সংস্কৃতি ও বিনোদন

ছোট্ট বাড়ি, বড় স্বপ্ন!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • জাপানের মাত্র ১৯ বর্গমিটার, অর্থাৎ প্রায় ২০৫ বর্গফুটের একটি বাড়ি সেই ধারণাকেই যেন চোখে আঙুল দিয়ে ভুল প্রমাণ করছে।
  • প্রায় ৩০ বর্গমিটারের জমির উপর তৈরি একতলা এই বাড়িতে দিব্যি সংসার করছেন এক দম্পতি।
  • আয়তন সামান্য হলেও বুদ্ধিদীপ্ত নকশায় এমন ভাবে প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগানো হয়েছে যে, ভিতরে ঢুকলে একেবারেই খুপরি মনে হয় না।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাড়ি ছোট হলেই কি স্বাচ্ছন্দ্যও ছোট হতে হবে? জাপানের মাত্র ১৯ বর্গমিটার, অর্থাৎ প্রায় ২০৫ বর্গফুটের একটি বাড়ি সেই ধারণাকেই যেন চোখে আঙুল দিয়ে ভুল প্রমাণ করছে। প্রায় ৩০ বর্গমিটারের জমির উপর তৈরি একতলা এই বাড়িতে দিব্যি সংসার করছেন এক দম্পতি। আয়তন সামান্য হলেও বুদ্ধিদীপ্ত নকশায় এমন ভাবে প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগানো হয়েছে যে, ভিতরে ঢুকলে একেবারেই খুপরি মনে হয় না।

ভ্রমণবিষয়ক ভিডিয়ো নির্মাতা ‘টোকিয়ো লেন্স’-এর একটি ভিডিয়োতে সম্প্রতি দেখা মিলেছে এই অভিনব বাড়ির। সেই ভিডিয়োতেই উঠে এসেছে বাড়িটির অন্দরসজ্জা, জায়গা বাঁচানোর নানা কৌশল এবং বাসিন্দাদের জীবনযাপনের ছবি। বাড়িটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য, এখানে প্রচলিত অর্থে আলাদা আলাদা ঘর বা স্থায়ী পার্টিশন নেই। বসা, খাওয়া আর শোওয়ার জায়গা একে অপরের সঙ্গে এমন ভাবে মিশে রয়েছে যে, চোখে কোনও বাধা তৈরি হয় না। তাই ছোট পরিসরটিও বেশ খোলামেলা লাগে।

বসার ঘরেই রয়েছে খাবার টেবিল। আর বড় কাচের দরজা খুললেই ঘর যেন এক লাফে বাগানে পৌঁছে যায়। ভিতরের মেঝে থেকে চোখ চলে যায় সবুজের দিকে। ফলে বাড়ির সীমানা শুধু চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে থাকে না। সেই সঙ্গে বড় জানালা ও কাচের দরজা দিয়ে ঢোকে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো-বাতাস। ছোট জায়গাকে বড় দেখানোর এটাই অন্যতম চাবিকাঠি।

শোওয়ার জায়গাটিও কম চমকপ্রদ নয়। বিছানার ঠিক উপরে রয়েছে আকাশমুখী কাচের জানালা। অর্থাৎ সকালে ঘুম ভাঙতে পারে নীল আকাশ দেখে, আর রাতে বিছানায় শুয়েই দেখা যেতে পারে চাঁদের আলো। শুধু রোম্যান্টিক দৃশ্যই নয়, জায়গা বাঁচানোর ব্যবস্থাও রয়েছে নিখুঁত। বিছানার নীচে তৈরি টানা খোপ এবং চারটি আলাদা স্টোরেজ বক্সে রাখা যায় জামাকাপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিস। ফলে আলাদা আলমারি বসিয়ে মেঝের জায়গা খরচ করার দরকার পড়ে না।

আর বাড়িটির সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ? সম্ভবত খোলা আকাশের নীচে থাকা স্নানঘর। অবশ্য ব্যক্তিগত পরিসরের কথা মাথায় রেখেই উঁচু দেওয়াল দিয়ে চারদিক আড়াল করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ছাউনি বা অস্থায়ী আবরণও ব্যবহার করা যায়। মাথার উপরের খোলা অংশ দিয়ে সূর্যের আলো ঢোকে, ফলে স্নানের সময়ও চার দেওয়ালের বন্দিদশার বদলে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার অনুভূতি মেলে।

বাড়ির সাজসজ্জাতেও রয়েছে পুরনো জিনিসকে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলার গল্প। অল নিপ্পন এয়ারওয়েজের একটি পুরনো উড়ান-ট্রলি এখন খাবার, পাস্তা ও মদের বোতল রাখার তাক। আবার একটি টেবিলের পায়া তৈরি হয়েছে বাড়ির মালকিনের মায়ের যৌতুকে পাওয়া পুরনো মিৎসুবিশি সেলাইকলের অংশ দিয়ে। ফলে বাড়ির প্রতিটি জিনিস শুধু ব্যবহারিক নয়, বহন করছে কোনও না কোনও স্মৃতিও।

বাগানেও রয়েছে জীবনের ছোঁয়া। মাঝেমধ্যে সেখানে দেখা মেলে বিড়াল বা প্রজাপতির। গভীর রাত পর্যন্ত বাইরের অংশ খোলা রাখা যায়। ফলে মাত্র ১৯ বর্গমিটারের বাড়িটি কোনও বড় বাড়ির ছোট সংস্করণ হয়ে ওঠেনি; বরং নিজের সীমাবদ্ধতাকেই নকশার শক্তিতে পরিণত করেছে।

আলাদা ঘর নেই, বিশাল আলমারি নেই, জায়গার বাহুল্যও নেই। তবু আলো-বাতাস, গোপনীয়তা, স্টোরেজ, প্রকৃতি এবং ব্যক্তিগত স্মৃতি—সব কিছুরই জায়গা হয়েছে এই ক্ষুদ্র সংসারে। বাড়িটি যেন একটাই কথা বলে: স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য সবসময় বেশি জায়গা লাগে না, লাগে একটু বুদ্ধি আর অনেকটা পরিকল্পনা।

প্রতিবেদনটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিয়োর ভিত্তিতে তৈরি। ভিডিয়োতে করা দাবিগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles