Home খবর প্রথম বিশ্বযুদ্ধকেও ছাড়িয়ে গেল ইউক্রেন যুদ্ধ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধকেও ছাড়িয়ে গেল ইউক্রেন যুদ্ধ

0 comments 7 views 3 minutes read
A+A-
Reset

১,৫৬৯ দিনের রক্তক্ষয়: শেষ কোথায়, প্রশ্ন গোটা বিশ্বের

হাইলাইটস:

  • ইউক্রেন যুদ্ধের মেয়াদ এখন ১,৫৬৯ দিন, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ১,৫৬৬ দিনের সময়কালকেও ছাড়িয়ে গেছে।
  • ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মাধ্যমে যুদ্ধের সূচনা।
  • লক্ষাধিক সেনা ও অসংখ্য সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, কোটি মানুষ ঘরছাড়া।
  • যুদ্ধ শুধু ইউরোপ নয়, খাদ্য, জ্বালানি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।
  • শান্তি আলোচনার নানা চেষ্টা হলেও এখনও স্থায়ী সমাধানের কোনও ইঙ্গিত নেই।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আধুনিক বিশ্বের জন্য এক অস্বস্তিকর মাইলফলক। যুদ্ধের মেয়াদ এখন ১,৫৬৯ দিন। অর্থাৎ ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত সময়ের বিচারে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত চলা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল ১,৫৬৬ দিন। একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর যুগে দাঁড়িয়ে ইউরোপের মাটিতে এমন দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের নজির কার্যত বিরল।

রুশ প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin যখন ইউক্রেনে “বিশেষ সামরিক অভিযান” ঘোষণা করেছিলেন, তখন মস্কোর অনেক কৌশলবিদই মনে করেছিলেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কিয়েভ সরকার ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক উল্টো। ইউক্রেনের প্রতিরোধ, পশ্চিমা দেশগুলির বিপুল সামরিক ও আর্থিক সহায়তা এবং রাশিয়ার প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন যুদ্ধক্ষেত্র এই সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলেছে।

এই ১,৫৬৯ দিনে যুদ্ধের চরিত্রও বহুবার বদলেছে। শুরুতে ছিল দ্রুত অগ্রগতির চেষ্টা, তারপর পরিণত হয়েছে পরিখা যুদ্ধ, ড্রোন যুদ্ধ এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এক দীর্ঘ অধ্যায়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপে এত বড় আকারে ড্রোন, স্যাটেলাইট নজরদারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর যুদ্ধ কৌশল আগে দেখা যায়নি।

মানবিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব আরও ভয়াবহ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার অনুমান অনুযায়ী, উভয় পক্ষ মিলিয়ে কয়েক লক্ষ সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। হাজার হাজার সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। কোটি কোটি ইউক্রেনীয় নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়েছেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এখনও লক্ষ লক্ষ শরণার্থী বসবাস করছেন।

এই যুদ্ধের অভিঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউক্রেন ও রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শস্য রপ্তানিকারক দেশ। যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার বহু দেশ খাদ্য নিরাপত্তার সংকটে পড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির বাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি বিশ্বের বহু অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে।

পশ্চিমা বিশ্বের জন্যও এই যুদ্ধ একটি কঠিন পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলি ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে চলেছে। অন্যদিকে রাশিয়া ক্রমশ যুদ্ধ অর্থনীতির দিকে ঝুঁকেছে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ফলে সংঘাতটি এখন অনেকাংশে রাশিয়া বনাম পশ্চিমা জোটের এক দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy বারবার বলেছেন যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের সামনে বিকল্প নেই। অন্যদিকে পুতিন প্রশাসনও দখলকৃত অঞ্চলগুলি ছাড়ার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে উভয় পক্ষের অবস্থান এখনও পরস্পর থেকে অনেক দূরে।

শান্তি আলোচনার উদ্যোগ একাধিকবার নেওয়া হয়েছে। তুরস্ক, চীন, ভ্যাটিকান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী সংঘাত নিরসনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে সামান্য সাফল্য পেলেই উভয় পক্ষের রাজনৈতিক অবস্থান আরও কঠোর হয়ে পড়েছে। ফলে আলোচনার টেবিলে অগ্রগতি হয়নি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হতে চার বছর লেগেছিল। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ ইতিমধ্যেই সেই সময়সীমা অতিক্রম করেছে। তবুও শেষের কোনও স্পষ্ট লক্ষণ নেই। বরং সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সংঘর্ষ আরও বেড়েছে।

১,৫৬৯ দিনের এই যুদ্ধ তাই শুধু একটি সামরিক সংঘাত নয়; এটি একবিংশ শতাব্দীর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, কূটনীতির ব্যর্থতা এবং শক্তির রাজনীতির নির্মম বাস্তবতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন এখন একটাই—প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কালকে ছাড়িয়ে যাওয়া এই সংঘাত কি শিগগিরই শেষ হবে, নাকি ইতিহাসে আরও দীর্ঘ ও আরও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করবে?

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles