Home খবর যন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলনে নাশকতার ছক? জইশ-যোগে ধৃত সন্দেহভাজনকে ঘিরে এসটিএফের বিস্ফোরক দাবি

যন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলনে নাশকতার ছক? জইশ-যোগে ধৃত সন্দেহভাজনকে ঘিরে এসটিএফের বিস্ফোরক দাবি

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
9 views 2 minutes read
A+A-
Reset

দিল্লির যন্তর মন্তরে গত মাসে হওয়া ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর দাবি করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারীদের অভিযোগ, জইশ-ই-মহম্মদের (জইশ) সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহভাজন হামিম মণ্ডল শুধু পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপর নজরদারিই চালাচ্ছিলেন না, যন্তর মন্তরের ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনাও করেছিলেন। এই পরিকল্পনায় তাঁর সহযোগী হিসেবে ধৃত অর্পিতা সরকারের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শনিবার ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে অর্পিতা সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ। তার আগে পূর্ব বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল হামিম মণ্ডলকে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দু’জনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন, ডিজিটাল নথি ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের চিত্র সামনে আসছে।

এসটিএফের দাবি, যন্তর মন্তরে চলা ছাত্র আন্দোলনের বিশাল জনসমাগমকে কাজে লাগিয়ে অশান্তি সৃষ্টি বা আরও বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা এমন সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন যে, পুলিশকর্মীর ছদ্মবেশে আন্দোলনের ভিড়ে ঢোকার জন্য পুলিশি পোশাক জোগাড়ের চেষ্টা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগ এখনও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, হামিম মণ্ডল সত্যিই যন্তর মন্তরে পৌঁছেছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি। তবে তাঁর ফোনের অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য, অনলাইন যোগাযোগ, বার্তা আদানপ্রদান এবং ডিজিটাল নথি পরীক্ষা করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

এর আগেই এসটিএফ জানিয়েছিল, হামিম মণ্ডল ভুয়ো পরিচয়ে কয়েক মাস ধরে পূর্ব বর্ধমানে বসবাস করছিলেন। তিনি নিজেকে একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই সময় তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিমের পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলওয়ামা হামলার অন্যতম অভিযুক্ত সাজ্জাদ ভাটের নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের সূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই যোগাযোগের মাধ্যমে কী ধরনের নির্দেশ বা সহায়তা মিলেছিল, তা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

এসটিএফের দাবি, হামিম ও তাঁর সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে একটি বিস্তৃত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। তদন্তে পাকিস্তানভিত্তিক একটি অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের ইঙ্গিতও মিলেছে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য তথাকথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যে যন্তর মন্তরের আন্দোলনকে ঘিরে এই অভিযোগ উঠেছে, সেটি ছিল নিট-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের দীর্ঘ আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র। আন্দোলনের সময় দিল্লি পুলিশ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। পরে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় জনসমাবেশ বা গণআন্দোলনকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে নাশকতার চেষ্টা জঙ্গি সংগঠনগুলির পরিচিত কৌশলগুলির একটি। তাই গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এ ধরনের কর্মসূচিকে ঘিরে সবসময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকে। তবে বর্তমান মামলায় এসটিএফ যে সমস্ত দাবি করেছে, সেগুলি এখনও তদন্তাধীন। আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযোগগুলিকে প্রমাণিত বলে ধরা যায় না।

এই মামলায় উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্য, আর্থিক লেনদেন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্ক—সব দিক থেকেই তদন্ত এগোচ্ছে। এসটিএফের আশা, ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই সন্দেহভাজন চক্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং বিস্তৃতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসবে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles