সংস্কৃতি ও বিনোদন

নাগা ছবির অস্কার-দৌড়!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাবা-ছেলের গল্প নিয়ে তৈরি থেজা রিওর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি ‘আং’ জিতে নিল টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্ল্যাটফর্ম পুরস্কার।
  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ঘোষিত এই সম্মান ছবিটির সামনে খুলে দিয়েছে ২০২৭ সালের অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে প্রতিযোগিতার দরজা।
  • এবারের প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতায় একমাত্র ভারতীয় ছবি ছিল ‘আং’।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নাগাল্যান্ডের পাহাড় থেকে বিশ্বসিনেমার মঞ্চে। বাবা-ছেলের গল্প নিয়ে তৈরি থেজা রিওর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি ‘আং’ জিতে নিল টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্ল্যাটফর্ম পুরস্কার। রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ঘোষিত এই সম্মান ছবিটির সামনে খুলে দিয়েছে ২০২৭ সালের অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে প্রতিযোগিতার দরজা। এবারের প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতায় একমাত্র ভারতীয় ছবি ছিল ‘আং’।

এই স্বীকৃতির গুরুত্ব আরও বেড়েছে অস্কারের বদলে যাওয়া নিয়মে। আগে এই বিভাগে কোনও দেশের তরফে নির্বাচিত একটি ছবিই মূলত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেত। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের স্বীকৃত পুরস্কার জিতেও সেই যোগ্যতা অর্জন করা যায়। টরন্টোর প্ল্যাটফর্ম পুরস্কার তেমনই একটি পথ। তবে যোগ্যতা অর্জন করলেই অস্কারের চূড়ান্ত মনোনয়ন নিশ্চিত হয় না। প্রথমে ১৫টি ছবির সংক্ষিপ্ত তালিকা এবং পরে পাঁচটি ছবির চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারিত হবে। সেই ধাপগুলি পেরোতে হবে ‘আং’-কে।

ভারতের আনুষ্ঠানিক অস্কার বাছাইয়ে অবশ্য জায়গা হয়নি ছবিটির। ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া এ বার সন্তোষ দাভাখরের মারাঠি ছবি ‘গোন্ধল’-কে বেছে নিয়েছে। তবে টরন্টোর স্বীকৃতির সুবাদে নাগা ছবিটির সামনে তৈরি হয়েছে বিকল্প পথ। দেশের নির্বাচনে বাদ পড়লেও আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মাধ্যমে অস্কারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে রিওর ছবিটির।

বাবা-ছেলের গল্পে বদলে যাওয়া নাগাল্যান্ড

গত শতকের ষাটের দশকের নাগাল্যান্ড। চারপাশে দ্রুত বদলে যাচ্ছে সমাজ, পাল্টে যাচ্ছে জীবনযাপনের ধরন। সেই পরিবর্তনের মাঝেও পূর্বপুরুষের বিশ্বাস ও ঐতিহ্য আঁকড়ে রয়েছেন এক বৃদ্ধ কোনিয়াক গ্রামপ্রধান এবং তাঁর ছেলে। তাঁদের নিঃসঙ্গ জীবনে এক মার্কিন খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকের আগমন নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং বদলে যাওয়া পৃথিবীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখোমুখি হতে হয় বাবা ও ছেলেকে।

স্থানীয় নাগা অভিনেতাদের পাশাপাশি ছবিতে অভিনয় করেছেন স্কটিশ অভিনেতা ডগলাস হেনশল।

পরিচালক থেজা রিওর কাছে এই স্বীকৃতি নিজের মাটি, মানুষ ও সংস্কৃতির গল্পকে বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আনন্দ। তিনি জানিয়েছেন, জন্মভূমি, নিজের জনগোষ্ঠী এবং সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালবাসা থেকেই ছবিটি তৈরি করেছেন। বাবা-ছেলের সম্পর্কের কেন্দ্রে থাকা গল্পে জড়িয়ে রয়েছে ঘর ছেড়ে যাওয়ার বেদনা, শিকড়ের টান এবং জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব। নিজের সম্প্রদায়ের বাইরের দর্শকের সঙ্গেও এই অনুভূতিগুলির সংযোগ তৈরি হওয়া তাঁকে বিশেষ ভাবে নাড়া দিয়েছে।

ছোট ছবি থেকে বড় পর্দায়

‘আং’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল আরও ছোট পরিসরে। ২০১৮ সালে রিও প্রথমে ছবিটির স্বল্পদৈর্ঘ্য সংস্করণের চিত্রনাট্য লেখেন। পরের বছর সেটি পরিচালনা করেন তিনি। ২০২১ সালে বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিটি পুরস্কৃত হওয়ার পর পূর্ণদৈর্ঘ্য সংস্করণ তৈরির সাহস পান পরিচালক। পরিচিত চরিত্র ও তাদের দ্বন্দ্বগুলিকে আরও বিস্তারে পর্দায় তুলে ধরার সুযোগ মেলে তখন।

ব্রিটেনের ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন স্কুলে পড়াশোনার সময় পাওয়া সহযোগীরাও এই চলচ্চিত্রযাত্রায় তাঁর পাশে ছিলেন।

পুরনো নাগা জনজীবনের আবহ ফিরিয়ে আনতে ছবিটি শ্যুট করা হয়েছে ১৬ মিলিমিটার ফিল্মে। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের সংরক্ষিত দৃশ্যাবলি ছিল রিওর অন্যতম অনুপ্রেরণা। ছবিতে স্থানীয় কোনিয়াক ভাষার ব্যবহার এবং পেশাদার অভিনয়ের অভিজ্ঞতা না থাকা স্থানীয় মানুষদের নির্বাচন—সবকিছুর মধ্যেই নিজের জগৎকে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে।

পরিচালক পাবলো ত্রাপেরোর নেতৃত্বাধীন বিচারকমণ্ডলী ছবিটির নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, নির্মাণের শক্তি এবং পরিচালকের সাহসের প্রশংসা করেছে।

নিজের ভাষায় গল্প বলার সাহস

থেজা রিওর সঙ্গে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন ন্যান্সি নিসা বেসো। তাঁর কথায়, স্বল্পদৈর্ঘ্য থেকে পূর্ণদৈর্ঘ্যে পৌঁছনোর দীর্ঘ পথে তাঁরা বিশ্বাস ধরে রেখেছিলেন—এই গল্প তাঁদের বলতেই হবে, নিজেদের শর্তে।

ছবিটির আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে জঙ্গল বুক স্টুডিয়ো। নির্মাতাদের আশা, এই স্বীকৃতি আরও পরিচালকের কাছে নিজের ভাষা, অভিজ্ঞতা ও সম্প্রদায়ের গল্প বলার সাহস জোগাবে।

নির্বাহী প্রযোজক গৌরব ধিংড়ার মতে, এই অর্জন শুধু একটি ছবির সাফল্য নয়; নাগাল্যান্ড, ভারত এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রচর্চার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে। তাঁর আশা, নিজেদের স্বরে গল্প বলার এই সাফল্য আরও নির্মাতাকে তাঁদের অভিজ্ঞতা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে উৎসাহিত করবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles