বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে উন্মাদনার মধ্যেই বড় ধাক্কা খেল এশিয়ার শেয়ারবাজার। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজার থেকে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বাজারমূল্য উধাও হয়ে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের নেপথ্যে রয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট Apple-এর মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা এবং AI খাতের অতিমূল্যায়ন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের বাড়তে থাকা উদ্বেগ।
সম্প্রতি Apple জানায়, মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের দাম বেড়ে যাওয়ায় MacBook, iPad-সহ একাধিক পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। AI-চালিত ডেটা সেন্টারের বিপুল চাহিদার কারণে চিপের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Apple-এর এই ঘোষণার পরই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—যদি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থাকেও উৎপাদন ব্যয় সামলাতে পণ্যের দাম বাড়াতে হয়, তাহলে AI-নির্ভর প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর বর্তমান মূল্যায়ন কি বাস্তবসম্মত? এই আশঙ্কা থেকেই প্রযুক্তি শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়।
সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খায় দক্ষিণ কোরিয়ার KOSPI সূচক, যা প্রায় ৮.২ শতাংশ পড়ে যায়। জাপানের Nikkei 225 সূচক ৪.৫ শতাংশ এবং তাইওয়ানের শেয়ারবাজার প্রায় ৩ শতাংশ নেমে আসে। অন্যদিকে, চীনের Shanghai Composite সূচকও ২ শতাংশের বেশি পতন রেকর্ড করে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুমাত্র Apple-এর ঘোষণার প্রভাব নয়। AI খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ, সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর উচ্চ মূল্যায়ন, বাড়তি চিপের দাম এবং ভবিষ্যৎ মুনাফা নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়েই বাজারে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই পতন AI খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতিবাচক বার্তা নয়। বরং বিনিয়োগকারীরা এখন জানতে চাইছেন, AI-তে বিপুল বিনিয়োগের প্রকৃত আর্থিক ফল কতটা দ্রুত আসবে এবং বাড়তে থাকা উৎপাদন ব্যয়ের প্রভাব প্রযুক্তি সংস্থাগুলো কীভাবে সামাল দেবে। আগামী কয়েকটি ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফলাফলই এই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই স্পষ্ট করবে।