হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা কলকাতা পুলিশের

যা জানা জরুরি
- কলকাতায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা…
- মামলায় সমাবেশের আয়োজকদেরও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
- হেস্টিংস থানায় অভিযোগটি নথিভুক্ত হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কলকাতায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করল কলকাতা পুলিশ। মামলায় সমাবেশের আয়োজকদেরও অভিযুক্ত করা হয়েছে। হেস্টিংস থানায় অভিযোগটি নথিভুক্ত হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্ট সমাবেশ করার অনুমতি দিলেও কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছিল। আদালতের অন্যতম নির্দেশ ছিল, যান চলাচলের জন্য রাস্তার অন্তত একটি দিক সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে। অনুষ্ঠানের সময়সীমাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল আদালত।
পুলিশের অভিযোগ, সমাবেশ চলাকালীন রাস্তার নির্ধারিত দিকটি খোলা রাখা হয়নি। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পাশাপাশি, আদালত বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেও অনুষ্ঠান শেষ করা হয়নি। এই দুই কারণেই হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘিত হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
এক পুলিশ আধিকারিক সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগেই মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। নির্দেশ ভঙ্গের ক্ষেত্রে কার কী ভূমিকা ছিল, তদন্তের সময় তা খতিয়ে দেখা হবে। মমতা ছাড়াও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমাবেশের আয়োজকদের ভূমিকা পরীক্ষা করবেন তদন্তকারীরা।
সমাবেশ থেকে রাজ্যের বিজেপি সরকার এবং পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে পুলিশের একটি ‘মানবিক মুখ’ ছিল। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে সেই পুলিশকেই ‘দানবীয় শক্তি’তে পরিণত করা হয়েছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপর পুলিশি অত্যাচার বন্ধ করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতাদের উপর হামলার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, শীঘ্রই তিনি জেলাসফর শুরু করবেন। প্রশাসন জনসভা করার অনুমতি না দিলে তিনি রাস্তায় নেমে পদযাত্রা করবেন। প্রতিপক্ষের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাঁর মন্তব্য, “দেখব, ওদের ভাণ্ডারে কত ডিম আর ইট রয়েছে।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশাসন সভার অনুমতি প্রত্যাখ্যান করলেই বারবার আদালতে গিয়ে বিচারব্যবস্থার সময় নষ্ট করতে চান না তিনি। ভবিষ্যতে তৃণমূল যেখানে সভা করতে চাইবে, সেখানে মানুষের কাছ থেকেই অনুমতি নেওয়া হবে বলে জানান মমতা।
গত বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিজেপি ভোট ‘ছিনতাই’ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বেআইনিভাবে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। রাজ্যে চলা উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও শুভেন্দু অধিকারী সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি। মমতা বলেন, পুনর্বাসন দিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলে তাঁর আপত্তি নেই। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে না পারলে উচ্ছেদ হওয়া প্রত্যেককে মাসে ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে এই মামলা রাজ্যের শাসক বিজেপি ও বিরোধী তৃণমূলের সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে। তবে অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন; মামলায় কারও দায় আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



