সংস্কৃতি ও বিনোদন

প্রেমিক নয়, নিজের গল্প

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • কিন্তু সেই চিঠির প্রাপক এখনও নতুন কাজের পরিকল্পনায় ব্যস্ত।
  • অক্টোবরে মেলবোর্ন ফ্রিঞ্জ উৎসবে নিজের জীবন নিয়েই মঞ্চে উঠবেন তিনি।
  • প্রযোজনার নাম ‘সিলভিয়া প্লাথ স্টোল মাই বয়ফ্রেন্ড’—‘সিলভিয়া প্লাথ আমার প্রেমিককে নিয়ে গেলেন’।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

পুরনো প্রেমের চিঠি পৌঁছে গিয়েছে সংগ্রহশালায়। কিন্তু সেই চিঠির প্রাপক এখনও নতুন কাজের পরিকল্পনায় ব্যস্ত। অস্ট্রেলিয়ার লিজ হিকলিনের বয়স ৯৫। অক্টোবরে মেলবোর্ন ফ্রিঞ্জ উৎসবে নিজের জীবন নিয়েই মঞ্চে উঠবেন তিনি। প্রযোজনার নাম ‘সিলভিয়া প্লাথ স্টোল মাই বয়ফ্রেন্ড’—‘সিলভিয়া প্লাথ আমার প্রেমিককে নিয়ে গেলেন’। নামের মধ্যে অভিযোগের সুর থাকলেও তা নিছক নাট্যরস। কোনও অপরাধের দাবি নয়। বিখ্যাত দুই কবির সম্পর্কের ছায়া সরিয়ে নিজের দীর্ঘ জীবনের গল্প বলাই এই মঞ্চায়নের আসল উদ্দেশ্য।

২১ সেপ্টেম্বর হিকলিনের মঞ্চযাত্রা নিয়ে ‘গার্ডিয়ান’-এ নতুন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ১৫ থেকে ১৮ অক্টোবর। অর্থাৎ এখনও মঞ্চে ওঠেনি। উৎসবের আনুষ্ঠানিক বিবরণ এবং ১৬ সেপ্টেম্বর ‘থিয়েটার ম্যাটার্স’-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকার থেকে প্রযোজনাটির পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা যাচ্ছে। হিকলিনের ব্যক্তিগত স্মৃতির উপর তৈরি এই নাটককে টেড হিউজ ও সিলভিয়া প্লাথের সম্পর্কের কোনও নিরপেক্ষ ইতিহাস হিসেবেও দেখানো হচ্ছে না।

তরুণ বয়সে হিকলিনের সঙ্গে কবি টেড হিউজের প্রায় ১৮ মাসের সম্পর্ক ছিল। পরে হিউজের সঙ্গে পরিচয় হয় প্লাথের। উৎসবের বিবরণ অনুযায়ী, হিউজের লেখা চিঠিগুলি এখন ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত। কিন্তু সেই পুরনো প্রেমই নাটকের একমাত্র বিষয় নয়। হিকলিন নিজেই লেখক ও অভিনেতা। তাঁর সঙ্গে জ্যাসিন্টা পারসন্স সহলেখক, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন। অভিনয় এবং নাট্যরূপ তৈরিতেও যুক্ত সারা সাদারল্যান্ড। অর্থাৎ গল্পটি ব্যক্তিগত হলেও মঞ্চে তার নতুন রূপ দেওয়ার কাজটি যৌথ।

উৎসবের প্রচারছবিতে হিকলিনের রুপোলি চুল, লাল ফ্রেমের চশমা আর লাল লিপস্টিক স্পষ্ট। বয়স লুকিয়ে রাখার কোনও চেষ্টা নেই। তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে লেখক, কবি, কৌতুকশিল্পী এবং মঞ্চশিল্পী—সব ক’টি পরিচয়ই জুড়ে রয়েছে। নব্বই পেরিয়ে সরাসরি দর্শকের সামনে কৌতুক পরিবেশন শুরু করেছেন তিনি। ২০২৩ সালে ক্লুনস বুকটাউন কবিতা-প্রতিযোগিতায় জয় এবং বিভিন্ন স্থানীয় উৎসবে অংশ নেওয়াও তাঁর সাম্প্রতিক জীবনের অংশ।

‘থিয়েটার ম্যাটার্স’-এর সাক্ষাৎকারে হিকলিন জানিয়েছেন, দর্শকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই তাঁর সবচেয়ে ভাল লাগে। মানুষকে হাসানো এবং তাঁদের উষ্ণ প্রতিক্রিয়া পাওয়া তাঁর কাছে অভিনয়ের অন্যতম আনন্দ। পারসন্সকে নিজের বড় অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এই প্রযোজনার ভাবনা থেকে লেখা পর্যন্ত কাজটিও দ্রুত এগিয়েছিল—হিকলিনের হিসাবে প্রায় দু’মাসে। অবশ্য এটি শিল্পীর নিজের দেওয়া সময়ের হিসাব, কোনও স্বাধীন নির্মাণ-নথির পরিমাপ নয়।

মঞ্চের বাইরেও জীবন তাঁর থেমে নেই। স্থানীয় এলাকায় গাড়ি চালানো, লেখালিখি, জলে শরীরচর্চা, রান্নার ক্লাস এবং লেখকদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে এডিনবরার উৎসবেও যেতে চান। তবে ইচ্ছা আর নিশ্চিত সফর এক জিনিস নয়; সেখানে অভিনয়ের চুক্তি বা ঘোষিত তারিখের প্রমাণ এখনও নেই।

নতুন প্রযোজনায় পাশাপাশি আসবে পঞ্চাশের দশকের এক তরুণী এবং সাত দশক পরে নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকানো এক নারী। প্রেমের সঙ্গে বিয়ে, মাতৃত্ব, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, বয়স এবং শোকও থাকবে সেই গল্পে। উৎসবের বিবরণে মৃত্যু, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আত্মহানির প্রসঙ্গ থাকার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। ফলে নামের চটুলতা দেখে একে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হাসির অনুষ্ঠান ভাবার সুযোগ নেই।

হিকলিনের এই কাজকে ঘিরে আরও একটি তথ্যচিত্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বয়সের সঙ্গে সমাজে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা উঠে আসবে। প্রকল্পটি এখনও নির্মীয়মাণ। আয়োজকদের তথ্যে অনুষ্ঠানস্থলে হুইলচেয়ার নিয়ে প্রবেশের সুবিধার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

বিশ্লেষণ: এই গল্পের আসল চমক প্রেমিক হারানোর নালিশে নয়, বরং নিজের গল্প বলার অধিকার ফিরে পাওয়ায়। কোনও বিখ্যাত পুরুষের জীবনের প্রান্তিক চরিত্র হিসেবে যাঁর পরিচয় কয়েকটি লাইনে সেরে ফেলা যায়, তিনি এবার নিজের মঞ্চে সেই পরিচয়ের বাইরে বেরিয়ে আসছেন। শিরোনামে হিউজ ও প্লাথ দর্শক টানতে পারেন, কিন্তু মঞ্চের কেন্দ্রে থাকবেন হিকলিন—তাঁর কণ্ঠ, স্মৃতি এবং অভিজ্ঞতা।

তাঁকে শুধু ‘এই বয়সেও পারেন’ বলে প্রশংসা করলে তাঁর কাজটির নিজস্ব গুরুত্বটাই আড়ালে পড়ে যায়। আবার তাঁর সক্রিয়তাকে সব প্রবীণ মানুষের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবেও দেখা ঠিক নয়। স্বাস্থ্য, সহায়তা ও সুযোগ সবার এক নয়। হিকলিনের গল্পের তাৎপর্য আরও নির্দিষ্ট: দীর্ঘ জীবন মানেই গল্পের শেষ নয়। কখনও কখনও এত বছর পেরিয়েই মানুষ প্রথমবার নিজের নামে মঞ্চে উঠতে পারেন।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles