২৫ বছর পরও ‘দিল’ খুঁজছে অক্ষয়কে!

যা জানা জরুরি
- ২৫ বছর পর ফের একসঙ্গে ‘দিল চাহতা হ্যায়’-এর তিন বন্ধুর দল—অন্তত তাঁদের দু’জন এবং পরিচালককে দেখা গেল মুম্বইয়ের এক অনুষ্ঠানে।
- ছবির রজতজয়ন্তী উদ্যাপনে হাজির ছিলেন আমির খান, সইফ আলি খান, ফারহান আখতার, ডিম্পল কাপাডিয়া-সহ একাধিক কলাকুশলী।
- আর তাতেই প্রশ্ন অনুরাগীদের—সিদ্ধার্থ ওরফে সিড গেলেন কোথায়?
বিস্তারিত প্রতিবেদন
২৫ বছর পর ফের একসঙ্গে ‘দিল চাহতা হ্যায়’-এর তিন বন্ধুর দল—অন্তত তাঁদের দু’জন এবং পরিচালককে দেখা গেল মুম্বইয়ের এক অনুষ্ঠানে। ছবির রজতজয়ন্তী উদ্যাপনে হাজির ছিলেন আমির খান, সইফ আলি খান, ফারহান আখতার, ডিম্পল কাপাডিয়া-সহ একাধিক কলাকুশলী। কিন্তু অনুপস্থিত অক্ষয়ে খান্না। আর তাতেই প্রশ্ন অনুরাগীদের—সিদ্ধার্থ ওরফে সিড গেলেন কোথায়?
গত ১০ অগস্ট ২৫ বছর পূর্ণ করেছে ফারহান আখতার পরিচালিত প্রথম ছবি ‘দিল চাহতা হ্যায়’। আমির খান, সইফ আলি খান ও অক্ষয়ে খান্না অভিনীত এই ছবি সময়ের সঙ্গে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় কালজয়ী ছবির মর্যাদা পেয়েছে। সেই নস্ট্যালজিয়াই যেন ফের এক জায়গায় টেনে আনল ছবির অভিনেতা ও নির্মাতাদের।
মুম্বইয়ের অনুষ্ঠানের বেশ কিছু ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে সইফ, আমির, ফারহান ও ডিম্পলকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। ছবির সহ-প্রযোজক রীতেশ সিধওয়ানিও দলের সঙ্গে ছবি তুলেছেন। ক্যামেরার সামনে পুরনো দিনের স্মৃতি যেন আবার ফিরে এসেছে।
কিন্তু ছবির তিন অবিচ্ছেদ্য বন্ধুর মধ্যে একজন নেই।
অক্ষয়ে খান্নাকে দেখতে না পেয়ে অনুরাগীদের একাংশের প্রশ্ন, “সিড কোথায়?”
প্রীতি জিন্টাও অনুষ্ঠানে ছিলেন না। বর্তমানে প্যারিসে থাকায় তাঁর পক্ষে মুম্বইয়ে আসা সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে এক অনুরাগীর মন্তব্য, “এ কে এবং পি জেডকে ছাড়া অনুষ্ঠানটি অসম্পূর্ণ।” অন্য জন অক্ষয়ের সাম্প্রতিক ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর চরিত্রের প্রসঙ্গ টেনে মজা করে লিখেছেন, “রহমান ডাকাত কোথায়?”
কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, “‘ধুরন্ধর’-এর পরে অক্ষয়ে কি খুব বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন?” আবার কারও মন্তব্য, “সত্যি বলতে, ওঁর কাছ থেকে এমনটাই কিছুটা আশা করেছিলাম।”
অর্থাৎ, ২৫ বছর পরেও ছবির বন্ধুত্বের রসায়ন যে দর্শকদের মনে কতটা গেঁথে আছে, অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়াতেই তার প্রমাণ মিলেছে।
কেন এত আপন ‘দিল চাহতা হ্যায়’?
ছবির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুপমা চোপড়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফারহান আখতার কথা বলেছেন ‘দিল চাহতা হ্যায়’-এর প্রভাব নিয়েও। তাঁর মতে, ছবির গল্পে যে জীবন, বন্ধুত্ব ও সম্পর্কের টানাপড়েন দেখানো হয়েছিল, সেগুলি আসলে তখনকার তরুণদের চারপাশেই ঘটছিল। শুধু সেগুলিকে সেই ভাবে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা খুব বেশি হয়নি।
ফারহানের কথায়, “আমার মনে হয়, ‘দিল চাহতা হ্যায়’-এর চিত্রনাট্যে যা ধরা পড়েছিল, তা আমাদের চারপাশে সব সময়ই ঘটছিল। শুধু কেউ সেই বিষয়গুলি ধরে চিত্রনাট্যে বা চলচ্চিত্রে তুলে আনছিলেন না। ঘটনাচক্রে আমি সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় উপস্থিত ছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, সেই সময়ের তরুণদের নিজেদের জীবন ও সম্পর্ককে পর্দায় সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখার অভাব ছিল। “কোনও কিছুতেই যেন আমাকে বা আমার বন্ধুদের যথার্থ প্রতিনিধিত্ব দেখতে পেতাম না। আমরা নিজেদের জীবন ও সম্পর্ককে যে ভাবে অনুভব করতাম, ঠিক সেই ভাবে পর্দায় তুলে ধরার সময় এসে গিয়েছিল,” বলেন ফারহান।
তিন বন্ধু, তিন জীবন
‘দিল চাহতা হ্যায়’-এর গল্প তিন ঘনিষ্ঠ বন্ধু—আকাশ, সমীর ও সিদ্ধার্থ ওরফে সিডকে ঘিরে। তিন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আমির খান, সইফ আলি খান ও অক্ষয়ে খান্না।
তিন বন্ধুর জীবনযাপন একেবারেই আলাদা। তাঁদের স্বভাব, প্রেম, পেশা এবং সম্পর্কের ধরনও ভিন্ন। তবু বন্ধুত্বের অদৃশ্য সুতোয় তাঁরা বাঁধা। সময়ের সঙ্গে সেই বন্ধুত্বে আসে দূরত্ব, প্রেমে আসে টানাপড়েন, আর জীবনের মোড় বদলাতে বদলাতে বদলে যায় সম্পর্কের সমীকরণও।
প্রীতি জিন্টা ও ডিম্পল কাপাডিয়াও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
২০০১ সালে মুক্তির সময় থেকেই ‘দিল চাহতা হ্যায়’ শহুরে তরুণদের জীবন, বন্ধুত্ব ও সম্পর্ককে নতুন ভাষায় পর্দায় তুলে ধরেছিল। বন্ধুর সঙ্গে গোয়া ট্রিপ, সম্পর্কের টানাপড়েন, নিজের মতো করে বাঁচার ইচ্ছে—সবকিছুই যেন নতুন প্রজন্মের নিজস্ব গল্প হয়ে উঠেছিল।
২৫ বছর পরে ছবির চরিত্রেরা বাস্তবে ফের এক জায়গায় না এলেও, তাঁদের বন্ধুত্বের স্মৃতি এখনও অমলিন। আর রজতজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে অক্ষয়ে খান্নার অনুপস্থিতি সেই পুরনো প্রশ্নটিই যেন আবার ফিরিয়ে আনল—
“সিড, তুই গেলি কোথায়?”
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



