Table of Contents
গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসকে ঘিরে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে BTS। ২০২৭ সালের ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার এই বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড কার্যত প্রশ্ন তুলেছে রেকর্ডিং অ্যাকাডেমির নতুন ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ বিভাগ নিয়ে। BTS-এর অবস্থান, এশীয় শিল্পীদের স্বীকৃতি দেওয়ার নামে তাঁদের জন্য আলাদা একটি খোপ তৈরি করা হলে তা অন্তর্ভুক্তির বদলে বৈষম্যেরই নতুন রূপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সম্প্রতি রেকর্ডিং অ্যাকাডেমি ঘোষণা করেছে, ২০২৭ সাল থেকে গ্র্যামিতে যুক্ত হচ্ছে এই নতুন বিভাগ। এশিয়ার দ্রুতবর্ধনশীল পপ সংগীত শিল্পকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়াই এর উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এশীয় শিল্পীরা যখন ইতিমধ্যেই বিশ্বসংগীতের মূল স্রোতে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন, তখন তাঁদের জন্য আলাদা বিভাগ তৈরির প্রয়োজন কতটা?
‘Arirang’ জমা দিল না BTS
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে BTS-এর সাম্প্রতিক অ্যালবাম ‘Arirang’। বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলা এই অ্যালবামটি গ্র্যামির জন্য জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যান্ডটি। অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে রেকর্ডিং অ্যাকাডেমির নতুন বিভাগের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন।
BTS-এর অবস্থান স্পষ্ট—তারা অন্য আন্তর্জাতিক শিল্পীদের মতো একই মাপকাঠিতে বিচার পেতে চায়। এশীয় পরিচয় বা ভৌগোলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা করে নয়, সংগীতের মানের ভিত্তিতেই স্বীকৃতি চায় তারা।
স্বীকৃতি, নাকি আলাদা করে রাখা?
গ্র্যামির নতুন বিভাগ নিয়ে সমালোচকদের মূল প্রশ্ন এখানেই। BTS, BLACKPINK-সহ একাধিক কে-পপ শিল্পী ইতিমধ্যেই বিশ্বসংগীতের বাজারে বিপুল প্রভাব তৈরি করেছেন। বিলবোর্ডের চার্টে সাফল্য, আন্তর্জাতিক পুরস্কার, স্টেডিয়াম কনসার্ট—সব ক্ষেত্রেই তাঁদের উপস্থিতি এখন আর নতুন কিছু নয়।
তবু মূল পপ বিভাগে এশীয় শিল্পীদের স্বীকৃতি তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে নতুন একটি ‘এশিয়ান পপ’ বিভাগ তাঁদের সামনে এগিয়ে দেওয়ার বদলে মূল প্রতিযোগিতা থেকে আলাদা করে রাখবে কি না, সেই প্রশ্নই জোরালো হচ্ছে।
প্রতিবাদের নজির আগেও
গ্র্যামির নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে শিল্পীদের অসন্তোষ অবশ্য নতুন নয়। ২০২১ সালে কানাডিয়ান গায়ক দ্য উইকেন্ডের সিদ্ধান্তও সেই বিতর্ককে তীব্র করেছিল। তাঁর জনপ্রিয় অ্যালবাম ‘After Hours’ কোনও গ্র্যামি মনোনয়ন না পাওয়ার পর তিনি নিজের গান আর পুরস্কারের জন্য জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পরে ২০২৫ সালে রেকর্ডিং অ্যাকাডেমির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও, তাঁর প্রতিবাদ গ্র্যামির মনোনয়ন ও পুরস্কার নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছিল। BTS-এর বর্তমান অবস্থানকেও সেই দীর্ঘ বিতর্কেরই নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন অনেকে।
অন্তর্ভুক্তি নাকি নতুন বিভাজন?
অন্যদিকে, গ্র্যামির সিদ্ধান্তের সমর্থকদের যুক্তি, নতুন বিভাগটি এশীয় শিল্পীদের আরও বেশি সুযোগ ও দৃশ্যমানতা এনে দিতে পারে। বিশ্বসংগীতে এশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবেও এটিকে দেখা হচ্ছে।
সমালোচকদের পাল্টা বক্তব্য, প্রকৃত সমতা মানে আলাদা পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা বিভাগ তৈরি করা নয়। শিল্পী কোন দেশ বা অঞ্চলের, তা নয়—তাঁর গান কতটা ভালো, সেই মাপকাঠিতেই বিচার হওয়া উচিত।
তাই BTS-এর এই সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র একটি পুরস্কার বর্জন হিসেবে দেখলে বিষয়টির বড় অংশই বাদ পড়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ব্যবস্থায় প্রতিনিধিত্ব, বৈচিত্র্য এবং সমতার প্রশ্ন ফের সামনে এসেছে।
এখন নজর রেকর্ডিং অ্যাকাডেমির দিকে—BTS-এর আপত্তি কি তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখবে, নাকি ‘এশিয়ান পপ’ বিভাগই ভবিষ্যতে আরও বড় করে তোলা হবে?