ছুটিতে সায়মা, প্রশ্নে চাপ

যা জানা জরুরি
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের নির্বাচিত অধিকর্তা সায়মা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
- শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক চাপের কারণেই তাঁকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
- সিদ্ধান্তটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের নির্বাচিত অধিকর্তা সায়মা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক চাপের কারণেই তাঁকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। সিদ্ধান্তটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।
২০২৫ সালের ১১ জুলাই সায়মাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তার প্রায় চার মাস আগে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রতারণা, নথি জাল এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দু’টি মামলা করেছিল। তবে সেই অভিযোগ এখনও আদালতে চূড়ান্ত ভাবে প্রমাণিত হয়নি। সায়মার দাবি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর পারিবারিক পরিচয়ই তাঁকে নিশানা করার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত আট মাসে একাধিক বার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুসের কাছে সিদ্ধান্তটির ব্যাখ্যা চেয়েছেন সায়মা। গত মাসে তাঁর আইনজীবীরাও নতুন করে চিঠি পাঠিয়ে জানান, সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাঁরা আইনি পদক্ষেপের কথা ভাববেন।
সায়মার মূল প্রশ্ন, তাঁকে এক বছরেরও বেশি সময় ছুটিতে রাখা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত আদৌ চলছে কি না। তাঁর অভিযোগ, সংস্থা তাঁর সঙ্গে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে, হয়রানি করেছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি ও প্রশাসনিক ভিত্তি স্পষ্ট করেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁর পাঠানো কয়েকটি ই-মেলের প্রাপ্তিস্বীকার করা হলেও তদন্তের বিষয়ে স্পষ্ট কোনও উত্তর দেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
অন্য দিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সায়মা এখনও ছুটিতেই রয়েছেন। কর্মীদের অভিযোগ জানানোর জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে সায়মার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তারা।
সায়মার আরও অভিযোগ, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কূটনৈতিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করেছে। সদস্য দেশগুলির কাছেও তাঁর সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
২০২৩ সালের নির্বাচনে দশটি ভোটের মধ্যে আটটি পেয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অধিকর্তা নির্বাচিত হন সায়মা। ভারতও তাঁর প্রার্থিতাকে সমর্থন করেছিল। ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম নাগরিক এবং দ্বিতীয় মহিলা হিসেবে এই পদে বসেছিলেন সায়মা।
এখন তাঁর ঘনিষ্ঠদের প্রশ্ন, সদস্য দেশগুলির ভোটে নির্বাচিত এক আঞ্চলিক অধিকর্তাকে তাঁদের মতামত ছাড়াই কী ভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের জন্য সরিয়ে রাখা যায়?
সূত্রের দাবি, প্রথমে সায়মাকে বেতন-সহ ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। পরে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার পর তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়। অথচ পদটি এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে শূন্য ঘোষণা করা হয়নি—অর্থাৎ কাগজে-কলমে সায়মাই নির্বাচিত অধিকর্তা। একই সঙ্গে তাঁকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ফলে প্রশ্নটা এখন শুধু সায়মাকে ছুটিতে পাঠানো নিয়ে নয়। কেন তাঁকে ছুটিতে পাঠানো হল, সিদ্ধান্তের পিছনে কী প্রক্রিয়া ছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে আদৌ কোনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তরই চাইছেন সায়মা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সংশ্লিষ্ট নথি ও সিদ্ধান্তের ভিত্তি প্রকাশ না করলে গোটা প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা এবং বৈধতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



