খবর

মেসিকে কোচিতে আনার ব্যর্থ উদ্যোগে গুরুতর অভিযোগ, বহু সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের ভাবনা কেরল সরকারের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসিকে কোচিতে আনার ব্যর্থ উদ্যোগ ঘিরে বহু সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানোর কথা বিবেচনা করছে কেরল সরকার।
  • মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন জানিয়েছেন, রাজ্যের ক্রীড়া দপ্তরের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেশ কিছু ‘অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ’ উঠে এসেছে।
  • সেই কারণে কোনও একটি দপ্তরের তদন্তে সীমাবদ্ধ না থেকে সংশ্লিষ্ট সব দিক খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে সরকার।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসিকে কোচিতে আনার ব্যর্থ উদ্যোগ ঘিরে বহু সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানোর কথা বিবেচনা করছে কেরল সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন জানিয়েছেন, রাজ্যের ক্রীড়া দপ্তরের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেশ কিছু ‘অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ’ উঠে এসেছে। সেই কারণে কোনও একটি দপ্তরের তদন্তে সীমাবদ্ধ না থেকে সংশ্লিষ্ট সব দিক খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে সরকার।

পূর্ববর্তী বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সরকারের আমলে মেসি এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে কেরলে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোচিতে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজনের কথা ছিল। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে দেখার সুযোগ নিয়ে কেরলের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই বিপুল উৎসাহ তৈরি হয়। সরকারের তরফেও এই উদ্যোগকে রাজ্যের ক্রীড়া ও পর্যটনের প্রচারের একটি বড় সুযোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

কেন উদ্যোগটি ব্যর্থ হল, কারা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছিল কি না এবং কোনও বেসরকারি সংস্থাকে বেআইনি সুবিধা দেওয়া হয়েছিল কি না—এখন তদন্তের কেন্দ্রে থাকতে পারে এই প্রশ্নগুলি। ক্রীড়া দপ্তরের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঠিক কী তথ্য পাওয়া গিয়েছে, সরকার এখনও তার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, অভিযোগগুলি কেবল প্রশাসনিক ত্রুটি বা পরিকল্পনার দুর্বলতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

মুখ্যমন্ত্রী সতীশন বলেছেন, সত্য প্রকাশ্যে আনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই কারণে প্রয়োজন হলে পুলিশ, আর্থিক অপরাধ অনুসন্ধানকারী সংস্থা এবং দুর্নীতি দমন বিভাগের মতো একাধিক সংস্থাকে তদন্তে যুক্ত করা হতে পারে। সরকারি অর্থের অপব্যবহার, চুক্তির নিয়ম লঙ্ঘন কিংবা প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেলে পৃথক ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

মেসির মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফুটবলারকে নিয়ে কোনও উদ্যোগ স্বাভাবিকভাবেই বিপুল অর্থ, একাধিক সংস্থা এবং জটিল চুক্তির সঙ্গে যুক্ত। ফলে এমন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, নির্দিষ্ট দায়বদ্ধতা এবং কঠোর আর্থিক নজরদারি অপরিহার্য। ব্যর্থ আয়োজনকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা কেরলের ক্রীড়া প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতার উপর বড় আঘাত হতে পারে।

এই তদন্তের রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। বর্তমান সরকার বিষয়টিকে পূর্ববর্তী এলডিএফ সরকারের আমলের সম্ভাব্য অনিয়ম হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা তদন্তকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে চিহ্নিত করতে পারে। তাই তদন্ত কতটা স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং তথ্যনির্ভর হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

তদন্তের ফল ভবিষ্যতে কেরলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের পদ্ধতিও বদলে দিতে পারে। বড় কোনও ক্রীড়া উদ্যোগের আগে চুক্তি যাচাই, অর্থের উৎস প্রকাশ এবং স্বাধীন নজরদারির ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার দাবি উঠতে পারে। আপাতত মেসিকে কোচিতে আনার স্বপ্ন কেন ভেস্তে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে কেরল সরকার।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles