সালের অগস্টে সংঘাতের কেন্দ্রে আসেন রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গহলৌত। মাইসুরু নগরোন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জমি বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে সিদ্দারামাইয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের অনুমতি দেওয়ায় কংগ্রেস ‘রাজভবন চলো’ কর্মসূচি নেয়। দলের অভিযোগ ছিল, রাজ্যপাল কংগ্রেস নেতার ক্ষেত্রে তৎপর হলেও বিজেপি ও জেডিএস নেতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের অনুমতি দিতে দেরি করছেন। এই আন্দোলনে মন্ত্রী ও বিধায়কেরাও অংশ নেন।

এরপর নির্বাচনী স্বচ্ছতার প্রশ্ন আরও গুরুত্ব পায়। ২০২৫ সালের অগস্টে বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে রাহুল গান্ধী লোকসভা নির্বাচনে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তোলেন। এখন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র করেছে কংগ্রেস।

সাম্প্রতিক প্রতিবাদ ঘিরে নতুন পাল্টা সংঘাতও তৈরি হয়েছে। ১ অক্টোবর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের সামনে মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমার ও মন্ত্রীদের অবস্থান আদালতের নির্দেশ ভেঙেছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবিও জানিয়েছে দলটি। শিবকুমারের বক্তব্য, তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবিপত্র দিতে গিয়েছিলেন এবং নিজের দাবির নিষ্পত্তির জন্য সেখানে বসেছিলেন। অর্থাৎ, প্রতিবাদের বিষয়বস্তুর পাশাপাশি শাসক দলের আন্দোলনের পদ্ধতিও এখন রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ।

এই ঘটনাক্রমের রাজনৈতিক তাৎপর্য স্পষ্ট: কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকার অর্থ শুধু সরকারি দপ্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। রাজ্যের অধিকার এবং জাতীয় স্তরে বিজেপিবিরোধিতাকে একসঙ্গে তুলে ধরে সংগঠনকে নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়েও সক্রিয় রাখতে চাইছে। তবে এই কৌশলের কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে আন্দোলনের দাবি কতটা বাস্তব ফল এনে দেয় এবং প্রশাসনের কাজের সঙ্গে তার কতটা সামঞ্জস্য থাকে, তার উপর।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles