Table of Contents
বাজেট বাড়ছে, খরচের অঙ্ক ছাড়িয়ে যাচ্ছে নির্ধারিত সীমা—তবু থামেনি ‘ধুরন্ধর’-এর কাজ। বরং একসময়ের একক ছবি শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে দুই পর্বের মহাকাব্যিক কাহিনিতে। আর এই পুরো যাত্রায় বারবার বাড়তি খরচের অনুমোদন দিয়েছেন জিও স্টুডিওসের সিইও তথা ছবির সহ-প্রযোজক জ্যোতি দেশপান্ডে।
আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির পর একের পর এক বক্স অফিস রেকর্ড ভেঙেছে। বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি ছবিটি পরিণত হয়েছে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রে। সম্প্রতি আউটলুক বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যোতি জানিয়েছেন, ছবিটি তৈরির সময় একাধিকবার বাজেট বেড়েছে। কিন্তু পরিচালকের উপর আস্থা এবং ছবির সম্ভাবনার প্রতি বিশ্বাস থেকেই বারবার সেই বাড়তি খরচের অনুমোদন দিয়েছেন তিনি।
বাজেট বাড়ল, বদলাল ছবির পরিধিও
জ্যোতির কথায়, ‘ধুরন্ধর’ এমন একটি প্রকল্প ছিল যার বাজেট নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিকবার বেড়েছে। এমনকি একসময়ের একক ছবি শেষ পর্যন্ত দুই পর্বে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবু কাজ থামেনি।
কেন এত ঝুঁকি নিয়েও এগিয়ে গেলেন তাঁরা? জ্যোতির উত্তর একেবারেই স্পষ্ট—“আমাদের বিশ্বাস অটুট ছিল।”
তাঁর মতে, তাঁরা জানতেন, এমন একটি ছবি তৈরি করছেন যা ভারতীয় দর্শক আগে এভাবে দেখেননি। তাই প্রতিটি বাধার পর নতুন করে পথ খুঁজে নেওয়াই ছিল তাঁদের লক্ষ্য।
‘সবাই নিজেদের উজাড় করে দিয়েছিল’
এই বিশ্বাস শুধু পরিচালক বা প্রযোজকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না বলেও জানিয়েছেন জ্যোতি। তাঁর দাবি, গোটা টিমই ছবিটির জন্য নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে কাজ করেছে।
আদিত্য ধর থেকে শুরু করে রণবীর সিং—প্রত্যেকেই ছবিটির প্রতি সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত ছিলেন। রণবীরও ‘ধুরন্ধর’-এর কাজ চলাকালীন অন্য কোনও প্রকল্পে মন দেননি বলে জানান তিনি।
চিত্রগ্রাহক, সাউন্ড ডিজাইনার, সম্পাদক—ইউনিটের প্রত্যেক সদস্যই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। জ্যোতির কথায়, তাঁদের মনে হয়েছিল, এমন একটি ছবি তৈরি করছেন যার মধ্যে উদ্দেশ্য, আবেগ এবং নতুন কিছু করার তাগিদ রয়েছে।
সেই কারণেই বাজেট নিয়ে একের পর এক চ্যালেঞ্জ এলেও পিছিয়ে আসেননি তাঁরা।
‘তারকা’ নয়, দরকার ছিল অভিনেতা
বড় বাজেটের ছবি মানেই একের পর এক দামি তারকা—এই পথে হাঁটেননি নির্মাতারা। জ্যোতি জানিয়েছেন, চিত্রনাট্য চূড়ান্ত করতেই প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছিল। এই সময়ে গল্প ও স্ক্রিপ্টে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়।
কারণ তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, পর্দায় খরচ হওয়া প্রতিটি টাকার যথাযথ প্রতিফলন।
জ্যোতির মতে, ছবিটি এমনিতেই অত্যন্ত ব্যয়বহুল ছিল। তার সঙ্গে একাধিক অত্যন্ত দামি তারকাকে যুক্ত করলে প্রকল্পটি শুরু থেকেই আর্থিকভাবে অকার্যকর হয়ে যেতে পারত। তাই তথাকথিত ‘স্টার পাওয়ার’-এর বদলে তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন দক্ষ অভিনেতাদের।
প্রথম থেকেই রণবীরকে চেয়েছিলেন জ্যোতি
তবে মুখ্য চরিত্রের জন্য রণবীর সিংকে নিয়ে কোনও দ্বিধা ছিল না। জ্যোতি জানান, রণবীর সুপারস্টার হয়ে ওঠার অনেক আগেই তাঁর সঙ্গে ‘গোলিয়োঁ কি রাসলীলা রাম-লীলা’ এবং ‘বাজিরাও মস্তানি’-তে কাজ করেছেন তিনি।
আর রণবীরের অভিনয় ক্ষমতা নিয়ে তাঁর আস্থা এখনও অটুট।
জ্যোতির মতে, রণবীরের সবচেয়ে বড় শক্তি হল চরিত্রের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা। ‘বাজিরাও’ হলে তিনি বাজিরাও হয়ে ওঠেন, ‘খিলজি’ হলে খিলজি, আবার ‘গাল্লি বয়’-এ তাঁকে আলাদা করে রণবীর বলে মনে হয় না—চরিত্রটাই সামনে চলে আসে।
তাঁর কথায়, রণবীর পর্দায় নিজের ব্যক্তিত্বকে চাপিয়ে দেন না। বরং চরিত্রকেই নিজের মধ্যে এমনভাবে ধারণ করেন যে দর্শকের সামনে শেষ পর্যন্ত অভিনেতা নয়, চরিত্রটিই জীবন্ত হয়ে ওঠে।
কী আছে ‘ধুরন্ধর’-এ?
আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ দুই পর্বের একটি গুপ্তচর-কাহিনি। ছবিতে রণবীর সিংয়ের পাশাপাশি রয়েছেন অক্ষয় খান্না, সঞ্জয় দত্ত, আর. মাধবন, অর্জুন রামপাল, রাকেশ বেদি এবং সারা অর্জুন।
পাকিস্তানে কর্মরত এক ভারতীয় গুপ্তচরের জীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবির গল্প। মুক্তির পর বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি ছবিটি ঘিরে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।
আর এখন জ্যোতি দেশপান্ডের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট—‘ধুরন্ধর’-এর পিছনে শুধু বড় বাজেট নয়, ছিল বারবার ঝুঁকি নেওয়ার সাহস এবং নির্মাতাদের অটুট বিশ্বাস।