জেলেনস্কির সতর্কবার্তার পরই রুশ হামলা, ইউক্রেনে নিহত ১৩

যা জানা জরুরি
- “বড় হামলা” আসছে—কয়েক ঘণ্টা আগেই সতর্ক করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
- তাঁর সেই বার্তার পরই বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের একাধিক শহরে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালাল রাশিয়া।
- রাজধানী কিয়েভ থেকে শুরু করে ক্রিভি রিহ, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, পোলতাভা এবং পশ্চিমাঞ্চলের লভিভ—একাধিক এলাকায় হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
“বড় হামলা” আসছে—কয়েক ঘণ্টা আগেই সতর্ক করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর সেই বার্তার পরই বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের একাধিক শহরে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালাল রাশিয়া। রাজধানী কিয়েভ থেকে শুরু করে ক্রিভি রিহ, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, পোলতাভা এবং পশ্চিমাঞ্চলের লভিভ—একাধিক এলাকায় হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি হয়েছে মধ্য ইউক্রেনের ক্রিভি রিহ শহরের উপকণ্ঠে। স্থানীয় সামরিক প্রশাসনের প্রধানের দাবি, রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চল থেকে ছোড়া একটি ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র একটি বাড়িতে সরাসরি আঘাত হানে। বাড়িটিতে থাকা একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ছিল পাঁচ ও ১২ বছর বয়সি দুই কন্যাশিশু এবং চারজন প্রাপ্তবয়স্ক। হামলায় আরও আটজন আহত হয়েছেন।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও পোলতাভা অঞ্চলেও পৃথক হামলায় আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে।
কিয়েভেও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত
রাজধানী কিয়েভও রুশ হামলা থেকে রেহাই পায়নি। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বাসিন্দাদের সতর্ক করে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান। রাজধানীর ওপর আরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভেও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। দুটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জরুরি পরিষেবার কর্মীরা। হামলায় অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন।
হামলার আগেই সতর্ক করেছিলেন জেলেনস্কি
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। তাঁর দাবি, রাশিয়া কয়েক দিন ধরেই বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের মানুষকে বিমান হামলার সতর্কবার্তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রুশ হামলার আশঙ্কায় ইউক্রেনের প্রতিবেশী পোল্যান্ডও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। দেশটির সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিমান এবং আকাশ পর্যবেক্ষণ বিমান মোতায়েন করে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার ইউনিটগুলোকেও সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়।
পোল্যান্ডের সেনাবাহিনী আরও জানায়, রাতের মধ্যে তাদের আকাশসীমায় একটি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত হয়। পরে লুবলিন প্রদেশের তারনাভা-কলোনিয়া গ্রামের কাছে সেটির সম্ভাব্য বিধ্বস্ত হওয়ার স্থান চিহ্নিত করা হয়।
ফের পশ্চিমা সহায়তার আবেদন
নতুন করে ব্যাপক হামলার পর পশ্চিমা মিত্রদের কাছে ফের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন জেলেনস্কি। তাঁর বক্তব্য, ইউক্রেনের মানুষের জীবন রক্ষা করা কতটা সম্ভব হবে, তা সরাসরি নির্ভর করছে মিত্র দেশগুলি কতটা প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে প্রস্তুত তার ওপর।
অর্থাৎ, যুদ্ধের ময়দানে শুধু স্থল সংঘর্ষ নয়, আকাশ প্রতিরক্ষাই এখন ইউক্রেনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
রাশিয়াতেও ড্রোন হামলা
ইউক্রেনের ওপর রুশ হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে রাশিয়ার ভূখণ্ডে। পশ্চিমাঞ্চলীয় পেনজা শহরে অনলাইন খুচরো বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর আগুন লাগে বলে আঞ্চলিক গভর্নর ওলেগ মেলনিচেঙ্কো জানিয়েছেন। ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ওয়াইল্ডবেরিজের দাবি, রাশিয়ার উদমুর্তিয়া অঞ্চলের সারাপুল শহরে তাদের আরেকটি লজিস্টিকস কেন্দ্রেও ড্রোন হামলার পর আগুন লাগে।
ফলে একদিকে ইউক্রেনের শহরগুলিতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, অন্যদিকে রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত—নতুন করে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



