হাইলাইটস:

  • বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের বিরুদ্ধে দুটি থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন দোলা সেন।
  • অভিযোগে পরিচয় জালিয়াতি, নথি জাল, প্রতারণা এবং ভুয়ো নথি ও বৈদ্যুতিন বার্তা প্রচারের কথা উল্লেখ।
  • দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া বৈঠক করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
  • বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তারাই ‘আসল তৃণমূল’, তাই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।

বাংলাস্ফিয়ার: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার নিল। দলের সাংসদ দোলা সেন বিদ্রোহী শিবিরের বিরুদ্ধে পরিচয় জালিয়াতি, নথি জাল, প্রতারণা এবং দলীয় পরিচয় বেআইনিভাবে ব্যবহারের অভিযোগে কলকাতার প্রগতি ময়দান ও নিউ টাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে অবিলম্বে এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরুর আবেদন জানানো হয়েছে।

দোলা সেনের অভিযোগ, বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরছে এবং দলীয় নাম, প্রতীক ও পরিচয় ব্যবহার করে বৈঠক করছে। পাশাপাশি ভুয়ো নথি ও বৈদ্যুতিন যোগাযোগের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব কর্মকাণ্ড ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের মধ্যে পড়ে।

এই অভিযোগ এমন সময় সামনে এল, যখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির কলকাতার প্রাক্তন পুর প্রতিনিধিদের নিয়ে ফের বৈঠক করেছে। বৈঠকে আসন্ন কলকাতা পুরভোটের প্রস্তুতি, সংগঠন পুনর্গঠন এবং কর্মীদের আইনি সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সভাস্থলেও তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীক ও দলের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল না।

অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধির সমর্থন তাদের সঙ্গেই রয়েছে এবং তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে দলীয় পরিচয় ব্যবহারে কোনও বেআইনি কাজ হয়নি। শীঘ্রই নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে বলে তারা জানিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অভিযোগ শুধুমাত্র আইনি লড়াই নয়, তৃণমূলের প্রকৃত সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে সংঘাতকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এল। বিদ্রোহী শিবির যদি দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহারের দাবি অব্যাহত রাখে, তবে বিষয়টি ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশন ও আদালতের দোরগোড়াতেও পৌঁছতে পারে। আপাতত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।