হাইলাইটস:

  • নীতি আয়োগের স্কুল শিক্ষা সমীক্ষায় দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে পাঞ্জাব, দাবি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের।
  • ২০২০ সালে যে রাজ্যের অবস্থান ছিল ২৭তম, চার বছরের মধ্যে সেই রাজ্যই উঠে এসেছে শীর্ষে।
  • কেজরিওয়ালের দাবি, ২০২২ সালে আম আদমি পার্টি সরকার গঠনের পর শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারের ফল মিলেছে।
  • সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এখন নিট ও জেইই-র মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য পাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে মত আপ নেতার।

বাংলাস্ফিয়ার: পাঞ্জাবের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড় দাবি করলেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর বক্তব্য, নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক স্কুল শিক্ষা সমীক্ষায় দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে পাঞ্জাব। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, মাত্র চার বছর আগে এই তালিকায় রাজ্যটির অবস্থান ছিল ২৭তম।

এই সাফল্যকে “ঐতিহাসিক” বলে বর্ণনা করেছেন কেজরিওয়াল। তাঁর মতে, ২০২২ সালে পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষা খাতে যে ধারাবাহিক সংস্কার শুরু হয়েছিল, তারই ফল এখন দৃশ্যমান।

কী বললেন কেজরিওয়াল?

এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেজরিওয়াল বলেন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য—এই দুই ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে সরকার কাজ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তাঁর দাবি, এই প্রচেষ্টার ফলেই আজ পাঞ্জাব দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে। কেজরিওয়াল বলেন, “যে রাজ্য একসময় তালিকার প্রায় শেষদিকে ছিল, সেই রাজ্য আজ দেশের সেরা। এটা শুধু সরকারের নয়, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদেরও সাফল্য।”

সরকারি স্কুল নিয়ে বদলেছে ধারণা?

আপ নেতৃত্বের দাবি, পাঞ্জাবে সরকারি স্কুল নিয়ে মানুষের ধারণায়ও পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে বহু পরিবার সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে পাঠাতে বাধ্য হতেন, এখন সরকারি স্কুলের প্রতি আস্থা বেড়েছে।

কেজরিওয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, পাঞ্জাবের সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এখন জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছে। বিশেষ করে নিট এবং জেইই-র মতো পরীক্ষায় সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারা সুযোগ পাচ্ছে, যা শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত উন্নতির ইঙ্গিত বলে তিনি দাবি করেন।

কেরলকে টপকাল পাঞ্জাব?

কেজরিওয়ালের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে কেরলের প্রসঙ্গ। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার ক্ষেত্রে কেরলকে দেশের অন্যতম সেরা রাজ্য হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু এবার নীতি আয়োগের মূল্যায়নে পাঞ্জাব কেরলকেও পিছনে ফেলেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

যদিও এই দাবির বিস্তারিত তথ্য ও সূচক নিয়ে এখনও বিস্তৃত সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি, তবুও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ শিক্ষা ক্ষেত্রকে নিজেদের অন্যতম সাফল্যের ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরতে চায় আম আদমি পার্টি।

কোন সংস্কারগুলিকে কৃতিত্ব দিচ্ছে আপ(AAP)?

আম আদমি পার্টি নেতৃত্বের মতে, কয়েকটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ এই পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছে—

  • সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো আধুনিকীকরণ
  • স্মার্ট ক্লাসরুম চালু
  • শিক্ষক প্রশিক্ষণের উপর জোর
  • স্কুল পরিচালনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি
  • ছাত্রছাত্রীদের জন্য উন্নত শিক্ষাসামগ্রী
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব

সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপগুলি শুধু পরীক্ষার ফল নয়, সামগ্রিক শিক্ষার মানও উন্নত করেছে।

রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়

এই সাফল্যের দাবির রাজনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট। দিল্লিতে শিক্ষা মডেলকে সামনে রেখে আপ বহুদিন ধরেই নিজেদের আলাদা রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছে। এখন পাঞ্জাবেও একই ধরনের সাফল্যের দাবি তুলে দলটি জাতীয় স্তরে নিজেদের প্রশাসনিক দক্ষতার উদাহরণ হিসেবে এই বিষয়টিকে ব্যবহার করতে চাইছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা ক্ষেত্রে বাস্তব উন্নতি যদি দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে, তবে তা শুধু রাজনৈতিক সাফল্য নয়, পাঞ্জাবের অর্থনীতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

এখনও অনেক পথ বাকি

তবে সাফল্যের উচ্ছ্বাসের মধ্যেও কেজরিওয়াল স্বীকার করেছেন যে কাজ এখনও শেষ হয়নি। তাঁর কথায়, প্রথম স্থান অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিক্ষার মান আরও উন্নত করার জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

অর্থাৎ, আপ নেতৃত্ব এই সাফল্যকে শেষ লক্ষ্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাসংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে।

পাঞ্জাবের এই উত্থান আগামী দিনে অন্যান্য রাজ্যের জন্যও একটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রশ্নে এই মডেল কতটা কার্যকর, তা নিয়েই এখন নজর থাকবে শিক্ষা মহলের।