কখনও তাঁর মুখে শোনা যাচ্ছে “মানি ফলোজ মাই ব্রাদার”, কখনও আবার গলায় ভেসে আসছে ‘কোটেশ্বরায় শিব কোটেশ্বরায়’। কোনও প্রচার পরিকল্পনা ছাড়াই অভিনেতা ও রাজনীতিক রবি কিষাণ এখন সমাজমাধ্যমের অন্যতম জনপ্রিয় ‘মিম-তারকা’।
পুরনো সাক্ষাৎকার থেকে অভিনয়ের দৃশ্য, প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের অদ্ভুত মুহূর্ত থেকে হঠাৎ বলা কোনও সংলাপ—নেটাগরিকেরা রবি কিষাণের বছরের পর বছর পুরনো ভিডিয়ো খুঁড়ে বার করছেন। আর প্রতিটি নতুন ক্লিপই যেন জন্ম দিচ্ছে নতুন মিমের।
বিষয়টি নিয়ে অবশ্য রবি বেশ মজাই পাচ্ছেন। নিজের এই অদ্ভুত, প্রাণবন্ত এবং অনেক সময়ই অপ্রত্যাশিত ব্যক্তিত্বের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তাঁর দাবি, তাঁর মধ্যে নাকি একসঙ্গে বাস করেন বিশ্বের বহু কিংবদন্তি শিল্পী!
রবির কথায়, “আমার মধ্যে আল পাচিনো থেকে অমিতাভ বচ্চন, বলরাজ সাহনি থেকে শাহরুখ খান, মাইকেল জ্যাকসন থেকে এলভিস প্রেসলি—সবাই আছেন। এত মানুষ আমার শরীরের ভিতরে সারাক্ষণ নাচেন, গান করেন। তাই আমিও একের পর এক এমন সব মিশ্রণ তৈরি করে ফেলি যে, দেশ এ ভাবেই পাগল হয়ে থাকবে।”
‘আমি তো সেই একই লোক!’
নিজের পুরনো জনপ্রিয় সংলাপের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন রবি। প্রায় ২০ বছর আগে বলা তাঁর সেই বিখ্যাত কথা—“জিন্দেগি ঝান্ডওয়া, ফির ভি ঘামান্ডওয়া।”
জীবন যতই কঠিন হোক, আত্মবিশ্বাস যেন অটুট—রবির এই স্বভাব যে আজও বদলায়নি, তাঁর সাম্প্রতিক ভাইরাল মুহূর্তগুলিই তার প্রমাণ।
গোরক্ষপুরের বিজেপি সাংসদের দাবি, তাঁর ভাইরাল হয়ে যাওয়া কোনও মুহূর্তই আগে থেকে সাজানো নয়। কী বলবেন, কী ভাবে বলবেন কিংবা কোন সংলাপটি সমাজমাধ্যমে ঝড় তুলতে পারে—এসব নিয়ে তিনি কখনও পরিকল্পনা করেন না।
তাঁর কথায়, “আমি কিছু করার চেষ্টা করছি না। কিছু পড়ে আসছি না। বাড়তি নাটকীয়তাও করছি না। এমনও পরিকল্পনা করি না যে, আজ এ ভাবে কথাটা বলব। মুহূর্তটা আসে, আর আমার শরীরে যেন কিছু একটা ঘটে যায়। তার পর মুখ থেকে কথাগুলো আপনিই বেরিয়ে আসে।”
অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সংসদের ভিতরে তাঁর দৌড়নো থেকে শুরু করে একেবারে সাধারণ কোনও মুহূর্তও এখন সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে।
‘সময় এলে সবকিছুই ভাইরাল হয়’
এই জনপ্রিয়তার ব্যাখ্যায় সময় ও ভাগ্যের কথাও বলছেন রবি। তাঁর মতে, একটা সময় আসে যখন কোনও মানুষের ছোট্ট একটি অঙ্গভঙ্গিও মানুষের নজর কেড়ে নেয়।
“বলা হয় না, যখন কারও সময় আসে, তখন তাঁর প্রতিটি ভঙ্গিই মানুষের ভাল লাগতে শুরু করে। আমার ক্ষেত্রেও সম্ভবত সেটাই হচ্ছে,”—বলেছেন তিনি।
তবে এই জনপ্রিয়তার কৃতিত্ব একা নিজের বলে মনে করেন না রবি। তাঁর বিশ্বাস, ঈশ্বরের আশীর্বাদ, পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ, পরিবারের মানুষের প্রার্থনা এবং দর্শকদের ভালবাসা—সব মিলিয়েই তাঁর জীবনে এই সময় এসেছে।
পুরনো ভিডিয়োতেই নতুন মিমের খনি
এক-দু’টি ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর নেটাগরিকেরা যেন রবির পুরনো আর্কাইভ খুলে বসেছেন। সাক্ষাৎকার, সিনেমার দৃশ্য, পুরনো অনুষ্ঠান—সব জায়গা থেকে একের পর এক অদ্ভুত অভিব্যক্তি, সংলাপ ও অঙ্গভঙ্গি খুঁজে বের করছেন তাঁরা।
ফলে যে অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের পরিচিত মুখ, তিনিই আচমকা হয়ে উঠেছেন নতুন প্রজন্মের মিম-আইকন।
মজার বিষয়, এই নতুন জনপ্রিয়তার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের সম্পর্ক খুব বেশি নেই। বরং স্বতঃস্ফূর্ত কথা বলার ধরন, প্রবল প্রাণশক্তি এবং কখন কী বলে ফেলবেন তার কোনও নিশ্চয়তা না থাকাটাই নেটাগরিকদের কাছে তাঁর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন রাজনীতিতেও সক্রিয় রবি কিষাণ বর্তমানে বিজেপির গোরক্ষপুরের সাংসদ। কিন্তু এই মুহূর্তে সংসদের বক্তৃতার চেয়ে তাঁর পুরনো সংলাপই যেন সমাজমাধ্যমে বেশি ‘হিট’!
সম্প্রতি পরিচালক ইন্দ্র কুমারের ‘ধামাল ৪’ ছবিতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। ছবিতে প্রধান ভূমিকায় রয়েছেন অজয় দেবগন, আরশাদ ওয়ারসি এবং রীতেশ দেশমুখ।
আর রবি কিষাণ? তিনি আপাতত নিজের ভাষাতেই বলছেন—“আমার ভিতরে এত মানুষ নাচেন যে, দেশ এ ভাবেই পাগল হয়ে থাকবে!”