Home খবর জেলাভিত্তিক জিডিপি হিসাবের ডাক মোদির, সাশ্রয়ী শক্তির দাবি মুখ্যমন্ত্রীদের

জেলাভিত্তিক জিডিপি হিসাবের ডাক মোদির, সাশ্রয়ী শক্তির দাবি মুখ্যমন্ত্রীদের

0 comments 8 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের ১১তম বৈঠকে জেলাভিত্তিক জিডিপি (GDP) নির্ধারণের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
  • সব ২৮টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রথমবার একসঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।
  • বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা সস্তা ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
  • দক্ষতা উন্নয়ন, প্রবীণদের যত্ন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
  • এল নিনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় জল সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক কৃষির ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

নয়াদিল্লিতে নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের ১১তম বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিশা দেখালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি রাজ্যগুলিকে আহ্বান জানান, জাতীয় বা রাজ্যস্তরের পরিসংখ্যানের গণ্ডি ছেড়ে এবার জেলা স্তরেও মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) হিসাব তৈরি করতে। তাঁর মতে, উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র বোঝার জন্য জেলা-ভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিমাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মোদি বলেন, দেশের অনেক জেলায় উন্নয়নের গতি ও চরিত্র একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ফলে কেবল রাজ্যভিত্তিক জিডিপি দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়। জেলা স্তরে উৎপাদন, আয়, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের তথ্য সংগ্রহ করা গেলে স্থানীয় সমস্যার সমাধান এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও কার্যকর হবে।

এই বৈঠকে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল সব ২৮টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতি। সরকারি সূত্রের দাবি, নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের ইতিহাসে এই প্রথম দেশের প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে বৈঠকে যোগ দিলেন। সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari, তামিলনাড়ুর C Joseph Vijay, কর্নাটকের D K Shivakumar এবং কেরলের V D Satheesan-ও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিভিন্ন মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে সাশ্রয়ী মূল্যের শক্তি বা এনার্জির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তাঁদের বক্তব্য, শিল্পায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও কম খরচের বিদ্যুৎ অপরিহার্য। বিদ্যুতের বাড়তি খরচ শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রী মত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দক্ষ কর্মী তৈরির জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত পরিষেবার দাবিও ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলিকে বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে এবং অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক দক্ষতা বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম চাবিকাঠি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল জলবায়ু ও কৃষি। সম্ভাব্য এল নিনো পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মোদি রাজ্যগুলিকে জল সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক ও জৈব কৃষির প্রসার ঘটানোর পরামর্শ দেন, যাতে অনিশ্চিত আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলা করা যায়।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী Devendra Fadnavis বৈঠকে গড়চিরোলিকে একটি বৃহৎ সমন্বিত ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান—এই চারটি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে একটি উন্নয়ন কর্মসূচির রূপরেখা পেশ করেন।

নীতিআয়োগের এই বৈঠক মূলত ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করার জন্য ডাকা হয়েছিল। কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, মানবসম্পদ গঠন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পথ খুঁজে বের করাই ছিল বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে, এবারের বৈঠকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বার্তা হল—উন্নয়নের হিসাব এবার আরও নিচুতলা পর্যন্ত নামিয়ে আনার চেষ্টা। জেলা-ভিত্তিক জিডিপির ধারণা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। একই সঙ্গে শক্তির দাম, দক্ষতা উন্নয়ন ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার মতো বিষয়গুলি যে আগামী দিনের নীতিনির্ধারণে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব পেতে চলেছে, সেটাও স্পষ্ট হয়ে গেল।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles