অপারেশন চলছে। চারপাশে চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের ব্যস্ততা। আর সেই সময় অপারেশন টেবিলে শুয়েই মহম্মদ রফির কালজয়ী গান ‘সুহানি রাত ঢল চুকি’ গাইছেন সোনু নিগম! সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিয়ো দেখে চমকে উঠেছিলেন অনুরাগীরা। এ বার জানা গেল, গোটা ঘটনাটিই ঘটেছিল একেবারে আচমকাই—কোনও পরিকল্পনা ছিল না আগে থেকে।
‘গান বাজছিল, তাই গাইতে শুরু করি’
সোনুর অস্ত্রোপচার করছিলেন চিকিৎসক নীলেশ সাথভাই। তিনি সোনুর গানের অনুরাগী। তাই অস্ত্রোপচারের সময় পরিবেশটা স্বাভাবিক রাখতে বাজছিল সোনুরই একাধিক গান।
সোনুর কথায়, “অপারেশন থিয়েটারে গান গাওয়ার ঘটনাটা একেবারেই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ঘটেছিল। ডক্টর নীলেশ সাথভাই আমার অনুরাগী। অস্ত্রোপচারের সময় তিনি আমার গান বাজাচ্ছিলেন।”
এক সময় এমন কিছু গান বাজতে শুরু করে, যেখানে কণ্ঠস্বর ছিল না—শুধুই সুর। আর তখনই নিজের অজান্তেই গলা মেলান সোনু। তাঁর কথায়, “গান বাজছিল, কিন্তু কণ্ঠ ছিল না। তাই স্বাভাবিক ভাবেই আমি গাইতে শুরু করি।”
তার পরই অপারেশন থিয়েটারে তৈরি হয় এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য—চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করছেন, আর তাঁদেরই গান শোনাচ্ছেন রোগী!
সোনুর দাবি, চিকিৎসকেরাও মুহূর্তটি দারুণ উপভোগ করেছিলেন। তাঁরা নাকি তাঁকে জানিয়েছিলেন, এমন অভিজ্ঞতা তাঁদের আগে কখনও হয়নি—অপারেশনের সময় রোগীই চিকিৎসকদের গান শোনাচ্ছেন।
সোনুর কাছেও মুহূর্তটি ছিল বিশেষ। কারণ যে গানগুলি তিনি গাইছিলেন, সেগুলি তাঁর নিজেরও অত্যন্ত প্রিয়।
কী হয়েছিল সোনুর হাতে?
অস্ত্রোপচারের কারণও জানিয়েছেন সোনু। তাঁর বাঁ হাতের অনামিকায় বারবার একটি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা দিচ্ছে। চার মাস আগেও অস্ত্রোপচার করে সেটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছু দিন পর একই জায়গায় ফের সেটি দেখা দেয়।
সোনুর ধারণা, হাড়ের কোনও আর্থ্রাইটিস-সংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে এর যোগ থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। চিকিৎসকেরাও আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
সোনুর কথায়, “কিছু দিন ধরেই এটা হচ্ছে। চার মাস আগে অস্ত্রোপচার করে বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আবার ফিরে এসেছে। সম্ভবত আমার হাড়ের কোনও আর্থ্রাইটিসের সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।”
তাই এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়—কিছুটা সময় নিয়ে পরিস্থিতি দেখার পথেই হাঁটছেন চিকিৎসকেরা।
‘সুহানি রাত’ই শেষ নয়
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় ‘সুহানি রাত ঢল চুকি’ গানটি শোনা গেলেও, সেটিই একমাত্র গান ছিল না। অস্ত্রোপচারের সময় আরও দু’-তিনটি গান গেয়েছিলেন সোনু।
তিনি জানিয়েছেন, “আমি কয়েকটি গান গেয়েছিলাম। ভিডিয়োয় যেটা দেখা যাচ্ছে, সেটা তার মধ্যে একটি। দু’-তিনটি গান গেয়েছিলাম। মুহূর্তটা খুবই আন্তরিক হয়ে উঠেছিল। চিকিৎসকেরা সকলেই খুব খুশি হয়েছিলেন।”
বরং সোনুই চিকিৎসকদের বলেছিলেন, চাইলে তাঁরা এই অদ্ভুত সুন্দর মুহূর্তটি স্মৃতি হিসেবে রেকর্ড করে রাখতে পারেন। চিকিৎসকেরাই পরে ভিডিয়োটি রেকর্ড করে সোনুকে পাঠান। তার পর সেটি প্রকাশ্যে আসে।
অপারেশনের পরও মঞ্চে সোনু
অস্ত্রোপচার হয়েছে, কিন্তু কাজ থামেনি। বরং অস্ত্রোপচারের পরই নিজের পেশাগত ব্যস্ততায় ফিরে গিয়েছেন সোনু।
তিনি জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পরেই তাঁর নতুন গান ‘চুন্নি’-র প্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পরের দিনও গান গেয়েছেন। অর্থাৎ শারীরিক সমস্যার মধ্যেও কাজের গতি কমানোর কোনও ইচ্ছা নেই তাঁর।
রফি কেন এতটা প্রিয় সোনুর?
মহম্মদ রফির গান সোনুর সঙ্গীতজীবনে বরাবরই বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। রফির গায়কির প্রভাব তাঁর উপর কতটা গভীর, তা সোনু বহু বার জানিয়েছেন। এমনকি রফিকে নিজের ‘গুরু’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
ছোটবেলা থেকেই রফির গান শুনে বড় হয়েছেন সোনু। তাই অস্ত্রোপচারের মতো অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতিতে যখন সুর ভেসে এল, তখনও তাঁর কণ্ঠে অনায়াসে উঠে এল রফির অমর গান—‘সুহানি রাত ঢল চুকি’।
কোনও মহড়া ছিল না, কোনও ক্যামেরার জন্য প্রস্তুতিও নয়। সুর বাজল, আর স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই গলা মেলালেন সোনু।