অযোধ্যায় টানা সাত বছর সাফল্যের সঙ্গে মঞ্চস্থ হওয়ার পর এবার রাজধানীর মাটিতে পা রাখছে বহুল আলোচিত ও তারকাখচিত ‘অযোধ্যা কি রামলীলা’। এই প্রথম অযোধ্যার বাইরে দিল্লিতে আয়োজিত হতে চলেছে এই বিশেষ প্রযোজনা। আগামী ১০ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১১ দিন কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়া প্রাঙ্গণে চলবে অনুষ্ঠান।
আয়োজকদের দাবি, দিল্লিতে আয়োজনের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছেও আরও উন্নত সম্প্রচার ব্যবস্থায় এই অনুষ্ঠান পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
কেন অযোধ্যা থেকে দিল্লি?
আয়োজক সুভাষ মালিক জানিয়েছেন, অযোধ্যা থেকে অনুষ্ঠান সরিয়ে দিল্লিতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্তের পিছনে মূল কারণ বাস্তব ও প্রযুক্তিগত। তাঁর কথায়, দশেরার সময় অযোধ্যায় প্রায়ই ঝড়-বৃষ্টির কারণে মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান ব্যাহত হয়। এর প্রভাব পড়ে সরাসরি সম্প্রচারেও। জাতীয় টেলিভিশন, স্থানীয় কেবল নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে ইউটিউব—সব ক্ষেত্রেই সম্প্রচারে সমস্যা তৈরি হয়।
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার দিল্লিকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। রাজধানীর উন্নত পরিকাঠামো কাজে লাগিয়ে অনুষ্ঠানটি যাতে কোনও বাধা ছাড়াই দর্শকদের কাছে পৌঁছয়, সেটিই এবারের অন্যতম লক্ষ্য।
শুধু রামলীলা নয়, বড় সাংস্কৃতিক মঞ্চ
সুভাষ মালিকের দাবি, ‘অযোধ্যা কি রামলীলা’ এখন আর শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। গত কয়েক বছরে এটি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাওয়া একটি বড় সাংস্কৃতিক আয়োজনেও পরিণত হয়েছে।
আয়োজকদের হিসাব অনুযায়ী, এই রামলীলার সম্প্রচার গত কয়েক বছরে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে পৌঁছেছে এবং মোট দর্শকসংখ্যা ৬২ কোটিরও বেশি। ফলে এ বছর সম্প্রচারের গুণমান এবং নিরবচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অযোধ্যার দর্শকদের জন্যও থাকছে আয়োজন
দিল্লিতে অনুষ্ঠান হওয়ায় অযোধ্যার দর্শকরা যাতে বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়টিও মাথায় রেখেছেন উদ্যোক্তারা। সুভাষ মালিক জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে অযোধ্যায় দ্বিতীয় দফায় ফের ‘অযোধ্যা কি রামলীলা’ মঞ্চস্থ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালে রামমন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের সময়ও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মূল আয়োজনের পর অযোধ্যায় দ্বিতীয় পর্যায়ে রামলীলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
মঞ্চে তারকার মেলা
‘অযোধ্যা কি রামলীলা’র অন্যতম বড় আকর্ষণ এর তারকাখচিত অভিনয়শিল্পী। গত কয়েক বছরে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, সংগীত-সহ বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ রামায়ণের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
এবারও সেই ধারা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। দিল্লির মঞ্চে একাধিক জনপ্রিয় শিল্পীর উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ শিল্পী তালিকা এখনও প্রকাশ করেনি আয়োজক কমিটি।
ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন
ভারতের অন্যতম প্রাচীন লোকনাট্য ঐতিহ্য রামলীলা। নবরাত্রি ও দশেরা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রামায়ণের কাহিনি নাট্যরূপে মঞ্চস্থ হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আধুনিক মঞ্চসজ্জা, উন্নত প্রযুক্তি এবং তারকা শিল্পীদের অংশগ্রহণ ‘অযোধ্যা কি রামলীলা’কে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
দিল্লিতে প্রথমবারের এই আয়োজন সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বড় শহরেও অনুষ্ঠানটি নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
আপাতত লক্ষ্য একটাই—রামায়ণের চেনা কাহিনিকে ধর্মীয় আবেগ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির মিশেলে এমনভাবে তুলে ধরা, যাতে দিল্লির মঞ্চে ‘অযোধ্যা কি রামলীলা’ পায় এক নতুন মাত্রা।